গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বন বিভাগের ২টি রেঞ্জের ৬ হাজার একর জমি বেদখলের খবর পাওয়া গেছে। জমি দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিল্প কারখানার মালিক ও অতিদরিদ্র লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।কালিয়াকৈর রেঞ্জ সূত্র জানায়, কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় বোয়ালী, বাড়ইপাড়া, মৌচাক, রঘুনাথপুর, চন্দ্রা ও গোবিন্দপুর নামের ৭টি বিট ও ভান্নারা এবং গোবিন্দপুর নামের ২টি সাব বিট অফিস রয়েছে। জেলার কালিয়াকৈর ও কাচিকাটা রেঞ্জের সাড়ে ২২ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। তার মধ্যে ৬ হাজার একরেরও বেশি বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। কালিয়াকৈরের কাচিকাটা রেঞ্জে কাচিঘাটা সদর, জাথালিয়া ও খৈলশাজানি নামের আরো ৩টি বিট অফিস রয়েছে। কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় সিএস গেজেটভুক্ত মোট বনভূমির পরিমাণ ১২ হাজার ৭৯৫ দশমিক ১৯ একর। ওই দুই রেঞ্জের অবৈধভাবে দখলকৃত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭২০ দশমিক ৬৬ একর। এছাড়া কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতায় ৯টি মৌজায় মোট বনভূমি পরিমাণ ৯ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৩৫ একর। সেখানে ভূমি বেদখল হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৫৮ দশমিক ৭৭ একর। এসব জমিতে দখলদাররা ঘরসহ কয়েক হাজার স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
গত শনিবার কালিয়াকৈর রেঞ্জের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তার মধ্যে কালামপুর এলাকার পুরনো সিনেমা হল সংলগ্ন বনের জমিতে বহুতল একটি ভবনের কাজ করছেন সিরাজ উদ্দিন নামের এক লোক। তবে ভবনের মালিক সিরাজ উদ্দিন জানান, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে চন্দ্র বিট কর্মকর্তাসহ অন্যদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এখানে বহুতল ভবনের কাজ করছি। অপর দিকে হরতুকিতলা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাবুল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি ২০ হাত লম্বা একটি চার চালা ঘর তুলে ভিটি পাকাকরণ কাজ করছেন। এ সময় ৭-৮ জন রাজমিস্ত্রিকে কাজ করতে দেখা গেছে। পাশের আব্দুল মান্নান নামের আরেক ব্যক্তি টিনের বেড়া দিয়ে ১৪-১৫ হাত লম্বা একটি ঘর তোলে টিনের ছাউনি দিচ্ছেন। চন্দ্রার কালামপুর এলাকায় শিল্পকুঞ্জ পার্কের সামনে ৪ তলাবিশিষ্ট আরেকটি ভবনের কাজ করছে রাজমিস্ত্রিরা।
পূর্ব চান্দরা এলাকার শহিদুল আলম জানান, কালিয়াকৈর রেঞ্জ ও কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতায় বন বিভাগের জমি দখল করা হয় একশ্রেণীর দালালের মাধ্যমে। ওই দালালরা বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোটা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে জমি দখল করতে সহায়তা করে। চন্দ্রা এলাকায় ওয়ালটন কারখানার সামনের সড়কের পূর্ব পাশে বহু লোকের কাছ থেকে বন কর্মকর্তারা ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে ঘর তৈরি করতে সহায়তা করেছেন। শুধু ওই এলাকা ছাড়াও তারা চন্দ্রা, কালামপুর, ডাইনকিনি, পূর্বচন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), খাড়াজোড়া, বাড়ইপাড়া, সফিপুর, রাখালিয়াচালা, মাঝুখান, মৌচাক সদরচালা, রঘুনাথপুর, পূর্ব মৌচাক, লস্করচালা, মাদবপুর এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন। উপজেলার রাখালিয়াচালা গ্রামের এরশাদ আলী জানান, মৌচাক বিট অফিসের কর্মকর্তা বজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে সরকারি বন উজাড় করে গড়ে উঠেছে শত শত বসতবাড়ি। জমি দখল করে ঘর-বাড়ি নির্মাণের পর আবার বিট অফিসের কর্মকর্তারা দখলকারী লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপনে মোটা অঙ্কের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে তার ঘর ভেঙে ফেলার হুমকিসহ মামলা দেয়ার ভয়ভীতিও দেখানো হয়।
এ ব্যাপারে চন্দ্রা বন বিটের কর্মকর্তা মুরাদ মিয়া বলেন, বন বিভাগের জমি দখলের খবর পাওয়ায় আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাই।
কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস সান্যাল জানান, রেঞ্জ অফিসের চার্জ বুঝিয়ে দেয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছি। তবে বিট কর্মকর্তা মুরাদকে দিয়ে বনের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করানোর ব্যবস্থা করছি।
গাজীপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন সহকারী বন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বনের জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
খবর বিভাগঃ
অপরাধ ফিচার
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন