শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৩

অপপ্রচার বুমেরাং

কী বিস্ময়কর ব্যাপার, সরকার বলে থাকে তাদের উন্নয়নের কোন কিছুই নাকি বিরোধী দল দেখতে পায় না, সেজন্য বিরোধী দল অপপ্রচার চালায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপি এটা  কী দেখালো? সরকার নিজেই তার নিজের ঢাকঢোল পেটানোর জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লোক ভাড়া করে তাদের প্রচার প্রপাগান্ডা যে চালায় তার সব জারিজুরি  ফাঁস হয়ে গেছে। এএফপির ফ্যাক্ট চেকিং টিম দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকার তাদের উন্নয়নের ফিরিস্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তত সাতশত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে লিখিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে এসব লেখকের কোন অস্তিত্ব নেই। 

আওয়ামী লীগ যে মিথ্যাচারের ওস্তাদ তার আরেকটা প্রমাণ মিলল এএফপির এই প্রতিবেদনে। 

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩,  গণভবনে দখলদার শেখ হাসিনা একটি অনুষ্ঠানে বলেন, জাতির অগ্রগতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, সব জয়গায় কিছু স্বার্থান্বেষী লোক আছে, যারা কিছু সমস্যা তৈরি করতে চায়। দেশ-বিদেশে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, এমন সব মানুষের বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
 
শেখ হাসিনা নিজে অপকর্ম করে সেটার দায় চাপিয়ে দেন বিরোধীদলের ওপর এটা তার চিরাচরিত অভ্যাস। আপনাদের মনে থাকার কথা ২০১৪-১৫ সালে আন্দোলনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন ব্যাপক তৎপর বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না ঠিক সেই সময় মাঝেমধ্যেই বাসে আগুন লাগানো হতো,  মানুষ পুড়িয়ে মারা হতো,  এগুলো সবই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে করানো হতো এবং দায় চাপানো হতো বিএনপির ওপর। ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে তখন একটি শুটিং স্পট বানানো হয়েছিল।  প্রতিদিন সেখানে জড়ো করা হতো এইসব আগুনে পোড়া লোকদের। প্রচার করা হতো বিএনপি আগুন সন্ত্রাস করছে। এসব কথা চাপা পড়ে থাকেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন কোন কর্তা ব্যক্তি মুখ ফসকে বলে ফেললেন আমরাই তো সরকারকে টিকিয়ে রেখেছি। নিজের দলের নেতাকর্মীরা অকপটে স্বীকার করেছে বাস পোড়ানোর কথা অথচ প্রচার মাধ্যমে এসেছে যে বিএনপি এসব সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে তাই বিশ্বাস করানোর অপচেষ্টা করা হতো। বিএনপিকে মনস্তাত্বিক চাপে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে।  গত দশটি বছর বিএনপি লক্ষাদিক মামলার মুখোমুখি হয়ে প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মী আদালতের বারান্দায় হাজিরা দিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব খবর এখন দেশের মিডিয়া অতিক্রম করে বিশ্বের শীর্ষ মিডিয়ায় আসতে শুরু করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস  এটা নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছে বাংলাদেশের কোন মিডিয়া তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। পারেনি তার অন্যতম কারণ বাংলাদেশে এখন ভয়ের ও  সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলছে। 

সরকারের মেগা প্রজেক্টে,  মেগা চুরি ডাকাতি লুটপাট হওয়ার কথা বিএনপির বারবার বলে আসছে কিন্তু কে শুনে কার কথা। আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা মেশিনে এমন ভাবে প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌছে গেছে। ১১ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু সম্পন্ন করতে ৭২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রুপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে মেগা চুরি ঘটনা মানুষের মুখে মুখে। মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এয়ারপোর্ট-গাজীপুর ফ্লাইওভার যেখানকার কথাই বলবেন সেখানেই হয়েছে মেগা লুটপাট। ব্যাংক গুলো দখল করে সেগুলো দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে রিজার্ভ যেখানে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার সেটা লুটপাট করতে করতে এখন ২২ বিলিয়ন ডলারে এসে নেমেছে। সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী জানালেন বিদ্যুত কেন্দ্রের ভাড়া দিতে হয়েছে এক লক্ষ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।এগুলো সবই করা হয়েছে সরকারের সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠীকে তুষ্ট রাখার জন্য ।
 
পাশাপাশি সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসিনা সরকারের অধীনে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে দেশ-বিদেশের কোন গোষ্ঠী সেটাকে নির্বাচন বলে মানে না। তারা মনে করে সরকার নির্বাচনের নামে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এটার পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ৭০০ প্রবন্ধ লেখানো হয়েছে যার প্রমাণ দিল  এএফপি।

লুটপট এর আরেকটি কাহিনী নিশ্চয়ই সচেতন পাঠক সমাজ বৃহস্পতিবার সকালেই জেনে গিয়েছেন। দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে দেখা গেল ২৫২ জন আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা আমেরিকায় বাড়ি ঘর কিনে তাদের বংশধরগন  বসবাস করছেন। এরমধ্যে ৩৫ জনই হয়েছে দারোগা আর ওসি। লুটপাট কাকে বলে তার কত উদাহরণ দেবেন? গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ শুধু লুটপাটই করেছে জনগণের কল্যাণে কিছুই করে নাই যে কারণে চাল ডাল তেল নুন ডিম তরিতরকারি মাছ শাক যাই কিনতে যাবেন সবকিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। একটি গোষ্ঠী ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটা ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীর কাছেও এখন কোটি কোটি টাকা। তারা মনে করে বাংলাদেশটা তাদের লুটপাট করার জন্য স্বাধীন করা হয়েছে। লুটপাট  তাদের বংশগত সূত্রে প্রাপ্ত। এর বিরুদ্ধে যেই কথা বলবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানী, লাঠিপেটা, পিস্তল বন্দুক দিয়ে ধাওয়া করা এটাই তাদের কাজ। এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ করা দরকার। সবাইকে একযোগে মাঠে নামতে হবে। দখলদার সরকারকে উৎখাত করতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবি। আমি মনে করি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর এখন প্রধান দায়িত্ব হবে এই লুটপাট কারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

অপপ্রচার বুমেরাং 
আমিরুল ইসলাম কাগজী


শেয়ার করুন