জনহিতৈষী
প্রতিষ্ঠানদের সাধারণভাবে বলা হয় Non-Government
Organisation বা NGO, এগুলি এমন ধরনের সংস্হা, যা সরকারি নয় বা প্রথাগত মুনাফাকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়৷ এরা সাধারণ নাগরিক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও এরা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে, আবার কোনও ব্যবসায়িক সংস্হা, ফাউন্ডেশন বা সাধারণ মানুষের দান (Donation) দ্বারা চলতে পারে৷ মূলত এরা দু’ধরনের উদ্দেশ্য সাধন করেক্ট দাতব্য (Charitable) এবং ধর্মীয় (Religious)৷ আবার কোনও কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে কিছু সহযোগী দাতব্য কাজ করে থাকে৷ মনে রাখতে হবে, দাতব্য মানে সম্পূর্ণ বিনা অর্থে দান নয়৷ দাতব্য সংস্হাগুলি প্রধানত শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, পরিবেশ, ঐতিহাসিক বিষয় সংরক্ষণ এবং নানা ধরনের সামাজিক, আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে৷ তবে দাতব্য বা ধর্মীয় যেটাই হোক না কেন, NGO-গুলি জনগণের মঙ্গল বা উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, কোনও মুনাফার উদ্দেশ্যে নয় (Non-profit)৷ বেশিরভাগ দেশের সরকার NGO-গুলির জনহিতকর কার্যাবলী স্বীকার করে এবং সে কারণেই এদের আয়ের ওপর কর ছাড় tax exemption) দিয়ে থাকে৷ এটা স্বীকৃত যে, NGO-গুলির বহু কাজ সরকারের বৃহত্তর জনহিতকর কাজের পরিপূরক৷ দাতাদের জন্যও ৮০Gধারায় আয়কর ছাড়ের সুযোগ দিয়েছে সরকার৷ সরকার যেখানে পৌঁছতে পারে না, বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ক্ট সেখানে NGO-রা অর্থ ও সামগ্রী সংগ্রহ করে দ্রুত পৌঁছে যায়৷ বর্তমানে নেপালে ভূমিকম্পে যে অপরিসীম ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস হয়েছে, সেখানে বহু দেশি ও বিদেশি NGO বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে৷ এই ত্রাণকার্যে ভারত সেবাশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন, চার্চেস অক্সিলিয়ারি ফর সোসাল অ্যাকশন (CASA, লুথারন ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ইত্যাদি NGO-গুলি বিশেষ উল্লেখযোগ্য৷ অনেক NGO আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ করে থাকে৷ এদের কাজ বিভিন্ন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রসারিত৷ এ ছাড়াও রাষ্ট্রপুঞ্জের UNO সংস্হাগুলি যেমন United Nations
Educational Social & Cultural Organisation (UNESCO) এবং United Nations
International Children’s Emergency Fund (UNICEF) বিশেষ উল্লেখযোগ্য৷ ণ্ডGreenpeace International সংস্হাটিও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসনীয় কাজ করছে৷ কিছু NGO মানবকল্যাণে সংগৃহীত বিদেশি অর্থ অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসমূলক অপকর্মে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে৷ আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন কেউ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে মদত দিতে না পারে৷
NGO গঠন: প্রত্যেকটি NGO গঠনের পিছনে থাকে
কিছু বিশেষ
উদ্দেশ্য৷ এগুলি
পরিষ্কার থাকা
দরকার৷ একইসঙ্গে NGO সম্পর্কীয় সরকারি নিয়মাবলী এবং যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে,
তা সম্যক
জানা দরকার৷
প্রথমেই প্রয়োজন পরিকল্পিত NGO টির রেজিস্ট্রেশন৷ কারণ
রেজিস্ট্রেশন সংস্হাটিকে আইনগত মান্যতা দেয় ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রদান করে৷
তিনটি অ্যাক্ট বা অধিনিয়মের যে কোনও
একটিতে এই রেজিস্ট্রেশন করা
যেতে পারে
সংস্হার পছন্দমতো৷
প্রথম আইন:
সংস্হাটিকে Indian Trust ACT 1882-এর অধিনিয়মে একটি ট্রাস্ট রূপে রেজিস্ট্রেশন করা যেতে
পারে৷ ট্রাস্ট দলিল করতে
গেলে প্রয়োজন Settlor বা Author এবং তাঁর
ইচ্ছামতো কিছু
সংখ্যক Trustee বা অছি৷ মূল
হল, ট্রাস্টের উদ্দেশ্য বা কর্মসূচি৷ ট্রাস্টিদের সম্মিলিতভাবে বলা
হয় ‘বোর্ড
অফ ট্রাস্টিজ’৷ এরাই
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নিয়মাবলী অনুসারে যৌথভাবে কাজ করবে,
যেন ট্রাস্টের এক বা একাধিক উদ্দেশ্য সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়৷ ট্রাস্টের উদ্দেশ্য কখনওই
ব্যক্তি বিশেষের হিতের জন্য
নয়, কিন্তু
সর্বসাধারণের জন্য৷
এখানে সর্বসাধারণ (public) অর্থ এই নয় যে, ভারতবর্ষের বা রাজ্যের সব মানুষের জন্য হতে
হবে৷ যদি
বিশেষ কোনও
শ্রেণী বা পেশার সকল
মানুষের কল্যাণে হয়, তবে
সেটাও Public Benefit বলে ধরতে
হবে৷ ট্রাস্টটিকে স্হানীয় সম্পত্তি Registrarবা Sub-Registrarঅফিসে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে
সকল ট্রাস্টির উপস্হিতিতে৷ settlor বা Author ট্রাস্টটি সৃষ্টি করলেও,
ট্রাস্টিরাই এটি
পরিচালন করবে
settlor নয়, যদি
না তিনি
একজন ট্রাস্টি থাকেন৷ সকল
সরকারি নিয়ামক
সংস্হার কাছে
ট্রাস্টিরাই যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবে৷
দ্বিতীয় আইন:
সোসাইটি হিসেবেও NGOসংস্হাটিকে রেজিস্টেশন করানো যায়
Societies Registration Act 1860 অনুসারে৷ প্রায় প্রত্যেকটি রাজ্য নিজস্ব
অবস্হান অনুসারে এই মূল
অ্যাক্টটি ভিত্তি
করে নিজস্ব
সোসাইটি অ্যা’
পাস করিয়ে
নিয়েছে৷ যেমন,
পশ্চিমবঙ্গে Society Registration ACT (W.B) 1961 বলবৎ রয়েছে৷
কমপক্ষে ৭ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে
সোসাইটির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে
একটি Memorandum of Association প্রস্তুত করতে
হয়৷ এর সঙ্গে সৃষ্ট
সোসাইটির নিয়মাবলী বা Rules & Regulation যুক্ত করে
দলিলটি Registrar of Societies এর অফিসে
আবেদন করতে
হয় রেজিস্ট্রেশনের জন্য৷
তৃতীয় আইন:
একটি NGO (দাতব্য বা ধর্মীয়
যা-ই হোক) Companies Act 1956-এর ২৫ নং ধারায়
(সংশোধিত আইনের
৮ নং ধারায়) মুনাফাকারী কোম্পানি নয় বলে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে৷
শেয়ার হোল্ডাররা কোনও লাভ
বা ডিভিডেন্ড নিতে পারবে
না৷ উদ্দেশ্যগুলি ট্রাস্ট বা সোসাইটির মতো
বর্ণনা করা
থাকবে কোম্পানির মেমোরেন্ডামে৷ কোম্পানি সব আয় এই উদ্দেশ্যগুলি সাধন করার
কাজে ব্যবহূত হবে৷ এক্ষেত্রে NGOটি Company Act 1956 (বর্তমানে Companies Act, 2013)দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং
বাৎসরিক রিটার্ন দিতে হবে
এবং Registrar of Companies-এর কাছে
দায়বদ্ধ থাকবে৷
NGO-র অন্যান্য আইনি
দায়বদ্ধতা: প্রথমেই আলোচনা করা
যাক Income Tax Act 1961: NGO হল একটি
বিধিসম্মত সংস্হা,
যেটি আয়কর
আইনে Association of Persons (AOP) বলে গণ্য
হবে৷ সাধারণভাবে অন্য করদাতাদের মতো NGO-র আয়ও করের
আওতায় আসবে৷
কিন্তু আয়কর
আইনের ১১ থেকে ১৩ ধারা সঠিকভাবে পালন করলে,
কর ছাড়ের
সুযোগ পাওয়া
যায়৷ এছাড়া
১০(২৩সি)
ধারায়ও NGO কর ছাড় পেতে
পারে এটির
বিগত বছরগুলির কাজ ও মান্যতার ওপরে৷
সহজভাবে বলতে
গেলেক্ট প্রথমেই প্রয়োজন আয়কর
কমিশনারের কাছে
12AA ধারায় রেজিস্ট্রেশন৷ এটাই হল কর ছাড়ের
প্রাথমিক শর্ত৷
এর জন্য
নির্দিষ্ট ফর্ম
10A-তে গত তিন বৎসরের
পরীক্ষিত হিসেব
ও কাজের
বিবরণীসহ কমিশনারের কাছে আবেদন
করতে হয়৷
স্কুল, কলেজ,
হাসপাতাল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, মন্দির,
মসজিদ, গির্জা,
মঠ সকলকেই
এই আইনি
ধারাগুলি যথার্থ
পালন সাপেক্ষে কর ছাড়
প্রযোজ্য হবে৷
শুধু NGOবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রূপে কেউ
স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর ছাড়ের যোগ্য
হয় না৷
সমগ্র উৎস
থেকে (দান,
গ্রান্ট, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আয়) প্রাপ্ত মোট আয়ের
অন্ততঃ ৮৫শতাংশ প্রতি বৎসর
NGO-র কাজে
ব্যয় করতে
হবে৷ এই ব্যয়ের মধ্যে
Revenue (নিত্য-নৈমিত্তিক) খরচ ও
capital (সম্পত্তি ক্রয়ের)
খরচ উভয়েই
ধরা হবে,
যেখানে অন্য
করদাতার ক্ষেত্রে শুধু Revenue খরচই আয় থেকে
বাদ যায়৷
যদি কোনও
কারণে কোনও
বৎসরে আয়ের
৮৫শতাংশ ব্যয়
করা সম্ভব
না হয়,
তাহলে সেই
ঘাটতি (৮৫শতাংশ থেকে প্রকৃত
ব্যয়ের ব্যবধান) পরের বছর
খরচ করলেও
কর ছাড়ের
যোগ্য হবে৷
80G ধারায় করছাড়:
অভিজ্ঞতায় দেখেছি,
অনেক NGO আয়কর ধারা ১১ থেকে ১৩ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়৷ কিন্তু 80G ধারার কথা
শুনেছে৷ কারণ
80G ধারায় যে ব্যক্তি বা কোম্পানি ত্ত্বণ্ডত্থ- তে দান
করে, সে সাধারণত দান
করা অর্থের
৫০শতাংশ ওপর
তাঁর ব্যক্তিগত আয় থেকে
ছাড় পান৷
প্রথম কথা,
এই ছাড়
পেতে হলে
NGO-টিকে পৃথকভাবে ফর্ম 10G দাখিল করে আয়কর
কমিশনারের কাছ
থেকে অনুমোদন পেতে হবে৷
ধারা 80Gঅনুমোদনের পূর্বে অবশ্যই
12A রেজিস্ট্রেশন থাকা
দরকার৷ আবেদনের ৬ মাসের
মধ্যে আয়কর
কমিশনার তাঁর
নির্দেশ প্রদান
করবেন৷ কিছু
কিছু ত্ত্বণ্ডত্থ বা সংস্হায় দান করলে
80G ধারায় ১০০শতাংশ ছাড় পাওয়া
যায়৷ যেমন,
প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ,
জাতীয় সুরক্ষা ফান্ড এবং
কিছু অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠিত NGO৷
Foreign Contribution Regulation Act
1976: কিছু NGO বিদেশ থেকে ডোনেশন
বা গ্রান্ট পেয়ে থাকে
এদের কাজের
জন্য৷ কিন্তু
এই বিদেশি
অর্থ যাতে
রাষ্ট্রবিরোধী কাজে
ব্যবহূত না হতে পারে,
তার জন্য
এবং এর নিয়ন্ত্রণের কারণে
FCRA 1976 প্রবর্তন করা হয়৷
সম্প্রতি FCR Act 2010 পাশ হয় যাতে আরও
কিছু নতুন
নিয়মাবলী যোগ
করা হয়৷
কিছু শর্ত
ও অনুমোদন সাপেক্ষেই এই বিদেশি অর্থ
NGOগ্রহণ করতে
পারে৷ এই
‘Foreign Contribution’ বা বিদেশি দানের
সংজ্ঞা কী?
যে কোনও
দান বা গ্রান্টের উৎস
যদি ভারতের
বাইরে কোনও
দেশে হয়,
তবে তা যেভাবেই কোনও
NGO গ্রহণ করুক,
সেটা বিদেশি
দান৷ যেমন
কোনও বিদেশি
যদি তাঁর
বিদেশে অর্জিত
অর্থ ভারতবর্ষে এসে ভারতীয়
মুদ্রায় দান
করেন, তবে
তাও বিদেশি
দান বলে
ধরা হবে৷
অর্থাৎ সেক্ষেত্রে FCR Act মেনেই NGO সে দান
গ্রহণ করতে
পারবে৷ কোনও
বিদেশি উপহারও
এই আইনের
দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ আবার কোনও
NGO সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি Foreign Hospitality যেমন যাওয়া-আসার ভাড়া,
থাকা ও খাওয়ার সুযোগ
নেয়, সেটাও
এই অ্যাক্টের নিয়ন্ত্রণে আসবে৷
বিদেশি অর্থ
দুভাবে গ্রহণ
করা যায়ক্ট
রেজিস্ট্রেশন করার
পর অথবা
নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য Prior Permission. NGO-র কার্যকাল ৩ বৎসর
না হলে
Registration দেওয়া হয় না৷
এই রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম FC-3এ আবেদন করতে
হয় ভারত
সরকারের গৃহ
মন্ত্রণালয়ের অধীন
FCRA Wing-এ৷ এর Website
www.mha.in/fcra দেখুন৷ Prior
Permission-এর জন্য
ফর্ম FC-4এ আবেদন করতে
হবে৷ রেজিস্ট্রেশন-প্রাপ্ত কোনও
NGO তার বিদেশি
অর্থ (এর জন্য একটি
পৃথক Bank Account রাখতে হবে)
অন্য কোন
NGO-কে দিতে
পারবে না,
যদি না সেই NGO-টিরও
রেজিস্ট্রেশন থাকে৷
নতুন FCRA আইন অনেক নতুন
মাত্রা যোগ
করেছে৷ এর ধারাগুলি সঠিক
পালন না করলে, জরিমানা ও জেল
হতে পারে৷
সুতরাং, NGO-গুলির
বিদেশি অর্থ
গ্রহণ, ব্যবহার এবং বার্ষিক রিটার্ন দেওয়ার
ব্যাপারে সতর্ক
থাকতে হবে৷
দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা: NGO-দের
প্রতি সাধারণের অন্ধ বিশ্বাসের দিন চলে
গেছে৷ এখন
সময় হল দায়বদ্ধতা (Accountability)৷ এক,
‘ঊধর্বমুখী দায়বদ্ধতা’, যেখানে NGO-রা তাদের দাতা,
তহবিল সংগ্রাহক এবং সরকারের নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে৷
দুই, ‘নিম্নমুখী দায়বদ্ধতা’ হল স্হানীয় সমাজ,
অ্যাক্টিভিস্ট এবং
উপকারভোগীর (Beneficiaries)কাছে৷ এই দায়বদ্ধতা বিভিন্ন ধরনের NGO-র কাজ ভিন্ন
ধরনের৷ সঠিকভাবে আয়ব্যয়ের হিসেব
রাখা, NGO-র নিয়মকানুন ঠিকভাবে পালন করা,
নিয়মিত বোর্ড
মিটিং করা,
সাধারণ সভায়
বিস্তৃত রিপোর্ট প্রদান করা,
NGO-র উদ্দেশ্য অনুসারেই কাজ
করা এ সবই দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে৷
সংস্হার উদ্দেশ্য ও নিয়মাবলী যে সঠিকভাবে পালন করা
হচ্ছে তা ঊধর্বমুখী ও নিম্নমুখী সকল
কর্তৃত্ব বা ব্যক্তি বা নিয়ামকের কাছে
সঠিকভাবে তুলে
ধরা৷ এখন
সরকার চায়
NGO-র আয়ব্যয়
যেন Pnblic Domain-এ প্রকাশ
করা হয়৷
স্বচ্ছতা অর্থাৎ
সাধারণের চোখে
সংস্হার কাজকর্মের দৃশ্যমানতা৷ সাধারণ
তথ্যাদি প্রকাশে সদিচ্ছা৷ এটা
নিশ্চয়রূপে বলা
যায় যে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা NGO- র ভবিষ্যৎ কার্যাবলী আরও পোক্ত
করে এবং
সরকার ও দাতাদের কাছে
এর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে৷
বিদেশি দাতা
সংস্হাগুলি এই দুটি বিষয়
যাচাই বা মূল্যায়ন করার
জন্য নিজস্ব
প্রশ্নমালা ও পদ্ধতি বের
করেছে৷ বর্তমানে নথিভুক্ত কোম্পানিগুলি তাদের মুনাফার ৫শতাংশ কর্পোরেট সোসাল রেসপনসিবিলিটি (CSR)হিসেবে দিতে
বাধ্য৷ সে অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহূত হতে হবে৷
এই অর্থ
যেন সঠিক
NGO-র মাধ্যমে ব্যয় হয়,
তাঁর দায়িত্বে রয়েছে Tata Institute of Social Science৷ এই অর্থ দানরূপে পেতে গেলেও
দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়৷
বিগত দশকে
NGOসে’রে বিশেষ প্রবর্তন লক্ষ্য করা
যাচ্ছে৷ এই উদ্যোগ দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা আরও ফলপ্রসূরূপে এগিয়ে নিয়ে
যাবে বলে
আশা করা
যায়৷ Giveindia প্রথম অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে
২০০০ সালে৷
পরহিতকার্যের একটি
ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে
NGO-দের কার্যসূচি প্রদর্শন করা,
যা দেখে
দাতারা পরিষ্কারভাবে এদের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বুঝবার সুযোগ
পাবে৷ Giveindia এর কাছে
নথিবদ্ধ NGO-গুলির
কাজের পরীক্ষা করে উপযুক্ত NGO-দের দাতা
সংস্হার সঙ্গে
যোগাযোগ করিয়ে
দেয়৷ এর
website: www.giveindia.org.এ ছাড়া Credibility Alliance (www.credall.org.in)
NGO- এর একটি
cansortiumযা NGO-দের
দায়বদ্ধতার ওপর
শিক্ষাদান করে৷
একই ধরনের
কাজ করার
দায়িত্ব নিয়ে
কাজ শুরু
করেছে অপর
একটি সংস্হা
Guidestar (www.guidestarindia.org)৷ সুতরাং উদ্যোগী NGO-রা একটি
বৈদ্যুতিন ডাটাবেস তৈরি করার
মাধ্যমে উপরোক্ত সাহায্যকারী সংস্হাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে৷
এই সংস্হাগুলি সরকারের সঙ্গেও
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও আদানপ্রদান রেখে চলেছে,
যেন NGO-দের
সমস্যাগুলি সম্পর্কে সরকারি নিয়ামকও নীতিনির্ধারক দপ্তরগুলি সম্পর্কে অবহিত
থাকতে পারেন৷
ড. স্বপনকুমার
মুখুটী
খবর বিভাগঃ
নিবন্ধন সংক্রান্ত