বুধবার, জুন ১৫, ২০১৬

ডাঃ জাকির নায়েক এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এর জবাবে

এই একটি মানুষ অনেক মানুষের চক্ষুশুল, তার বিরুদ্ধে কত অভিযোগ। এসব অভিযোগের জবাবে বই বাংলায়:
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ডাঃ জাকির নায়েক মুসলিম বিশ্বের একজন প্রখ্যাত দায়ী। বিশেষ করে যখন আধুনিক শিক্ষিত নাস্তিক-মুরতাদ ও বিধর্মী আলেমগণ ইসলামের বিরুদ্ধে নানান প্রশ্ন ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দ্বার করিয়েছিল, সেই মুহুর্তে প্রয়োজন ছিল তাদের মতই শিক্ষায় শিক্ষিত একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। এতোদিন ডাঃ জাকির নায়েক শুধু আলোচনার বিষয় থাকলেও এখন আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার বিষয়ও বটে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন ধরণের অসত্য এবং ভিত্তিহীন সমালোচনা করা হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর এই করুণ সময়ে আমাদের কী করণীয় এবং ডাঃ জাকির নায়েকের সমালোচনার জবাবে এই প্রথম বই “ডাঃ জাকির নায়েক এবং আমরা” বইটি প্রকাশ করা হল। শত সহস্র ফিতনা ফাসাদের সময়ে যদি কেউ সত্যের ওপর থাকেন, সত্য কথা বলেন তাহলে তো তাঁর বিরোধিতা হবেই। (কুরানের আলো)

ইসলাম বানিজ্যে যে সমস্ত আলেমদের ভাত ভিক্ষে, জাকির নয়েক তাদের সেই ব্যবসায় ভাঁটা এনে দিয়েছে। তারাই জাকির নায়েককে সহ্য করতে পারেনা।আর কিছু আলেম আছে যারা তোষামোদ পাওয়ার কারণে, নিজেকে সর্ব বিখ্যাত মনে করে, তারাও জাকির নায়েকের বিশ্ব জোড়া খ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত।
আল্লাহ যুগে যুগে কিছু স্পেশাল বান্দা পাঠান তার দ্বীনকে সামনে নিতে। আমি মনে করি জাকির নায়েক তাদেরই একজন।তাঁর গুরু মরহুম জনাব আহমেদ দিদাত তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,’আমি চল্লিশ বছরে যা করেছি, তুমি এক বছরেই তা করেছ বৎস’। একটা অসাধারণ প্রতিভা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন, এটা তার শত্রুকেও মানতে হবে। ধন্যবাদ ফুয়াদ ভাই।
তুলনামূলক ধর্ম তত্ত্বের উপর ডাঃ জাকির নায়েক একজন অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। এই বিষয়ে তার অতুলনীয় খেদমত মুসলমানদের একটি বড় অর্জন। একটা সময় ছিল যখন ডাঃ জাকির নায়েকের তুলনামূলক ধর্ম তত্ত্বের উপর লেকচারগুলো অনেকেই মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন। তার পক্ষে অন্যদের সাথে অনেকে বিতর্কও করেছেন। বিভিন্ন ধর্মের উপর ডাঃ জাকির নায়েকের সেই আলোচনাগুলো ছিল এক কথায় অসাধারন। এবং এই বিষয়ে তিনি ইসলামের যে খেদমত করেছেন, মুসলিম উম্মাহ তা স্বরন রাখবে অনেক বছর।
কিন্তু দুঃখ জনক বিষয় হলো ডাঃ জাকির নায়েক তার দাওয়াতের ক্ষেত্র, সীমা ও পরিমন্ডল অতিক্রম করেছেন। তিনি একজন দাঈ, কিন্তু তিনি মুফতি, মুহাদ্দিস বা মুফাসসির নন। যখন থেকে তিনি তার জ্ঞানের সীমা ও পরিধি অতিক্রম করেছেন তখন থেকেই তার কাছ থেকে অনেক অনাকাঙ্খিত ও ভুল বিষয় প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। মাসআলা মাসায়েল বা ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন না করে তার জন্য এই পথে অগ্রসর হওয়াটা কখনোই যৌক্তিক হতে পারেনা। প্রকৃত পক্ষে তিনি মাসআলা প্রদান ও ফিক্বহী সমাধানের যোগ্য নন। এজন্য তিনি যে সমস্ত মাসআলা বা ফতোয়া দিয়ে থাকেন তা অধিকাংশই মূলত আহলে হাদিসদের থেকে নেয়া। বাস্তব সত্য হল, এক্ষেত্রে তিনি ও তার প্রচার মাধ্যম সালাফী বা আহলে হাদীসদের একজন অগ্রগামী প্রতিনিধি। ডাঃ জাকির নায়েকের মত একজন দাঈর পক্ষে সালাফী বা আহলে হাদিসদের পথে পা বাড়ানোর যৌক্তিকতা আমাদের কাছে অস্পষ্ট। ডাঃ জাকির নায়েক ফিকহের বিষয়ে অভিজ্ঞ না হয়ে তিনি এই বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করায় সবচেয়ে বেশী বিতর্কিত হয়েছেন। তার এই সমস্ত ভুল মাসআলার ব্যাপারে সকলেই হয়ত অবগত। ফিকহের বিষয়ে বিভিন্ন ভুল মাসআলা দেওয়ার পাশা পাশি তিনি মাযহাব প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশেষত “Unity of Muslim Ummah” শিরোনামে লেকচারে বিভিন্ন ধরনের অমূলক উক্তি করেছেন। তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাযহাবকে ইসলাম বহির্ভূত একটি বিষয় প্রমানে অপচেষ্টা করেছেন।
সর্বশেষ কথা হল, বর্তমান সময়ে যারা ইসলামের হিতাকাঙ্খী রয়েছেন তাদের উচিৎ গৌন বিষয়গুলো পরিহার করে মুসলানদের অধঃপতনের মৌলিক কারনগুলো চিন্হত করা এবং সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা। অধিকাংশ মানুষ যখন নামায পড়েনা তখন কে আমিন আস্তে বলল বা জোরে বলল তা নিয়ে তুলকালাম সৃষ্টি করা মেধার অপচয় বৈ কিছুই নয়। ছোটখাট যে সকল বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে, সে বিষয়গুলোর মান এমন যে, তা নিয়ে তর্ক বিতর্ক তো দূরের কথা অনর্থক আলোচনা করাটাও যৌক্তিক নয়।
মুসলমানদের এই দুর্দিনে যারা ইসলাম পালনে আগ্রহী তাদেরকেও আবার এই সমস্ত গৌন বিষয়ে বিভক্ত করার চেষ্ঠা করা যে কতটা হীণ তা সহজেই অনুমেয়। । অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক মোটকথা সকল ক্ষেত্রেই আজ মুসলিম উম্মাহ পর্যুদস্ত। সুতরাং, সময়ের দাবী অনুযায়ী এ সমস্ত বিষয় গুলোতে তাদের উপকার করা, তাদের মাঝে নতুন নতুন মাসআলা মাসায়েল দিয়ে তাদেরকে বিভক্তি করার চেয়ে অধিকতর যৌক্তিক। অতএব, আমাদের উচিৎ হলো গৌন বিষয়গুলোকে পরিহার করে মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয়া।

শেয়ার করুন