আমরা বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা নীতি থেকে বিচ্ছিন্ন। আমরা মাত্র দুই লাখ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছি। তাদেরকে ভাতা প্রদানসহ তাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদেরও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সম্মান করছি। আমাদের ধারণা, শুধু তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরাই মুক্তিযোদ্ধা। তারাই দেশ স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, সেনাপ্রধান এম.এ.জি ওসমানী, লাখো শহীদ, বন্দি, আত্মত্যাগী, শরণার্থী ও যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারী কোটি কোটি কষ্টভোগী সংগ্রামী বীরেরা মুক্তিযোদ্ধা নন। তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত নয়। অথচ তারাই আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন।
আমাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় বঙ্গবন্ধুর নাম নেই। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর সন্তানেরা মুক্তিযোদ্ধা কোটাভুক্ত নয়। জাতীয় চারনেতার সন্তানেরাও মুক্তিযোদ্ধা কোটাভুক্ত নয়। ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনও মুক্তিযোদ্ধা নয়। তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত নয়। তারা শুধু মুখে মুখেই। যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারি কোটি জনতার ভূমিকা ও কর্মকান্ড নিয়ে নতুনকরে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই চলছে। বলা হচ্ছে, তারা পাকবাহিনী থেকে রক্ষায় কেউ লড়াই করেছে আর বেশিরভাগ রাজাকারি করেছে। তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা নয়। লাখ লাখ শরণার্থী ও বঙ্গবন্ধুর ন্যায় আটক ব্যক্তিরাও মুক্তিযোদ্ধা নয়। ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের অসংখ্য লড়াকু বীরও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত নয়। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা শুধু দুই লাখ নির্ধারিত।
বিএনপি-জামাতের লুটপাটকারি সরকার ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে। তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা নিয়ে ব্যাপক বাড়াবাড়ি করে। দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা মারাত্মক বিভাজন সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা নীতি ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সম্মিলিত জনতা তাদের বিতাড়ন করে। বর্তমান সরকারও একইভাবে ত্রিশভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটানীতি শতভাগ বাস্তবায়ন করেছে। ষোলকোটি নাগরিককে বঞ্চিত করে মাত্র দুই লাখ তালিকাভুক্ত পরিবারকে ত্রিশভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা দিয়েছে। এটি অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা নীতি বিরূদ্ধ। এখন বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা নীতি বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। এতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীরা বিশাল স্বার্থ হারাবে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বেড়ে ত্রিশ লাখ থেকে অনেক বেশী হবে। দেশের সকল নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা বাতিল হবে।
আজ বঙ্গবন্ধু থাকলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এসমস্ত অনাকাঙ্খিত বিভাজন হতোনা। লাখো শহীদ তালিকা-বহির্ভূত থাকতোনা। মাত্র দুই লাখ পরিবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সুবিধা পেত না। বর্তমান ষোল কোটি নাগরিক সবাই মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য বিবেচিত হতো।
শিক্ষানবিস আইনজীবি, ঢাকা।
mrmostak786@gmail.com.
খবর বিভাগঃ
সম্পাদকীয়
সিরাজী এম.আর মোস্তাক এর লেখা
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন