বৃহস্পতিবার, জুন ১৫, ২০১৭

কালিয়াকৈরে বনের ৩০ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করলেন উপজেলা প্রশাসন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় বনের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। সোমবার সকালে ওই জমি উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বনের ৬ দশমিক ৪০ একর জমি উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া জমির বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।খবর বাপসনিঊজ: 

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের বাসিন্দা  জসিম উদ্দিন ওরফে ইকবাল গত ১০-১২ বছর আগে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা জোড়া পাম্প এলাকায় বসবাস শুরু করে স্থানীয় একটি জুতা তৈরি কারখানায় কাজ করতো। সে তার প্রভাব খাটিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রজন্ম লীগের সভাপতি পদ নেয়। পরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং বন বিভাগের চন্দ্রা রেঞ্জের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে জসিম উদ্দিন ওরফে ইকবাল উপজেলার চন্দ্রা জোড়াপাম্প এলাকার বনের জমি দখল করতে থাকে। গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে বনের জমিতে বসত-বাড়ি, গরুর খামার, হাঁস-মুরগীর খামার, একটি জুটের গোডাউন তৈরি করেন। তার অনুসারীরাও সেখানে কয়েকটি বসত ঘর নির্মাণ করেছেন। এতে বন বিভাগের প্রায় ৬ দশমিক ৪০ একর জমি দখল হয়। ওই ঘটনা জানাজানি হলে দখলকৃত জমি উদ্ধার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন বন বিভাগ। পরে বনের জমি দখলের দায়ে বনবিভাগ বাদী হয়ে জসিমের বিরোদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো একটি মামলাও গ্রোপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে সোমবার সকাল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বনের জমি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। দিনব্যাপি অভিযান চালিয়ে একটি জুটের গোডাউন, চারটি বসত-ঘর, একটি গরুর খামার, একটি হাঁস-মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া ওই জমিতে থাকা গ্যাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৬ দশমিক ৪০ একর বনের জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ। 
ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল কবীর, ঢাকা বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক আব্দুস সালেক প্রধান, কালিয়াকৈর থানার ওসি ওমর ফারুক, তিতাস গ্যাস কর্মকর্তা, বনবিভাগের লোকজন ও পুলিশ প্রশাসন। 
তবে এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সভাপতি জমিস উদ্দিন ইকবালের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সাইফুল কবীর বলেন, সরকারি নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব বন দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। 
বিভাগীয় সহকারি বন সংরক্ষক মোঃ আব্দুস ছালেক প্রধান বলেন, উদ্ধারকৃত এই জমিতে নতুন করে সামাজিক বনায়ন করা হবে। যাতে আর দখল না হতে পারে। তবে এসব দখলদারদের সঙ্গে বনের লোকজন জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন