নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৩ দিন আগে
স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তার মায়ের
বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও এতদিন তা প্রকাশ হয়নি।
গাজীপুরের
নারী ও শিশু র্নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে এলাহী ভূঁইয়া গত
২৫ মে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার পশু হাসপাতাল রোডের জামাল উদ্দিনের ছেলে ও
সিরাজদিখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান এবং তার মা আনোয়ারা
ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার
নথিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ১০ লাখ
টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে গাজীপুর মহানগরীর চতর এলাকার মো. জাহাঙ্গীর
হোসেনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর জাহাঙ্গীর তার মেয়ের
সুখের কথা ভেবে ১১ লাখ টাকায় টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র মেয়ে
জামাতাকে উপহার দেন। এর কিছুদিনপর বাড়ি করার জন্য জমি দাবি করলে তিনি ১৫
লাখ ২৯ হাজার টাকায় গাজীপুর মহানগরীর নীলেরপাড়া এলাকায় মেয়েকে জমি কিনে
দেন।
পরবর্তী সময়ে এসআই আসাদুজ্জামান
ফ্ল্যাট ক্রয় করার জন্য আরো ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না
দেয়ায় ওই পুলিশ সদস্য তাহমিনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে
থাকে। এ বিষয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারী আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করলে এসআই
আসাদুজ্জামান তাহমিনাকে রেখে ২য় বিয়ের হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছুদিন পর
আসাদুজ্জামান গোপনে শিলা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে। সে সংসারে একটি মেয়ে
সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তাহমিনা প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। এ
ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা দিতে গেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য হওয়ায় তা
গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ।
পরে তাহমিনার
বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীপুরের নারী ও শিশু র্নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
এসআই আসাদুজ্জামান ও তার বাবা, মা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
করেন। বিষয়টি তদন্ত করেন জেলার সিনিয়র সহকারী জজ (লিগাল এইড) ইসমেত জিহান।
গত ২১ মে দেওয়া প্রতিবেদনে তিনি আসাদুজ্জমান ও তার মায়ের বিরুদ্ধে
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা আদালতে জানালে ২৫ মে তাদের বিরুদ্ধে
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন