শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

জেনে নিন কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত তৈরির টিপস

যখন একজন নিয়োগকর্তা আপনার জীবনবৃত্তান্ত দেখেন, তখন আপনার কাছে শুধুমাত্র ৩০ সেকেন্ড আছে তাকে প্রভাবিত করার । এটা হলো একটি গড় সময় যা একজন নিয়োগকর্তা আপনার জীবনবৃত্তান্ত পড়তে ব্যয় করেন । পাঠক এর মনোযোগ আকর্ষণ এর জন্য আপনাকে পরিষ্কার এবং মূল বিষয়বস্তু সাপেক্ষ হতে হবে। শুধু তাই নয় , নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আপনার বিবেচনায় আনতে হবে।
অর্থবহ তথ্য ব্যবহার আর অপ্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকুন

নিয়োগকর্তারা আপনার জীবনের সাফল্যের রচনামূলক কোনো ইতিহাস শুনতে চান না। তাদের কাছে জীবনবৃত্তান্তের ভাণ্ডার পড়ে আছে এবং তারা দ্রুত জানতে চায় আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য কি না। তাই সংক্ষিপ্ত আকারে আপনার যোগ্যতা , দক্ষতা ও সাফল্য তুলে ধরুন ।
একটি জীবনবৃত্তান্তে শুধুমাত্র সেইসব তথ্য থাকা উচিত যা তাদেরকে উপলুদ্ধ করবে আপনাকে ইন্টারভিউ তে ডাকার জন্য। দক্ষতা ও সাফল্যের বর্ণনা হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক। অপ্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও নষ্ট করে দিবে। ব্যক্তিগত তথ্য শুধু মাত্র তখনি ব্যবহার করবেন যখন তা আপনার ব্যক্তিগত গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবে । একটি জীবনবৃত্তান্তে থাকা উচিত আপনি কর্মক্ষেত্রে কি করতে পারবেন ।আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কি করেতে পারেন তা নয়।
আপনার লক্ষ্য সর্বদা মনে রাখুন

আপনার জীবনবৃত্তান্ত লিখার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য প্রস্তুত করুন। এটা পরিষ্কার এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ হওয়া জীবনবৃত্তান্তে আপনার সকল ধরনের যোগ্যতার বর্ণনা আপনার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে ।
আপনার সূচনা হওয়া উচিত সুন্দর বিবৃতি দিয়ে

আপনি যদি সাম্প্রতিক স্নাতক পাশ করে থাকেন তাহলে আপনার জীবনবৃত্তান্তের প্রথমেই একটি ক্যারিয়ার লক্ষ্য থাকা উচিত, যা আপনার পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণে সাহায্য করবে এবং বোঝাবে আপনি কোন ধরনের পদের চাকরি করতে প্রস্তুত।
আপনি যদি আপনার পেশায় অভিজ্ঞ হন তাহলে আপনার দরকার একটি শক্তিশালী বিবৃতির যা উক্ত পদের জন্য আপনার যোগ্যতা ভালোমতো বর্ণনা করবে। জীবনবৃত্তান্তে একটি সুন্দর সূচনা পাঠককে আরো পড়ার জন্য প্রভাবিত করে।
ব্যবসায়িক পরিভাষা ব্যবহার করুন

ব্যবসায়িক শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা উচিত যা নিয়োগকর্তাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনি কাজটির সাথে পরিচিত। কিন্তু সাথে খেয়াল রাখা উচিত যেন তা আপনার জীবনবৃত্তান্তকে দুর্বোধ্য করে না তুলে। ব্যবসায়িক পরিভাষা বোঝার জন্য আদ্যক্ষরও ব্যবহার করা যেতে পারে যদি তা বুঝতে সাহায্য করে। যেমন: TQM (Total Quality Management).
আপনার সুবিধাগুলো নিয়োগকর্তার কাছে তুলে ধরুন

আপনার অভিজ্ঞতাগুলো এমনভাবে তুলে ধরুন যেন তা হয় পদটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। আপনার প্রাপ্তিগুলোকে হাইলাইট করুন যা নিয়োগকর্তাকে উদ্ভুদ্ধ করবে আপনার জীবনবৃত্তান্ত আরো পড়ার জন্য। প্রশ্নটি একবার ভাবুন : "কিভাবে এই প্রার্থী দায়িত্বগুলো পালন করতে পারবে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো একটি প্রভাব রাখবে ?" যদি একটি প্রতিষ্ঠান এমন প্রার্থী খুঁজে যে নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম তাহলে আপনার ব্যবস্থাপনা বা প্রশিক্ষণের ক্ষমতাকে তুলে ধরা উচিত।অবশ্যই মনে রাখবেন আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ইন্টারভিউর জন্য ডাক পাওয়া।
কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন

আপনার জীবনবৃত্তান্তের উপর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন কিছু কীওয়ার্ড (শব্দ)দিয়ে যা আপনার দক্ষতা প্রকাশ করে । বর্ণনামূলক কীওয়ার্ড ব্যবহার করা দিন দিন অপরিহার্য হয়ে যাচ্ছে কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটার ডাটাবেস থেকে কীওয়ার্ড দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জীবনবৃত্তান্ত খোঁজে। যেইসব চাকরির জন্য আবেদন করেছেন তা আপনার ব্যবহৃত কীওয়ার্ড এর সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়া উচিত।
কর্মে ফলপ্রসু হয় এমন বিবৃতি ব্যবহার করুন এবং ক্লান্তিকর তালিকা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

সবচেয়ে ভালো জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেয়া হয় কাজ ও কাজের ফলাফল দিয়ে, যেখানে একধরনের চ্যালেঞ্জ বা সুযোগ হিসেবে আপনি কাজ নিয়েছেন এবং তা কিভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আপনার বর্ণিত অভিজ্ঞতাগুলো এক অন্য উচ্চতায় চলে যায় এবং ব্যাখ্যা করে কিভাবে আপনি সাফল্য ও ফলাফল আনতে পারেন।
কাজ-ফলাফল ব্যাপারটা হতে পারে এমন যে: "Analyzed declining sales and developed campaign that increased orders by 30% in less than one month". এই বক্তব্যটি দ্বারা আপনার পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ কে বোঝায়, যে পদক্ষেপ আপনি গ্রহণ করেছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যে সাফল্য আপনি বয়ে আনতে পেরেছেন তা বোঝায়।
আপনার সাফল্যগুলো সংখ্যায় প্রকাশ করুন

আপনি আপনার ক্যারিয়ার এ কি করেছেন তার একটা ধারণা পাঠক কে দিতে হবে। কিন্তু আপনার প্রতিদিনের দায়িত্ব বা কাজের বিবরণ না দিয়ে বরং আপনার প্রাপ্তি বা সাফল্যের কথা বলুন এবং তা পরিমেয় হতে হবে। "Responsible for increasing sales in my territory," লেখার পরিবর্তে "Increased sales in my territory 150% over 6 months. Managed 30 accounts increasing revenues from $1.5M to $2M annually." লেখাই শ্রেয়।
ক্রিয়াপদ

নিজেকে সক্রিয়, মার্জিত বুদ্ধিমান, এবং অবদান রাখতে সক্ষম হিসেবে নিজেকে তুলে ধরুন। যেমন : "Managed, Launched, Created, Directed, Established, Organized, and Supervised". একই ক্রিয়াবাচক শব্দ বারবার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। একই শব্দ যেমন 'directed' ব্যবহার করার বদলে সমার্থক শব্দ ব্যবহার করুন , যেমন: controlled, supervised, guided, or managed. শব্দকোষ ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি একই কথা ভিন্ন ভাবে বলতে চান ক্যারিয়ার বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।

পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন

নিজেকে প্রমান করার খুব বেশি সুযোগ জীবনবৃত্তান্তে নেই। তাই অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জায়গা নষ্ট করার কোন মানে নেই। কর্ম ও যোগ্যতার উপর জোর দিন এবং কখনই ব্যক্তিগত তথ্যের উপর যেমন : ধর্ম, বয়স, রাজনৈতিক চেতনা ইত্যাদির উপর জোর দেয়া ঠিক না। যদিও এর কোনটির উপর বিশেষ গুরুত্ব থাকে তাহলে তা নিয়োগকারীর জন্য হবে অনৈতিক। অবশ্যই হাস্যরস জাতীয় কোনো ব্যাপার এর অবতারণা ঘটানো জীবনবৃত্তান্তের জন্য ঠিক নয়। অবশ্যই হাস্যরস জাতীয় কোনো ব্যাপার এর অবতারণা ঘটানো জীবনবৃত্তান্তের জন্য ঠিক নয়। আপনি অবসরে ভৌতিক ছবি দেখতে পছন্দ করেন এই ধরনের তথ্য সমীচীন নয়।
ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ

আপনি যদি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন: "Dependable, Highly-Organized, Self-Motivated, and Responsible," ইত্যাদি বলতে চান তাহলে শুধুমাত্র তালিকা আকারে দেখিয়ে নয় বরং তার একটি উদাহরণ বা পরিস্থিতি দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন।যেমন "Dependable" না লিখে আপনি লিখতে পারেন "Never missed an important deadline in five years as a project manager."
সর্বদা ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন

আপনার জীবনবৃত্তান্তে থাকা উচিত আপনার ইতিবাচক চরিত্র। আপনি যদি নিয়োগকারীর সবগুলো চাহিদা পূরণ করতে না পারে তাহলে আপনার দুর্বলতা নিয়ে নিজের মধ্যে ব্যস্ত থাকবেন না। আপনি চেষ্টা করবে বলতে যে আপনি কি কি করতে পারেন।
সততা বজায় রাখুন

নিজের দক্ষতা সম্বন্ধে মিথ্যা বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত বললে তা পরে নিজের জন্যই খারাপ বয়ে আনে।
সংঘঠিত ও যুক্তিপূর্ণ থাকুন

আপনার জীবনবৃত্তান্তটির মান নির্ধারণের জন্য নিয়োগকর্তারা এও বোঝার চেষ্টা করেন যে আপনি যুক্তিপূর্ণ এবং সংঘবদ্ধ কি না। তাই অবশ্যই চেষ্টা করুন এটিকে সুষম, দৃষ্টিনন্দন ও ধারাবাহিক রাখতে। বিভাগগুলো আলাদা রাখুন এবং শিরোনামগুলো বোল্ড করুন।

যোগাযোগের মাধ্যম

অতিরিক্ত ও তীব্র শব্দের ব্যবহার পরিহার করুন। অন্যকথায় আপনার কঠিন শব্দভাণ্ডার এর প্রমাণ না দিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করুন যা সবাই সহজেই বুঝতে পারে।
বিভাগগুলো একত্রিত রাখুন

সম্ভব হলে জীবনবৃত্তান্তের বিভিন্ন অংশ একত্রিত রাখুন এবং এটি সংক্ষিপ্ত রাখুন। যেমন আপনার ট্রেনিং এর ভেতর যদি একটি মাত্র পয়েন্ট থাকে তাহলে তার জন্য আলাদা একটি প্যারার প্রয়োজন নেই। তা আপনি "Education and Training" বিভাগের ভেতর আনতে পারেন।

প্রচলিত শিরোনাম ব্যবহার করুন

প্রচলিত শিরোনাম ব্যবহার করুন। যেমন: Objective, Experience, Employment, Work History, Skills, Summary, Summary of Qualifications, Accomplishments, Achievements, Capabilities, Education, Professional Affiliations, Publications, Licenses and Certifications, and Honors

বেতন বিষয়ক তথ্যাদি

আপনার বর্তমান বেতনের তথ্য কখনই দেয়া যাবে না। এটা আপনি আপনার ইন্টারভিউর জন্য রেখে দিবেন।
উত্তম পুরুষ ব্যবহার করা যাবে না ("me" or "I")

আপনার জীবনবৃত্তান্ত কোনো ব্যক্তিগত পত্র নয় , তাই "I" "my" or "me" ধরনের শব্দ এখানে থাকা উচিত নয়।ক্রিয়াবাচক কোনো শব্দ দিয়ে এই ধরনের সর্বনাম বদলে দেয়া উচিত।"I wrote several articles for the company newsletter," এই বাক্যের বদলে "Researched and wrote several articles for the company newsletter." লিখলেই ভালো হয়। বরং নামবাচক বিশেষ্যগুলো কভার লেটার এ ব্যবহার করা যেতে পারে।
পেশাগত নাম ব্যবহার

অনেক জায়গায় আপনার পেশাগত নাম বা পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনার নাম লিখতে পারেন অনেকটা এইভাবে: "Ahmed Abdullah, FCA.". এছাড়া আপনি ব্যবহার করতে পারেন শিক্ষা, লাইসেন্স / সার্টিফিকেশন ইত্যাদি বিষয়। আপনার শিরোনামটি যদি চাকরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে তা অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।
Including References in Your Resume

You do not have to include references on your resume. Most employers will assume you can provide references if they are requested.


শেয়ার করুন