শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০১৬

ঠিক যে কারনে আমি হিন্দু ধর্ম নিষিদ্ধ করার কথা বলেছিলাম

হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হল বেদ। বেদের ৪ টা ভাগ। ঋগবেদ, অথর্ববেদ, যজুর্জবেদ, সামবেদ। বেদে স্পষ্ট বলা আছে ঈশ্বর হলেন একজনই এবং ঈশ্বরের কোন প্রতিমূর্তি নেই। কিন্তু তাও আপনারা দেখবেন যে হিন্দুরা অনেক দেব দেবীর পুজা করে। আচ্ছা ঈশ্বর যদি একজনই হয়ে তবে হিন্দুরা কেন এক ঈশ্বরের উপাসনা বাদ দিয়ে অসংখ্য দেব দেবীর উপাসনা করে ? তখন হিন্দুরা আপনাকে বলবে যে এইসব দেব দেবী হচ্ছে ঈশ্বরের শক্তির বিভিন্ন রূপ। আচ্ছা তাইলে এইসব শক্তির কি করে মনুষ্য সত্তা থাকে এবং শক্তি রুপী দেব দেবীদের লিঙ্গভেদ হয় কিভাবে? আপনারাই বলেন শক্তির কি কখনো লিঙ্গভেদ অর্থ্যাৎ ছেলে মেয়ে হতে পারে ? শক্তিরুপী এইসব হিন্দুদের দেব দেবীদের মাঝে আবার পরিবার আছে, এবং নিজেদের মাঝে লড়াইও হয়। আবার শক্তির সামান্য একটি অংশের আরাধনা করার বদলে কেন হিন্দুরা পুর্ন ঈশ্বরের আরাধনা করে না ? প্রকৃতপক্ষে এই হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের কোন যৌক্তিক ধারনাই নেই। আজ পর্যন্ত কোন পন্ডিতই হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের কোন যৌক্তিক ধারনাই দিতে পারে নাই।
এই বেশ কিছুদিন আগে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২১ বছর পূর্তি হল। হিন্দুদের কথা হল আমাদের বাবরী মসজিদের জায়গায় একসময় নাকি হিন্দুদের রাম মন্দির ছিল। বাদশাহ বাবর নাকি রাম মন্দির ভেঙ্গে বাবরী মসজিদ তৈরি করেছিলেন। আচ্ছা আসুন এখন আমরা দেখি রাম লক্ষন বলতে কি আসলেই এই পৃথিবীতে কিছু ছিল কিনা এবং অযোধ্যার বাবরী মসজিদের ঐ জায়গায় কি আসলেই রাম মন্দির ছিল।
হিন্দু ধর্ম মতে সময় বা যুগ ৪ টা ধাপে বিভক্ত। সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, দ্বাপর যুগ, কলি যুগ। হিন্দুরা বিশ্বাস করে রাম লক্ষন যখন এই পৃথিবীতে এসেছিলেন তখন ছিল ত্রেতা যুগ। হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস মতে ত্রেতা যুগের সময় টা ছিল আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে। তাইলে রাম লক্ষন উনারা আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে এই পৃথিবীতে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু এই মানব সভ্যতার বয়স কখনই ১ লাখ বছরের বেশী হতে পারে না। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দ্বারা আজ থেকে ৪০ হাজার পূর্বের কোন সভ্যতার চিহ্নও খুজে পাওয়া যায় নি। তাইলে কিভাবে ১২ লাখ বছর আগে অযোধ্যা শ্রীলংকায় মানব সভ্যতা থাকতে পারে ? তাইলে আপনারা ঠিকই বুঝতে পারছেন যে হিন্দুরা যে বিশ্বাস করে আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে লঙ্কায় লঙ্কাকান্ড ঘটেছিল এগুলি বাল্মিকীর লেখা কিছু কিচ্ছা কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।
২০০৭ সালে তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের মুখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি তামিলনাড়ু ও শ্রীলংকার মধ্যে অবস্থিত সমুদ্রগর্ভের একটি প্রবাল প্রাচীর খনন করে জাহাজ চালানোর জন্য রাস্তা হ্রাস ও সুগম করার জন্য টেন্ডার আহবান করলে বিজেপিরা চিল্লাচিল্লী শুরু করে যে এতে নাকি তথাকথিত রাম সেতুর ক্ষতি হবে। এই রাম সেতু নিয়ে বিতর্কটা তখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টেও উঠেছিল। সেই সময় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতামত জানতে চায়। The Archaeological Survey of India (AIS) ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় যে রাম লক্ষন হল একটা মিথ। রাম লক্ষন বলতে যে কেউ এই ভারতে ছিল এই ব্যাপারে কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নত্ত্বাত্তিক নিদর্শন নেই। আর তথাকথিত রামসেতুর ব্যাপারে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সুপ্রীম কোর্ট কে বলে- “it’s a natural formation made of shoals and sand bars. অর্থাৎ রাম সেতু হল কিছু মাছের ঝাঁক ও বালির সমষ্টি ছাড়া আর কিছু না। হ্যা আর এই খবরটাও ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছিল সেই ২০০৭ সালে। আপনারা এই লিংকে যেয়ে রাম লক্ষনের ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের বক্তব্যটা পড়তে পারবেন।
আর মজার ব্যাপার হল সুপ্রীম কোর্টে রাম সেতুর ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের এই রিপোর্ট টি পেশ করার পর তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি উনার সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেন- “সূর্য চন্দ্র যেরকম সত্য ঠিক তেমনি সত্য হল এই পৃথিবীতে রাম লক্ষন রাবন বলতে কিছু ছিল না। “
আপনারা কি জানেন সেই ২০০৭ সালেই খোদ নাসা থেকেই বলা হয়েছে যে মালাউন হিন্দুরা রাম সেতুর ব্যাপারে যে ছবি গুলি অনলাইনে শেয়ার করে সেগুলি কোনটাই নাসার কোন অভিযাত্রী তুলে নাই। শুধু তাই নয় যাকে হিন্দুরা রামসেতু বলছে সেটাকে স্পষ্ট ভাবে নাসা একটা ৩০ কিলোমিটারের পক প্রনালী বলেছে যেই পক প্রনালীর মাঝে অসংখ্য প্রবাল শৈবাল বালু ও ডুবো পাহাড় রয়েছে। আর এরকম প্রাকৃতিক পক প্রনালী এই পৃথিবীতে বহুত আছে। আর নাসার এই খবরটা ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times সেই ২০০৭ সালে উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আপনারা এই লিংকে এ যেয়ে রামসেতুর ব্যাপারে নাসার বক্তব্যটা পড়তে পারবেন।
শুধুমাত্র তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধির কথাই নয় সারা পৃথিবীর প্রত্নতত্ত্ববিদরা গবেষনা করেও শ্রীলঙ্কায় রাবন নামক কোন রাক্ষসের সন্ধান পাননি। রামের পিতা রাজা দশরথ ও রামের মা রানী কোশলয়া নামে অযোধ্যায় কোন রাজা রানী ছিল কিনা এরকম কোন তথ্যও আজ পর্যন্ত কোন Archaeologist সারা অযোধ্যার মাটি খনন করে পায় নি। আর পাবেও বা কিভাবে ? রামায়ন মহাভারত এগুলি হল বাল্মিকী কৃত্তিবাস ওঝার লেখা কিচ্ছা কাহিনী। এগুলির কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নাই। হিন্দুদের দেবদেবীগুলির কারো ১০ টা হাত পা, কারো হাতির মত শূড়, কারো ৪ টা মুখ। আর সেই রামায়ন উল্লেখিত রাবনের নাকি যুদ্ধের সময় রাবন নাকি তার ১০টা মাথা বের করে যুদ্ধ করে।আচ্ছা আপনারাই বলেন এই পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো এরকম কোন জনগোষ্ঠী ছিল যে যাদের হাত পা মাথা ছিল অনেক গুলি। কিন্তু আপনারা দেখেন এই হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে বহু হাত পা চোখ কান মুখ গলা বিশিষ্ঠ দূর্গা কালী লক্ষী রামায়ন রাবন এরা নাকি এই পৃথিবীতে এক সময় রাজত্ব করেছে এবং নিজেদের ভিতরে মারামারিও করত। রামায়নের কয়েকটা সংস্করন পুরা ভারতে পড়ানো হয়। রামায়নের অনেক সংস্করনে বলা আছে যে রাম ও সীতা নাকি আপন ভাই বোন ছিল। আর অযোধ্যার যে জায়গায় বাবরী মসজিদ সেই জায়গায় ১১ শতক পর্যন্ত কখনো মানব সভ্যতা শুরুই হয়নি। ১১ শতকের পর বাবরী মসজিদের আশপাশের এলাকায় মানব সভ্যতা শুরু হয়। ১২ লাখ বছর আগের ত্রেতা যুগ তো দুরের কথা এমনকি গুপ্ত যুগেও অযোধ্যায় উল্লেখ করার মত কোন জনগোষ্ঠী ছিল না।
ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৭৫ সালে ‘রামায়ণ বর্ণিত স্থানগুলোর প্রত্নতত্ত্বিক নির্ণয়’ নামক এক প্রজেক্টের কাজ শুরু করে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক ডাইরেক্টর বি বি লাল ছিলেন এই উদ্যোগের সূচনাকারী। বিশেষজ্ঞরা বাল্মীকির রামায়ণে উল্লিখিত পাঁচটি শহরে অনুসন্ধান চালান। বাবরি মসজিদের পেছনেই ১১ মিটার গভীর গরিখা খনন করা হয়। অনুসন্ধানের ফলাফল সংবলিত তিন খণ্ড জার্নাল প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক নীলাগুন মুখোপাধ্যায় (সানডে মেইল, ২০ নভেম্বর ১৯৮৮) এবং পঙ্কজ পাচাউরি (ইন্ডিয়া টুডে, ১৫ জানুয়ারি ১৯৮৯) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানের ফলাফলের সারাংশ প্রকাশ করেন। নিবন্ধ দু’টির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, উল্লিখিত স্থানটি রামের জন্মস্থান নয়। অথচ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য হচ্ছে, বাবরের গভর্নর মির বাকি অযোধ্যায় একটি মন্দির ধ্বংস করে ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাদের ধারণা, এই মন্দিরটিকে গুপ্ত যুগের সম্রাট বিক্রমাদিত্য খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, গুপ্ত যুগে সেখানে কোনো বসতি ছিল না। অযোধ্যা ও তার আশপাশে খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত কোন জনবসতি ছিল না। পঙ্কজ পাচাউরির রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, ‘যে অযোধ্যায় যে ১৪টি স্থানে খননকাজ চালানো হয়েছে সেখানে রামের কোন মূর্তি পাওয়া যায়নি।’ বিতর্কিত স্থানটিতে খননকাজের ফলাফল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে (Journal of Indian Archaeology, 1976-77)। ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় ৫ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে বিশিষ্ট লেখক গৌতম রায় ‘মন্দির না মসজিদ’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন, লঙ্কাকাণ্ড এ যুগে আর লঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয় না। সে জন্য রামভক্তরা বেছে নিয়েছে খোদ অযোধ্যাকেই। রামায়ণে যে অযোধ্যার বর্ণনা আছে, ‘বাস্তবের অযোধ্যায় ১২ লাখ বছর আগের ত্রেতা যুগ কেন, কোনো যুগেই সে ধরনের কোন নগর সভ্যতার অস্তিত্ব অযোধ্যায় ছিল না। এমনকি আজো নেই। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ পুঙ্খানুপুঙ্খ খননকার্য চালিয়ে দেখেছে, এমনকি গুপ্ত যুগেও এই অযোধ্যায় মনুষ্য বসতির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বস্তুত গোটা অযোধ্যা বা তার চার পাশে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতক পর্যন্ত মানুষের পা-ই পড়েনি। বাবরি মসজিদের পেছনে ও বাবরী মসজিদের চারপাশে রাম মন্দির বা তার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া তো দূরের কথা, বস্তুত পুরা অযোধ্যাজুড়ে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করেও রামের কোনো মূর্তিরও হদিস মেলেনি। যদিও অযোধ্যা রাজ্যে বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের প্রসারের অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে কিন্তু পুরা অযোধ্যাতেও রামের কোন মূর্তি পাওয়া যায় নি। শুধু গৌতম রায়ই নয়, বহু হিন্দু লেখক অযোধ্যার বাবরি মসজিদটি যে রাম জন্মভূমির স্থান নয় এবং আগেও এখানে কোন মন্দির ছিল না, তা স্বীকার করেছেন। আর যেই রাম সেতু নিয়ে এত চিল্লাচিল্লী এটা একটা সামুদ্রিক প্রবাল রাস্তা ছাড়া আর কিছুই না।
রাম সেতু বলতে যে কিছু নাই তা আরো জানতে আপনারা এই লিংকে ক্লিক করুন
তাইলে আপনারা এখন ভাল করেই বুঝতে পারছেন যে এই রাম লক্ষন রামায়ন রাবন এগুলি কিছু বুজরুকি ঘটনা ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু ইসলাম ধর্মের সব কিছুই সত্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম, হযরত মুসা আলইহিস সাল্লাম, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম উনারা সবাই আমাদের মতই মানুষ ছিলেন, উনারা এই পৃথিবীতে এসে রিসালতের মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন এতে কোন সন্দেহ নাই। হাজার হাজার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সাক্ষী যে ইসলামের প্রত্যেক নবী রাসুলরাই মানব জাতির সদস্য ছিলেন এবং এই মানব সমাজে বসবাস করেই দ্বীন ইসলামের কাজ করে গেছেন।
ইসলামের ধর্ম বিশ্বাস যে কোন অলীক কল্প কাহিনী নয় তা জানতে আপনারা আমার এই নোট টি পড়ুন
এখন যেই রাম মন্দিরের কথা বলে আধুনিক লঙ্গাকান্ড ঘটিয়ে আমাদের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হল, বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পর আমাদের ভারতের মুসলমান ভাইয়েরা প্রতিবাদ করার কারনে হিন্দুরা হাজার হাজার আমাদের ভারতীয় মুসলমান ভাইদের কে হত্যা করল, শত শত মুসলিম মেয়েদের কে এই হিন্দুরা রাজপথে প্রকাশ্যে ধর্ষন করল কিন্তু এই রাম লক্ষন রাবন হল বাল্মীকির লেখা কিচ্ছ কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না। এর চেয়ে দুঃখ জনক আর কি হতে পারে যে ১৯৯২ সালের দিকে প্রাগৌতাহাসিক একটা উপন্যাসের কথার উপর ভিত্তি করে একটা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী একটা প্রাচীন মসজিদ কে ভেঙ্গে ফেলল, তারপর হাজার হাজার মানুষ কে হত্যা করল আর শত শত মানবীকে ধর্ষন করল। উগ্রবাদী হিন্দু দল বিজেপি কর্তৃক যখন ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয় তখন এই দেশের আলেম সমাজ রাস্তায় নেমে সংখ্যালঘু হিন্দুদের রক্ষা করতে উদ্যোগী ভুমিকা পালন করে। ফলশ্রুতিতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পরও বাংলাদেশে একটা হিন্দু ছেলেও কোন মুসলমান কর্তৃক নিহত হয় নি আর কোন হিন্দু নারীও কোন মুসলমান ছেলে কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া তো দূরের কথা। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে ভারতের ব্রাক্ষন পুরাহিতরা সাধারন হিন্দুদের কে ভারতের মুসলিম নিধনে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিল। পরিসংখ্যান বলে যে ভারত স্বাধীন হবার পর কাশ্মিরের মুসলিম নারী সহ পুরা ভারতে প্রায় ৩ লাখ মুসলিম নারী ভারতের হিন্দু ধর্ষিত হয়েছে, তথাকথিত হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার ফলে প্রায় ৫ লাখ মুসলমান যুবক হিন্দু কর্তৃক নিহত হয়েছে। যদিও মিডিয়ায় এগুলিকে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বলে অভিহিত করা হয় কিন্তু আসলে এইসব দাঙ্গায় কখনোই কোন মুসলমান কর্তৃক কোন হিন্দু মারা গেছে তা শুনা যায় নি, আর কোন হিন্দু মেয়ে মুসলিম কর্তৃক ধর্ষন হওয়া তো দূরের কথা। তাইলে আপনারাই বলেন এগুলিকে কি আপনি দাঙ্গা বলবেন নাকি খুব ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্র যন্ত্রের সাহায্যে একটা সংখ্যা গরিষ্ঠ জাতি একটা সংখ্যালঘু জাতিকে আসতে আসতে নিঃশেষ করে দিচ্ছে সেটা বলবেন।
আপনি যখনই বাবরী মসজিদ ধ্বংস নিয়ে কোন কথা বলতে যাবেন ঠিক তখনই হিন্দুরা বলা শুরু করে যে সুলতান মাহমুদ তো সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিল। তখন আমি লক্ষ্য করেছি যে অনেক মুসলমানই তখন চুপ হয়ে যায়। সুলতান মাহমুদের জীবনীর উপর লেখা এনায়েত উল্লাহ আল তামাসের লিখিত বিখ্যাত ইতিহাসিক বই “সুলতান মাহমুদ গজনবীর ভারত অভিযান” থেকে আমরা জানতে পারি যে তৎকালিন সোমনাথ মন্দিরের পুরাহিতরা একজন মুসলিম তরুনীকে ঐ মন্দিরের কথিত ভগবানের অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় ভগবানের সামনে ধর্ষণ ও বলি দেওয়ার চেষ্টা করলে মুসলিম তরুণীটি তার সম্ভ্রম রক্ষার্থে সোমনাথ মন্দিরের কুপে আত্মহত্যা করে। এই খবরটি জানতে পেরে সুলতান মাহমুদ গজনী থেকে শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এসে সোমনাথ মন্দির আক্রমন করে এবং তা সম্পূর্ণ রুপে ধবংস করেন, এবং এই সোমনাথ মন্দিরের মূর্তির কিছু খণ্ডাংশ তৎকালিন দামেস্কের খলীফাকে উপহার হিসাবে প্রেরন করেন। এর থেকে বুঝা যায় যে সুলতান মাহমুদ সুদীর্ঘ শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেছেন না কোন স্বর্ণ অলংকারের লোভে না কোন মসজিদ প্রতিষ্ঠার লোভে না কোন সাম্রাজ্য দখলের লোভে। সোমনাথ মন্দিরের স্বর্ণ অলংকার গনিমতের মাল হিসাবে নিয়ে যাওয়া হয়। যা প্রত্যেকটি যুদ্ধে বিজিত দল বা জাতি করে থাকে। এই ২০১৩ সালেও হিন্দুরা তাদের মা কালীর সামনে ছোট শিশুদের কে বলি দেয়। তাই ১০২৫ সালে একটা মুসলিম মেয়েকে সোমনাথ মন্দিরের বিগ্রহের সামনে বলি দেয়া হিন্দুদের জন্য কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।
সুলতান মাহমুদ এবং সোমনাথ মন্দির নিয়ে হিন্দুদের সকল অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব আমি এইখানে দিয়েছি
ভারতের এই মুসলিম নিধন আজ থেকে নয়। ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করার পর পরই যখনই হিন্দুরা ভারতের শাসন ক্ষমতা পেয়েছে তখন থেকেই এই মুসলিম নিধন শুরু করেছে। সবচেয়ে কষ্ট লাগে যখন দেখি ভারতের ব্রাক্ষন পুরাহিতরাই এই মুসলিম নিধনে সাধারন হিন্দুদের কে উৎসাহ দেয়। হিন্দুদের কীর্তন রথ যাত্রা টাইপ যেইসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় সেইসব অনুষ্ঠানে ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা একটা জ্বালাময়ী ভাষন দেয় যে তোমরা মুসলিম হত্যা করবে তাইলে খুব সহজেই স্বর্গে যেতে পারবে। প্রায়ই দেখা যায় যে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলি শেষ হবার পরপরই মালাউন হিন্দুরা একযোগে আমাদের মুসলিম ভাইদের কে হত্যা করার মিশনে নেমে পড়ে। বাবরি মসজিদ ভাঙা শুরু হয়েছিল লালকৃষ্ণ আদভানির আয়োজিত রথযাত্রার সেই সমাবেশ থেকে। রথযাত্রায় লালকৃষ্ণ আদভানির সেই ঐতিহাসিক ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য দেয়ার পরপরই মালাউন হিন্দুরা এক যোগে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা শুরু করে। এখন আমি আপনাদের কে ২ টা জ্বলজ্যান্ত উদাহরন দিব। বরুন গান্ধী উনি হলেন ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থ্যাৎ বিজেপির সাধারন সম্পাদক। বরুন গান্ধী হলেন ইন্দিরা গান্ধীর নাতী ও রাহুল গান্ধীর আপন চাচাত ভাই। গান্ধী পরিবারের একজন ছেলে বিজেপির রাজনীতিতে জড়িত হবার কারনে স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের মিডিয়ায় সেই সময় বরুন গান্ধী কে নিয়ে অনেক তোলপাড় শুরু হয়। আপনারা কি জানেন এই বরুন গান্ধী প্রকাশ্যে জনসভায় ভারতের মুসলমানদের কে হত্যা করতে হিন্দুদের কে উৎসাহ দেয়। বরুন গান্ধীর কথা হল ভারতের মুসলমানরা আরব আফগানিস্তান তুরস্ক থেকে এসেছে। তাই ভারতের মুসলমানদের কে হয় আমাদের হত্যা করতে হবে নয় তাদের কে আবার হিন্দু বানিয়ে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আমি এখন YouTube থেকে বরুন গান্ধীর একটি জনসভার ভিডিও লিংক আপনাদের কে দিব। আপনারা এই লিংক http://youtu.be/4kiQ5pnV4zQ এ গেলে মুসলমানদের হত্যা করার ব্যাপারে বরুন গান্ধীর খোলাখুলী আহবান দেখতে পাবেন।বিশ্ব হিন্দু পরিষদের VHP এর সিনিয়র নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া যেখানে বক্তব্য দেয় সেখানেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেঁধে যায়। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী নেতা হল এই Praveen Togadia।ভবিষ্যতে হায়দারবাদ হয় আরেক গুজরাট অথবা অযোধ্যা হবে এই কথা খোলাখুলী প্রবীন তোগদিয়া তার বিভিন্ন জনসভায় বলে। YouTube এর এই লিংক http://youtu.be/_bNFN5j0dAU এ যেয়ে Praveen Togadiaএর এই ভিডিও টা দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন যে মুসলমানদের হত্যা করার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা কিভাবে সাধারন হিন্দুদের কে উৎসাহ দিচ্ছে। আচ্ছা এখন আপনারাই বলেন বিজেপির একজন কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক যদি প্রকাশ্যে খোলাখুলী ভাবে এই ভাবে ভারতের হিন্দুদের কে আমাদের মুসলমান ভাইদের কে হত্যা করতে উৎসাহ দেয় তাইলে মাঠ পর্যায়ের বিজেপীর নেতাদের মন মানসিকতা কি ভয়ংকর ! Google এ আপনারা Hate Speech about isLam লিখে search দিলেই বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনেক বড় বড় নেতার ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য পাবেন।
২০০২ সালে যখন ট্রেনে আগুন লাগানোর মিথ্যা অভিযোগে গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গুজরাটের মুসলমানদের কে কচুকাটার মত হত্যা করা হচ্ছিল আর আমাদের মুসলিম মেয়েদের কে হিন্দুরা ধর্ষন করে তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলছিল তখন গুজরাটের মন্দিরের ব্রাক্ষ্ণন পুরাহিতরা মন্দিরের মাইক দিয়ে ঘোষণা করে বলছিল যে যে যত বেশী মুসলমান হত্যা করতে পারবে আর মুসলিম মেয়েদের কে ধর্ষন করতে পারবে স্বর্গে সে তত উচ্চ স্থান লাভ করবে। একটানা ৩ দিন ৩ রাত গুজরাটের মন্দিরের ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা সাধারন হিন্দুদের সাথে মিলে মিশে আমাদের মুসলিম ভাইদের কে হত্যা করেছিল ও আমাদের মুসলিম বোনদের কে ধর্ষন করেছিল। ভারতের প্রত্যেকটা দাঙ্গার পিছে এই মন্দিরের ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা জড়িত। এখন যেই ধর্মের পুরাহিতরা নিজেরাই তার অনুসারীদের কে নিরীহ মানবদের কে হত্যা করতে উত্‍সাহ দেয় সেই ধর্ম তো এই পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখার কোন প্রয়োজন আমি দেখি না। শুধু তাই নয় ভারতের যতগুলি উগ্রপন্থী দল আছে যেমন বিজেপি, বজরংগী, শিবসেনা এরা সব উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত। মন্দিরের ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা সরাসরি এই সব উগ্রপন্থী দল বিজেপি, বজরংগী, শিবসেনার সাথে জড়িত।
আচ্ছা আমি এখন হিন্দুদের কে বলছি বাংলাদেশে যেই ইসলামীক রাজনৈতিক দল গুলি আছে যেমন জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, হিযবুত তাহরীর আপনারা কি পারবেন এই সব ইসলামিক রাজনৈতিক দলের কোন নেতার এমন কোন ভিডিও দেখাতে যেইখানে উনারা বাংলাদেশের মুসলমানদের কে বলছে যে তোমরা হিন্দুদের কে হত্যা কর, হিন্দু মেয়েদের কে ধর্ষন কর ? না আপনারা কখনই পারবেন না। কারন ইসলাম কখনই অনুমতি দেয় না নিজ দেশের অমুসলিম নাগরিকদের কে হত্যা করতে। আজ পর্যন্ত কখনই ধর্মীয় কারনে বাংলাদেশের কোন মুসলমান কখনই কোন হিন্দু কে হত্যা করে নাই আর কোন হিন্দু মেয়েকে ধর্ষন করা তো দূরের কথা। বাংলাদেশের সকল ইসলামিক রাজনৈতিক দলের কথা হল হিন্দুরা এই দেশের নাগরিক। হিন্দুরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে এই বাংলাদেশেই থাকবে। আচ্ছা আপনারা কি কখনই দেখেছেন কোন মসজিদের ইমাম বা ওয়াজ মাহফিলে বয়ানরত কোন হুজুরকে কখনো বলতে যে আপনারা হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেন, হিন্দু মেয়েদের কে ধর্ষন করেন ? না কোন মসজিদের ইমাম বা কোন আলেম উলামা কখনই এইকথা বলে নাই যে আপনারা মুসলমানরা হিন্দুদের কে হত্যা করেন বা হিন্দু মেয়েদের কে ধর্ষন করেন।
ভারতের হিন্দুরা ১০ টা রাম মন্দির করুক এতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। কিন্তু উনারা আমাদের বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে কেন তাদের রাম মন্দির বানাবে ? এই বিশাল ভারতে কি জমির এতই অভাব পরল যে আমাদের মুসলমানদের মসজিদ ভেঙ্গে ভারতের হিন্দুরা তাদের রাম মন্দির বানাবে ? হিন্দুরা যদি সত্যিই মানুষের বাচ্চা হত তাইলে তারা ঠিকই বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পর মুসলিম বিশ্বের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমাদের বাবরি মসজিদ আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিত। কিন্তু আজ পর্যন্ত এখনো আমরা আমাদের বাবরী মসজিদ ফিরে পাই নি। বাবরী মসজিদের মেহরাবে হিন্দুরা তাদের রামের মূর্তি স্থাপন করে সেই খানে রাম লক্ষনের পূজা করে। ১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যতগুলি হিন্দুদের মন্দির ভেঙ্গে ছিল দেশ স্বাধীন হবার হিন্দুরা তাদের প্রত্যেকটা মন্দির কেই ফেরত পেয়েছিল। আমরা মুসলমানরা হিন্দুদের একটা মন্দিরের জমিও দখল করি নাই।
আপনি যখনই ভারতের মুসলিম নির্যাতন নিয়ে অনলাইনে আলোচনা করতে যাবেন ঠিক তখনই দেখবেন কুলাঙ্গার নাস্তিক ব্লগার আর হিন্দুরা বলা শুরু করবে যে বাংলাদেশেও নাকি হিন্দুদের উপর অনেক অত্যাচার হয়! আচ্ছা আমরা এখন ভারতের হিন্দু কর্তৃক মুসলিম নির্যাতন আর বাংলাদেশে মুসলমান কর্তৃক তথাকথিত হিন্দু নির্যাতনের একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা করি। নিরপেক্ষ পেপার পত্রিকা আর আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা সবাই জানেন যে ভারতের হিন্দুরা যখন মুসলমানদের উপর নির্যাতন শুরু করে তখন হিন্দুরা হাজারে হাজার মুসলমান যুবক কে হত্যা করে, হাজার হাজার মুসলিম নারীকে ধর্ষন করে তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যদিও মিডিয়ায় এগুলিকে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বলে অভিহিত করা হয় কিন্তু আসলে এইসব দাঙ্গায় কখনোই কোন মুসলমান কর্তৃক কোন হিন্দু মারা গেছে তা শুনা যায় নি, আর কোন হিন্দু মেয়ে মুসলিম কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া তো দূরের কথা। তথাকথিত এইসব দাঙ্গার পরে হাজার হাজার মুসলিম পরিবার পথে বসে এবং বাকী জীবন কোন বস্তীতে কাটিয়ে দেয়। আপনারা কি জানেন সেই ২০০২ সালের গুজরাটের দাঙ্গার পর গুজরাটের মুসলমানরা এখনো তাদের বাড়িঘর ফিরে পায় নি। গুজরাট শহরের অদূরে গুজরাটের মুসলমানরা এখনো বস্তিতে থাকে, কিন্তু যেই মুসলমানদের আগে সবারই গুজরাট শহরে বাড়িঘর ব্যবসা বাণিজ্য ছিল। এই কয়েকমাস আগে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থ উত্তর প্রদেশের মুজাফফারবাদের একটা মুসলমানও এখনো তার বাড়িঘর ফিরে পায় নি। আমাদের উত্তর প্রদেশের সব মুসলমান ভাই বোন এখনো মুজাফফারবাদের রিফিউজি ক্যাম্পে আছে। উত্তর প্রদেশে মুজাফফারবাদের মুসলমানরা যে গুজরাটের মুসলমানদের মত সারা জীবন উদ্বাস্তু হয়ে থাকবে এতে আর কোন সন্দেহ নাই। আচ্ছা সেই তুলনায় বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কয়টা হিন্দু মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে বা কয়টা হিন্দু ছেলে মুসলিম কর্তৃক নিহত হয়েছে ? শুধুমাত্র ২০০১ সালে BNP যখন ক্ষমতায় আসে ঠিক তখন উত্তরবঙ্গ আর দক্ষিন বঙ্গের কয়েকটি জেলা মিলে মাত্র ২০ জনের মত হিন্দু নারী ধর্ষিত হয়েছিল। ২০০১ সালে যেইসকল হিন্দু পরিবার সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল শুধু তারাই ছাত্রদল যুবদল কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছিল। আর ২০০১ সালের সেই হিন্দু নির্যাতন টা ছিল রাজনৈতিক কারনে কোন ধর্মীয় কারনে না। আর সেই সময়ে কিন্তু অনেক মুসলিম আওয়ামীলীগ পরিবারও BNP কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছিল। হিন্দুরা খালি এক পূর্ণিমার কথাই আমাদের কে বলে। ঐ একটা গল্প আছে না কুমির তার বাচ্চা গুলিকে পড়াশুনা শিখানোর জন্য শিয়ালের কাছে বর্গা দিয়েছিল। তারপর শিয়াল কুমিরের একটা বাচ্চা বাঁচিয়ে রেখে কুমিরের সব গুলি বাচ্চা খেয়ে ফেলেছিল। কুমির যখন শিয়ালের কাছে তার বাচ্চাদের কে দেখতে আসত তখন শিয়াল তার একটা বাচ্চাকেই বারবার আনা নেওয়া করে কুমির কে বুঝ দিত যে তোমার সব গুলি বাচ্চাই আমার কাছে ভাল আছে এবং পড়াশুনা শিখছে ঠিকমত। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের হিন্দুরা ঐ পূর্ণিমার ধর্ষনের কথাই আমাদের কে বারবার শুনায়। কিন্তু আমাদের ভারতে এই ৩ লাখের মত পুর্নিমা আছে যাদের অনেক কে আমরা দাফনও করতে পারি নাই। মালাউন হিন্দুরা আমাদের মুসলিম বোনদের কে ধর্ষন করে তরপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। অর্থ্যাৎ শুধুমাত্র ধর্মীয় কারনে কখনই বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে কোন হিন্দুকে হত্যা করা হয় নি বা কোন হিন্দু মেয়েকে ধর্ষনও করা হয় নি। বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের মুসলমানদের থেকে লাখ লাখ গুন ভাল আছে। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি আমাদের মুসলমানদের এই ভাল ব্যবহারের প্রতিদান হিন্দুরা প্রতিনিয়ত অনলাইনে আল্লাহ ও তার রাসূল কে গালিগালজ করে দিচ্ছে।
ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন
শাফিউর রহমান ফারাবী


শেয়ার করুন