শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬

এন,জি,ও মানে কি?

জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠানদের সাধারণভাবে বলা হয় Non-Government Organisation বা NGO, এগুলি এমন ধরনের সংস্হা, যা সরকারি নয় বা প্রথাগত মুনাফাকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়৷এরা সাধারণ নাগরিক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও এরা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে, আবার কোনও ব্যবসায়িক সংস্হা, ফাউন্ডেশন বা সাধারণ মানুষের দান (Donation) দ্বারা চলতে পারে৷মূলত এরা দুধরনের উদ্দেশ্য সাধন করেক্ট দাতব্য (Charitable) এবং ধর্মীয় (Religious)আবার কোনও কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে কিছু সহযোগী দাতব্য কাজ করে থাকে৷মনে রাখতে হবে, দাতব্য মানে সম্পূর্ণ বিনা অর্থে দান নয়৷দাতব্য সংস্হাগুলি প্রধানত শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, পরিবেশ, ঐতিহাসিক বিষয় সংরক্ষণ এবং নানা ধরনের সামাজিক, আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে৷তবে দাতব্য বা ধর্মীয় যেটাই হোক না কেন, NGO-গুলি জনগণের মঙ্গল বা উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, কোনও মুনাফার উদ্দেশ্যে নয় (Non-profit)বেশিরভাগ দেশের সরকার NGO-গুলির জনহিতকর কার্যাবলী স্বীকার করে এবং সে কারণেই এদের আয়ের ওপর কর ছাড় tax exemption) দিয়ে থাকে৷এটা স্বীকৃত যে, NGO-গুলির বহু কাজ সরকারের বৃহত্তর জনহিতকর কাজের পরিপূরক৷দাতাদের জন্যও ৮০Gধারায় আয়কর ছাড়ের সুযোগ দিয়েছে সরকার৷সরকার যেখানে পৌঁছতে পারে না, বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ক্ট সেখানে NGO-রা অর্থ সামগ্রী সংগ্রহ করে দ্রুত পৌঁছে যায়৷বর্তমানে নেপালে ভূমিকম্পে যে অপরিসীম ক্ষয়ক্ষতি ধ্বংস হয়েছে, সেখানে বহু দেশি বিদেশি NGO বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে৷এই ত্রাণকার্যে ভারত সেবাশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন, চার্চেস অক্সিলিয়ারি ফর সোসাল অ্যাকশন (CASA, লুথারন ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ইত্যাদি NGO-গুলি বিশেষ উল্লেখযোগ্য৷অনেক NGO আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ করে থাকে৷এদের কাজ বিভিন্ন দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রসারিত৷ ছাড়াও রাষ্ট্রপুঞ্জের UNO সংস্হাগুলি যেমন United Nations Educational Social & Cultural Organisation (UNESCO) এবং United Nations International Children’s Emergency Fund (UNICEF) বিশেষ উল্লেখযোগ্য৷ণ্ডGreenpeace International সংস্হাটিও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসনীয় কাজ করছে৷কিছু NGO মানবকল্যাণে সংগৃহীত বিদেশি অর্থ অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসমূলক অপকর্মে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে৷আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন কেউ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে মদত দিতে না পারে৷
NGO  গঠন: প্রত্যেকটি NGO  গঠনের পিছনে থাকে কিছু বিশেষ উদ্দেশ্য৷এগুলি পরিষ্কার থাকা দরকার৷একইসঙ্গে NGO  সম্পর্কীয় সরকারি নিয়মাবলী এবং যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা সম্যক জানা দরকার৷প্রথমেই প্রয়োজন পরিকল্পিত NGO টির রেজিস্ট্রেশন৷কারণ রেজিস্ট্রেশন সংস্হাটিকে আইনগত মান্যতা দেয় স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রদান করে৷তিনটি অ্যাক্ট বা অধিনিয়মের যে কোনও একটিতে এই রেজিস্ট্রেশন করা যেতে পারে সংস্হার পছন্দমতো৷
প্রথম আইন: সংস্হাটিকে Indian Trust ACT 1882-এর অধিনিয়মে একটি ট্রাস্ট রূপে রেজিস্ট্রেশন করা যেতে পারে৷ট্রাস্ট দলিল করতে গেলে প্রয়োজন Settlor বা Author এবং তাঁর ইচ্ছামতো কিছু সংখ্যক Trustee বা অছি৷মূল হল, ট্রাস্টের উদ্দেশ্য বা কর্মসূচি৷ট্রাস্টিদের সম্মিলিতভাবে বলা হয়বোর্ড অফ ট্রাস্টিজএরাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নিয়মাবলী অনুসারে যৌথভাবে কাজ করবে, যেন ট্রাস্টের এক বা একাধিক উদ্দেশ্য সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়৷ট্রাস্টের উদ্দেশ্য কখনওই ব্যক্তি বিশেষের হিতের জন্য নয়, কিন্তু সর্বসাধারণের জন্য৷এখানে সর্বসাধারণ (public) অর্থ এই নয় যে, ভারতবর্ষের বা রাজ্যের সব মানুষের জন্য হতে হবে৷যদি বিশেষ কোনও শ্রেণী বা পেশার সকল মানুষের কল্যাণে হয়, তবে সেটাও Public Benefit বলে ধরতে হবে৷ট্রাস্টটিকে স্হানীয় সম্পত্তি Registrarবা Sub-Registrarঅফিসে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে সকল ট্রাস্টির উপস্হিতিতে৷‌ settlor বা Author ট্রাস্টটি সৃষ্টি করলেও, ট্রাস্টিরাই এটি পরিচালন করবে settlor নয়, যদি না তিনি একজন ট্রাস্টি থাকেন৷সকল সরকারি নিয়ামক সংস্হার কাছে ট্রাস্টিরাই যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবে৷
দ্বিতীয় আইন: সোসাইটি হিসেবেও NGOসংস্হাটিকে রেজিস্টেশন করানো যায়  Societies Registration Act 1860 অনুসারে৷প্রায় প্রত্যেকটি রাজ্য নিজস্ব অবস্হান অনুসারে এই মূল অ্যাক্টটি ভিত্তি করে নিজস্ব সোসাইটি অ্যাপাস করিয়ে নিয়েছে৷যেমন, পশ্চিমবঙ্গে Society Registration ACT (W.B) 1961 বলবৎ রয়েছে৷কমপক্ষে জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সোসাইটির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে একটি Memorandum of Association প্রস্তুত করতে হয়৷এর সঙ্গে সৃষ্ট সোসাইটির নিয়মাবলী বা Rules & Regulation যুক্ত করে দলিলটি Registrar of Societies এর অফিসে আবেদন করতে হয় রেজিস্ট্রেশনের জন্য৷
তৃতীয় আইন: একটি NGO (দাতব্য বা ধর্মীয় যা- হোক) Companies Act 1956-এর ২৫ নং ধারায় (সংশোধিত আইনের নং ধারায়) মুনাফাকারী কোম্পানি নয় বলে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে৷শেয়ার হোল্ডাররা কোনও লাভ বা ডিভিডেন্ড নিতে পারবে না৷উদ্দেশ্যগুলি ট্রাস্ট বা সোসাইটির মতো বর্ণনা করা থাকবে কোম্পানির মেমোরেন্ডামে৷কোম্পানি সব আয় এই উদ্দেশ্যগুলি সাধন করার কাজে ব্যবহূত হবে৷এক্ষেত্রে NGOটি Company Act 1956 (বর্তমানে Companies Act, 2013)দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং বাৎসরিক রিটার্ন দিতে হবে এবং Registrar of Companies-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবে৷
NGO- অন্যান্য আইনি দায়বদ্ধতা: প্রথমেই আলোচনা করা যাক Income Tax Act 1961: NGO হল একটি বিধিসম্মত সংস্হা, যেটি আয়কর আইনে Association of Persons (AOP) বলে গণ্য হবে৷সাধারণভাবে অন্য করদাতাদের মতো NGO- আয়ও করের আওতায় আসবে৷কিন্তু আয়কর আইনের ১১ থেকে ১৩ ধারা সঠিকভাবে পালন করলে, কর ছাড়ের সুযোগ পাওয়া যায়৷এছাড়া ১০(২৩সি) ধারায়ও NGO কর ছাড় পেতে পারে এটির বিগত বছরগুলির কাজ মান্যতার ওপরে৷সহজভাবে বলতে গেলেক্ট প্রথমেই প্রয়োজন আয়কর কমিশনারের কাছে 12AA ধারায় রেজিস্ট্রেশন৷এটাই হল কর ছাড়ের প্রাথমিক শর্ত৷এর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম 10A-তে গত তিন বৎসরের পরীক্ষিত হিসেব কাজের বিবরণীসহ কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হয়৷স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, মঠ সকলকেই এই আইনি ধারাগুলি যথার্থ পালন সাপেক্ষে কর ছাড় প্রযোজ্য হবে৷শুধু NGOবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রূপে কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর ছাড়ের যোগ্য হয় না৷
সমগ্র উৎস থেকে (দান, গ্রান্ট, বাড়িভাড়া অন্যান্য আয়) প্রাপ্ত মোট আয়ের অন্ততঃ ৮৫শতাংশ প্রতি বৎসর NGO- কাজে ব্যয় করতে হবে৷এই ব্যয়ের মধ্যে Revenue (নিত্য-নৈমিত্তিক) খরচ capital (সম্পত্তি ক্রয়ের) খরচ উভয়েই ধরা হবে, যেখানে অন্য করদাতার ক্ষেত্রে শুধু Revenue খরচই আয় থেকে বাদ যায়৷যদি কোনও কারণে কোনও বৎসরে আয়ের ৮৫শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই ঘাটতি (৮৫শতাংশ থেকে প্রকৃত ব্যয়ের ব্যবধান) পরের বছর খরচ করলেও কর ছাড়ের যোগ্য হবে৷
80G ধারায় করছাড়: অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক NGO আয়কর ধারা ১১ থেকে ১৩ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়৷কিন্তু 80G ধারার কথা শুনেছে৷কারণ 80G ধারায় যে ব্যক্তি বা কোম্পানি ত্ত্বণ্ডত্থ- তে দান করে, সে সাধারণত দান করা অর্থের ৫০শতাংশ ওপর তাঁর ব্যক্তিগত আয় থেকে ছাড় পান৷প্রথম কথা, এই ছাড় পেতে হলে NGO-টিকে পৃথকভাবে ফর্ম 10G দাখিল করে আয়কর কমিশনারের কাছ থেকে অনুমোদন পেতে হবে৷ধারা 80Gঅনুমোদনের পূর্বে অবশ্যই 12A রেজিস্ট্রেশন থাকা দরকার৷আবেদনের মাসের মধ্যে আয়কর কমিশনার তাঁর নির্দেশ প্রদান করবেন৷কিছু কিছু ত্ত্বণ্ডত্থ বা সংস্হায় দান করলে 80G ধারায় ১০০শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়৷যেমন, প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ, জাতীয় সুরক্ষা ফান্ড এবং কিছু অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠিত NGO
Foreign Contribution Regulation Act 1976: কিছু NGO বিদেশ থেকে ডোনেশন বা গ্রান্ট পেয়ে থাকে এদের কাজের জন্য৷কিন্তু এই বিদেশি অর্থ যাতে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহূত না হতে পারে, তার জন্য এবং এর নিয়ন্ত্রণের কারণে FCRA 1976  প্রবর্তন করা হয়৷সম্প্রতি FCR Act 2010 পাশ হয় যাতে আরও কিছু নতুন নিয়মাবলী যোগ করা হয়৷কিছু শর্ত অনুমোদন সাপেক্ষেই এই বিদেশি অর্থ NGOগ্রহণ করতে পারে৷এই ‘Foreign Contribution’ বা বিদেশি দানের সংজ্ঞা কী? যে কোনও দান বা গ্রান্টের উৎস যদি ভারতের বাইরে কোনও দেশে হয়, তবে তা যেভাবেই কোনও NGO গ্রহণ করুক, সেটা বিদেশি দান৷যেমন কোনও বিদেশি যদি তাঁর বিদেশে অর্জিত অর্থ ভারতবর্ষে এসে ভারতীয় মুদ্রায় দান করেন, তবে তাও বিদেশি দান বলে ধরা হবে৷অর্থাৎ সেক্ষেত্রে FCR Act মেনেই NGO সে দান গ্রহণ করতে পারবে৷কোনও বিদেশি উপহারও এই আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷আবার কোনও NGO সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি Foreign Hospitality যেমন যাওয়া-আসার ভাড়া, থাকা খাওয়ার সুযোগ নেয়, সেটাও এই অ্যাক্টের নিয়ন্ত্রণে আসবে৷বিদেশি অর্থ দুভাবে গ্রহণ করা যায়ক্ট রেজিস্ট্রেশন করার পর অথবা নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য Prior Permission. NGO- কার্যকাল বৎসর না হলে Registration দেওয়া হয় না৷এই রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম FC-3 আবেদন করতে হয় ভারত সরকারের গৃহ মন্ত্রণালয়ের অধীন FCRA Wing-এ৷এর Website www.mha.in/fcra দেখুন৷‌ Prior Permission-এর জন্য ফর্ম FC-4 আবেদন করতে হবে৷রেজিস্ট্রেশন-প্রাপ্ত কোনও NGO তার বিদেশি অর্থ (এর জন্য একটি পৃথক Bank Account রাখতে হবে) অন্য কোন NGO-কে দিতে পারবে না, যদি না সেই NGO-টিরও রেজিস্ট্রেশন থাকে৷নতুন FCRA আইন অনেক নতুন মাত্রা যোগ করেছে৷এর ধারাগুলি সঠিক পালন না করলে, জরিমানা জেল হতে পারে৷সুতরাং, NGO-গুলির বিদেশি অর্থ গ্রহণ, ব্যবহার এবং বার্ষিক রিটার্ন দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে৷
দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতা: NGO-দের প্রতি সাধারণের অন্ধ বিশ্বাসের দিন চলে গেছে৷এখন সময় হল দায়বদ্ধতা (Accountability)এক, ‘ঊধর্বমুখী দায়বদ্ধতা’, যেখানে NGO-রা তাদের দাতা, তহবিল সংগ্রাহক এবং সরকারের নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে৷দুই, ‘নিম্নমুখী দায়বদ্ধতাহল স্হানীয় সমাজ, অ্যাক্টিভিস্ট এবং উপকারভোগীর (Beneficiaries)কাছে৷এই দায়বদ্ধতা বিভিন্ন ধরনের NGO- কাজ ভিন্ন ধরনের৷সঠিকভাবে আয়ব্যয়ের হিসেব রাখা, NGO- নিয়মকানুন ঠিকভাবে পালন করা, নিয়মিত বোর্ড মিটিং করা, সাধারণ সভায় বিস্তৃত রিপোর্ট প্রদান করা, NGO- উদ্দেশ্য অনুসারেই কাজ করা সবই দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে৷সংস্হার উদ্দেশ্য নিয়মাবলী যে সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে তা ঊধর্বমুখী নিম্নমুখী সকল কর্তৃত্ব বা ব্যক্তি বা নিয়ামকের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা৷এখন সরকার চায় NGO- আয়ব্যয় যেন Pnblic Domain- প্রকাশ করা হয়৷স্বচ্ছতা অর্থাৎ সাধারণের চোখে সংস্হার কাজকর্মের দৃশ্যমানতা৷সাধারণ তথ্যাদি প্রকাশে সদিচ্ছা৷এটা নিশ্চয়রূপে বলা যায় যে দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতা NGO- ভবিষ্যৎ কার্যাবলী আরও পোক্ত করে এবং সরকার দাতাদের কাছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে৷বিদেশি দাতা সংস্হাগুলি এই দুটি বিষয় যাচাই বা মূল্যায়ন করার জন্য নিজস্ব প্রশ্নমালা পদ্ধতি বের করেছে৷বর্তমানে নথিভুক্ত কোম্পানিগুলি তাদের মুনাফার ৫শতাংশ কর্পোরেট সোসাল রেসপনসিবিলিটি (CSR)হিসেবে দিতে বাধ্য৷সে অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহূত হতে হবে৷এই অর্থ যেন সঠিক NGO- মাধ্যমে ব্যয় হয়, তাঁর দায়িত্বে রয়েছে Tata Institute of Social Scienceএই অর্থ দানরূপে পেতে গেলেও দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতার বিষয়গুলি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়৷
বিগত দশকে NGOসেরে বিশেষ প্রবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷এই উদ্যোগ দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতা আরও ফলপ্রসূরূপে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়৷‌ Giveindia প্রথম অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে ২০০০ সালে৷পরহিতকার্যের একটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে NGO-দের কার্যসূচি প্রদর্শন করা, যা দেখে দাতারা পরিষ্কারভাবে এদের দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতা বুঝবার সুযোগ পাবে৷‌ Giveindia এর কাছে নথিবদ্ধ NGO-গুলির কাজের পরীক্ষা করে উপযুক্ত NGO-দের দাতা সংস্হার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়৷এর website: www.giveindia.org. ছাড়া Credibility Alliance (www.credall.org.in) NGO- এর একটি cansortiumযা NGO-দের দায়বদ্ধতার ওপর শিক্ষাদান করে৷একই ধরনের কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে অপর একটি সংস্হা Guidestar (www.guidestarindia.org)সুতরাং উদ্যোগী NGO-রা একটি বৈদ্যুতিন ডাটাবেস তৈরি করার মাধ্যমে উপরোক্ত সাহায্যকারী সংস্হাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে৷এই সংস্হাগুলি সরকারের সঙ্গেও ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ আদানপ্রদান রেখে চলেছে, যেন NGO-দের সমস্যাগুলি সম্পর্কে সরকারি নিয়ামকও নীতিনির্ধারক দপ্তরগুলি সম্পর্কে অবহিত থাকতে পারেন৷
  
. স্বপনকুমার মুখুটী

শেয়ার করুন