বৃহস্পতিবার, মার্চ ১০, ২০১৬

জেনে নিন, আমেরিকার পড়ালেখা vs বাংলাদেশের পড়ালেখা

আমেরিকায় পড়ালেখা করার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হলো এখানে কোন ধরণের Written Test দিতে হয় না…. সেটা ক্লাস টেস্ট হোক আর ফাইনাল টেস্ট হোক। সব প্রশ্ন MCQ…. উত্তর দিতে হবে OMR ফর্মে। আমেরিকানরা এই নিয়ম করেছে, যাতে আনসার পেপারটা কোন স্যার বা ম্যাডামকে দিয়ে মূল্যায়ন করাতে না হয়…. কারণ একেকজন মানুষের মেন্টালিটি একেক রকম। যে প্রশ্নের উত্তর একজন শিক্ষকের কাছে অসাধারণ, সেটা অন্য একজন শিক্ষকের কাছে যাচ্ছেতাই মনে হতে পারে…. এজন্য’ই এই ব্যবস্থা।
usa-itworld.com.bd-
পরীক্ষা শেষে আনসার শীট ফেরত দেয়ার সময় শিক্ষক সাইলেন্টলি এসে ছাত্র-ছাত্রীদের বেঞ্চে উল্টো করে রেখে যান… যাতে নাম্বারটা অন্য কেউ দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা বিব্রত না হয়।
সমস্যাটা হয়েছে বাংলাদেশে…. এস.এস.সি-এইচ.এস.সি. পরীক্ষার পর শিক্ষাবোর্ডগুলো স্যার-ম্যাডামদের ডেকে একগাদা খাতা ধরিয়ে দেন। স্যার-ম্যাডামরা দুই-বগলে খাতা চেপে ঘরে রওনা হন।
স্যার খাতা কাটার মাঝখানে হয়তো নাকের লোম কাটতে গিয়ে নাক কেটে ফেলেছেন। অথবা স্ত্রীকে বলেছেন পিঠ চুলকে দিতে…. স্ত্রী পিঠ চুলকাতে গিয়ে নখ দিয়ে পিঠের চামড়া উঠিয়ে ফেলেছেন। তখন স্যারের মেজাজটা বিগড়ে গেলো…. যে ছেলেটা বা মেয়েটা ইজিলি ৯০ আপ পেতো, সে পেলো ৬৫।
একই ভাবে কোন ম্যাডাম হয়তো কচুরলতি রান্না করেছেন… সেই কচুরলতি খেয়ে স্বামীর গলা অধিক চুলকানোর কারণে বকা খেয়ে তাঁর মেজাজ উড়ে গেলো…. তিনি এ প্লাস পাওয়ার ছাত্রকে ২৯ দিয়ে ফেল করিয়ে দিলেন।
১০ বা ১৫ দিনের মাথায় এতো গুলো খাতা কাটার চাপ… তাঁর উপরে স্কুল-কলেজের ক্লাস নেয়ার চাপ, প্রাইভেট পড়ানোর চাপ… এতো সব চাপে পিষ্ট হতে থকে স্টুডেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ। এভাবেই চলে আসছে… চলবে।
চলতে থাকবে এস.এস.সি-এইচ.এস.সি. নামের নাটকগুলোও।
মূল লেখক : ফ্র্যাঙ্ক অ্যাভিগন্যাল

শেয়ার করুন