রবিবার, জুন ০৪, ২০১৭

কালিয়াকৈরে ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রীর ভাতিজার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সভা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা একটি শিল্প এলাকা। এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার ঝুট ব্যবসা। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত কালিয়াকৈরে কয়েকটি খুনের ঘটনাসহ অসংখ্য হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঝুট ব্যবসা ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গত ৫ বছরে অধিকাংশ ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা ঐ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন।

এবার দশম সংসদ নির্বাচনের পর কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের ভাতিজা মো. মুরাদ কবিরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপ ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য গত রোববার আওয়ামী লীগের উদ্যোগে উপজেলার ঠেঙ্গারবান্দ এলাকায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপির অপর ভাতিজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নাছিম কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রীর ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রীর ভাগিনা মো. আতাউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট দেওয়ান মো. ইব্রাহিম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঝুট ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝুট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও ঝুট ব্যবসায়ী মো. হিরু মিয়া, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ও ঝুট ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম তুষার, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম প্রমুখ। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মন্ত্রীর ভাতিজা মো. নাছিম কবিরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে অত্র এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপির কাছে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলী বলেন, ঝুট ব্যবসায় আমাদের কিছু নেতা বাদ পড়ায় সকলকে নিয়ে ব্যবসা করার জন্য আলোচনা হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিবেন বলে আমরা একমত হয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আ. রশিদ জানান, দীর্ঘ দিন ধরে একটি চক্র ঝুট ব্যবসা চালিয়ে ফায়দা লুটছে। অন্য কেউ ঐ ব্যবসায় গেলে যাতে মারামারি কাটাকাটি না হয় এবং দলের লোকেরা যেন জুট ব্যবসায় সমান সুযোগ পায় সে জন্য ঐ সভায় খোলামেলা আলোচনা হয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি মো. নাছিম কবির ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সভা আহ্বানের কথা স্বীকার করে বলেন, জুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রীর সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) থেকে মু. শহিদুল ইসলাম 
ঢাকা, শুক্রবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২৫ মাঘ ১৪২০, ৬ রবিউস সানি ১৪৩৫
http://www.djanata.com/index.php?ref=MjBfMDJfMDdfMTRfMV8xN18xXzU2MDkx
 

শেয়ার করুন