গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চন্দ্রা ও জাথালিয়া বন অফিসে চলছে বনের জমি দখল ও বিক্রির হিরিক। বন অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রহরীদের যোগসাজশে স্থানীয় দালালরা এসব করছেন। এতে গরীব অসহায় মানুষ বিপদে পড়ছেন। এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বাশাকৈর সিন্দুকচালা এলাকার আমীর আলী প্রায় ৫ বিঘা বনের জমি দখল করেন। পরে তিনি জীবিত থাকতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মজিরন বেগম এবং প্রথম স্ত্রীর ছেলে-মেয়ে ও তার মধ্যে ভাগ করে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি মজিরন বেগমকে দেয়া জমির প্রায় ১ বিঘা জমি ও ১টি বাড়িসহ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় জোরপূর্বক বিক্রি করেন তার সৎ ছেলে আব্দুল কাদের। স্থানীয় দালাল আনতু মিয়ার সহযোগিতায় ওই জমি কিনেন পাশের বাশাকৈর এলাকার জুলহাস মিয়া। বিষয়টি জাথালিয়া বিট অফিসে জানানো হলে বন প্রহরী হাবিবুর রহমান সেখানে যান এবং মোটা অংকের টাকা নিয়ে চলে যায়। এতে কোন কাজ না হলে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন মজিরন বেগম। পরে পুলিশ গিয়ে বনের জমি বিক্রিতে বাধা দেয় এবং ওই ঘরে তালাবদ্ধ করে। কিন্তু (গত ১৫ ডিসেম্বর) ৮ দিন আগে আব্দুল কাদের ও দালাল আনতু মিয়ার সহযোগিতায় ঘরের তালা ভেঙে ওই জমি দখল করে জুলহাস। অপরদিকে বাশাকৈর এলাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন বনের ৫ শতাংস জমি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এসব বনের জমি দখলে সহযোগিতায় শুধু দালাল আনতু মিয়া নয়, ওই এলাকার প্রভাবশালী দালাল মনোয়ারা বেগম, হেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকেই বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তার পকেটের লোক বলেও জানান তারা। তবে মনোয়ারা বেগম বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এব্যাপারে ওই ইউপি সদস্য বলেন, আমি নয়, অন্য কেউ ওই জমি বিক্রি করেছে। এসব কোন দালালদের চিনেন না বলে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন, শত শত লোকে জমি বিক্রি করেন। খবর পেয়ে আমরা গেলে তারা বলেন জমি বিক্রি করিনি। তাহলে আমরা কি করতে পারি?
অপরদিকে উপজেলার কালামপুর এলাকার নিরীহ কফিল উদ্দিন (৬০) বহু বছর ধরে চন্দ্রা বিট অফিসের আওতায় ওই এলাকার ৩০ শতাংশ বনের জমি ভোগ করে আসছিলেন। তিনি চলতি বছর সেখানে ধান চাষ করে। কিন্তু স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কাশেম সেই ধান জোরপূরক কেটে নেয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই কাউন্সিলর সেখান থেকে ৫ সতাংশ জমি দেড়লাখ টাকায় বিক্রি করেন স্থানীয় রিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে। এ রকম বনের জমি বিক্রি শুধু সিন্দুকচালা ও কালামপুর এলাকায়ই নয়, কালিয়াকৈর চন্দ্রা ও কাচিঘাটা রেঞ্জের কাচিঘাটা, মৌচাক, কাশিমপুর, বাড়ইপাড়া, বোয়ালী, খলিশাজানি, গোবিন্দাপুর বিট অফিসের বিভিন্ন গ্রামেও রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। এছাড়া বনের জমিতে শত শত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ডোবা ভরাট করে বরাদ্দ, এক সুবিধা ভোগীর প্লট অন্য নামে, রাতের আঁধারে গজারি কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। এসবের মাধ্যমে দালালচক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওই টাকার ভাগ যাচ্ছে বন কর্মকর্তাদের পকেটেও। বন বিভাগের সহকারী বনরক্ষক আব্দুস সালেক প্রধান বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এসব অভিযোগের সঙ্গে বনের লোকজন জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দালালদের বিরুদ্ধেও বন আইনে মামলা করা হবে।
খবর বিভাগঃ
অপরাধ ফিচার

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন