রবিবার, জুন ০৪, ২০১৭

ঝুট ব্যবসা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি

কালিয়াকৈরে কারখানার পরিত্যক্ত মালামাল (ঝুট) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে গতকাল যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাটিসোঁটা নিয়ে চন্দ্রা সিপি বাংলাদেশ কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় একটি কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। এ সময় লাঠি মহরা, কারখানার গেটে হামলা ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে একপক্ষ। শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন। এ ঘটনা চলাকালে কারখানার আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের আটাবহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন। তিনি ভাই ভাই ট্রান্সপোর্ট ও আনিছ এন্টারপ্রাইজের মালিক। তিনি গত বছর ধরে চন্দ্রা এলাকার সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড পোলট্রি খাদ্য তৈরি কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। সম্প্রতি নতুন করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। এ লক্ষ্যে গত বুধবার কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই কারখানায় যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা যুব লীগের আহ্বায়ক হিরু মিয়া, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। নেতা-কর্মীরা তাঁকে ওই কারখানায় ব্যবসা করতে নিষেধ করে চলে আসেন।
এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই কারখানায় যান আবুল হোসেন। দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই কারখানার গেটে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা আবুল হোসেনকে কারখানা থেকে বের করে দিতে বলেন। কিন্তু আবুল হোসেন বের না হওয়ায় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা কারখানার প্রধান গেটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কারখানার সামনে থাকা কয়েকটি যানবাহনের গ্লাস ভাঙচুর করে। আবুল হোসেন প্রাণভয়ে কারখানার পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যান।
এদিকে আবুল হোসেনকে মারধর করা হচ্ছে এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শুনে আবুল সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আবুল হোসেনের লোকজন পিছু হটে চলে যায়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিরু মিয়া বলেন, 'গত বুধবার কয়েকজন নেতা-কর্মী নিয়ে ওই কারখানায় গেলে আবুল হোসেন অশোভন আচরণ করেন। এর প্রতিবাদ জানাতে নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার ওই কারখানার সামনে বিক্ষোভসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।'
আটাবহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, 'হিরু, আতিকসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই কারখানায় গিয়ে আমাকে ব্যবসা না করার জন্য হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার ওপর হামলা চালাতে আবার ওই কারখানায় আসেন। এ সময় আমার লোকজন এগিয়ে এলে তাদের মারধর করা হয়।'
কালিয়াকৈর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, 'পুলিশ ওই কারখানায় যাওয়ার আগেই লোকজন চলে গেছে। কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।'
logo
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০
কালিয়াকৈর


শেয়ার করুন