শুক্রবার, জুন ০৯, ২০১৭

মাননীয় দেশনেত্রী, কোরবানীর আগেই ফাঁসি দেবেন? - সিরাজী এম আর মোস্তাক

ইসলাম ধর্মে পবিত্র জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ তথা কোরবানীর আগে সকল প্রকার হত্যা বা প্রাণবধ নিষেধ। এসময় লাখ লাখ হাজী পবিত্র কাবাঘর প্রদক্ষিণ করতে সৌদি আরবে গেছেন। তাদের ক্ষেত্রে হত্যা তো দূরের কথা, সামান্য পাপকাজ বা ঝগড়াও নিষেধ। আমাদের মাননীয় দেশনেত্রী শেখ হাসিনা বহুবার হজ্ব ও ওমরাহ পালন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে খুব ভালো জানেন। দেশের লাখ লাখ মুসলমান এসময় চুল, নখ কাটা থেকেও বিরত থাকেন। তারা আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সাথে একাত্ম হন। এমতাবস্থায় কোরবানীর আগে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা কতোটা অমানবিক ও ধর্মীয় অবমাননার শামিল, তা বিবেচনার বিষয়।শত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মীর কাশিম আলীর ফাঁসি কার্যকরে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আদালতে রিভিউ খারিজের সঙ্গে সঙ্গে তা জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশে বিচারবিভাগের ইতিহাসে অন্য কোনো মামলায় এতো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। বিচারবিভাগের গাফলতির দরুন বর্তমানে লক্ষ লক্ষ মামলা বছরের পর বছর আটকে আছে। তাতে সামান্য অগ্রগতি নেই। এছাড়া মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহোদয় দেশে নেই। এরপরও প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে নাটক হচ্ছে। যেন ১৬৪ ধারায় রিমান্ডের ন্যায় আসামীকে বারবার জেরা করা হচ্ছে। আসামী সুস্পষ্টভাবে তার শেষ ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন যে, মামলায় নিযুক্ত আইনজীবী স্বীয় হারানো পুত্রের সাথে কথা বলে তিনি প্রাণভিক্ষার বিষয় চুড়ান্ত করবেন। এতে অস্পষ্টতা বা লুকোচুরির কিছু নেই। এরপরও আসামীকে তিনবারেরও বেশি উত্যক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন এখন গায়ের জোরে বলছে, আসামী প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না। বিষয়টি কতোটা অমানবিক, তা বিবেচনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি।
মানুষ মরণশীল। কেউই চিরকাল বাঁচে না। আদালত এ ব্যাপারে খুবই সংবেদনশী। বিচারপতিরা ফাঁসির আদেশ লেখার পরপরই কলমের নিভ খুলে ফেলেন। অর্থাৎ আদালত কখনোই হত্যার পক্ষে নয়, বরং সর্বদাই বিপক্ষে। এরপরও মীর কাশেম আলীর ফাঁসি নিয়ে এতো বাড়াবড়ি কেন?
মাননীয় দেশনেত্রী গত ঈদুল ফিতরে দীর্ঘ অবকাশ প্রদানে ০৪ জুলাই ছুটি ঘোষণা করে দেশবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোরবানীর আগে ফাঁসি কার্যকর করা, তার নীতিতে কখনো দেখিনি। এখন কোরবানীর আগ-মুহুর্তে যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর ফাঁসি নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করছি। এটি কার্যকর হলে লাখ লাখ মুসলিম জনতা যেমন আঘাত পাবেন তেমনি দেশনেত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধও হবেন। তাই বিষয়টি বিবেচনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে সশ্রদ্ধ আবেদন করছি।    
এ্যাডভোকেট, ঢাকা।


শেয়ার করুন