উপযুক্ত তদারকি ব্যবস্থার অভাবে কিশোরগঞ্জে বিএডিসির আমন বীজ কালোবাজারিদের
নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আর এ কারণে সরকার নির্ধারিত ৩৪০ টাকা মূল্যের ১০
কেজির বীজের বস্তা প্রকাশ্য বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিলারদের কাছে না পেয়ে দিশেহারা কৃষকরা দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি মূল্যে এ
বীজ কালোবাজারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে ময়মনসিংহের নান্দাইলে
বিএডিসির আমন ধানের বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ
শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড পুকুরপাড় এলাকায় এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর
দোকান থেকে কালোবাজারির জন্য মজুদকৃত ১৯০ বস্তা আমন বীজ আটক করে সাধারণ
কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ৩৪০ টাকা বস্তা বিক্রি করালেন কিশোরগঞ্জ সদর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসউদ। এর আগে অধিক মূল্যে আমন
বীজ বিক্রির অভিযোগের শনিবার হোসেনপুর ও কটিয়াদী উপজেলার দুই বীজ ডিলারকে
৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর
ও কটিয়াদি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ উদ্বেগজনক চিত্র
দেখা গেছে। এ সময় সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের নীলগঞ্জ বাজারে ইউনিয়নের
কালাইহাটি গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ডিলারদের
কাছে ঘুরাঘুরি করে না পেয়ে বাজারের সার কীটনাশক ব্যবসায়ী আ. হেকিমের দোকান
থেকে তিনি এক বস্তা আমন বীজ ৮৫০ টাকায় কিনেছেন। একই সময় ইউনিয়নের বেত্রাটি
গ্রামের কৃষক আ. মোতালিবের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, একই বাজারের
সার-কীটনাশক ব্যবসায়ী ফাইজুল ইসলামের দোকান থেকে তিনি ২ বস্তা আমন বীজ ১৩০০
টাকায় কিনেছেন। বীজ বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দাম দিয়ে তারা বাইরে থেকে এ
আমন বীজ সংগ্রহ করেছেন, আর এ জন্য লাভ করে তারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম
জানান, কিছু কিছু এলাকায় অতিরিক্ত মূল্যে বীজ বিক্রির ঘটনা ঘটেছে সত্য। তবে
এ জন্য হোসেনপুর ও কটিয়াদি উপজেলায় দু’জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে
সাজাও দেয়া হয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিএডিসির আমন ধানের বীজের তীব্র সংকট
দেখা দিয়েছে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর বীজের কৃত্রিম সংকট
সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে অধিক মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে। কৃষকরা বীজ ধানের
জন্য বিএডিসির বীজ ক্রয় কেন্দ্র ও ডিলারদের দোকানে ধরনা দিয়েও বীজ পাচ্ছে
না। বিএডিসির ১০ কেজি ওজনের বীজের বস্তা ৩৪০ টাকা মূল্যে বিক্রি করার নিয়ম
থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যে বস্তা অতি গোপনে বিক্রি
করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন
জানান, চলতি আমন মৌসুমে নান্দাইল উপজেলায় ৫৫০ টন আমন বীজের চাহিদা রয়েছে।
এর মাঝে ১৫ ভাগ বিএডিসি কর্তৃক ১০৩ টন বীজ সরবরাহ করার কথা কিন্তু ৪ঠা
জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন ডিলালের কাছে ৫৭ টন বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
অপরদিকে বিভিন্ন বীজ কোম্পানি কর্তৃক ১৫ ভাগ বীজ বিক্রির বিধান রয়েছে। বাকি
৭০ ভগি বীজ কৃষকের নিজ দায়িত্বে উৎপাদন করার কথা। তিনি আরও জানান, ২২
হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, কৃষি অফিসার মো. নাসির
উদ্দিনসহ পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় ডিলারদের দোকানে লাইন দিয়ে সরকারি
মূল্যে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বীজ না থাকায় অধিকাংশ কৃষক
বীজ পায়নি। বিএডিসি বীজ ময়মনসিংহের উপপরিচালক আইয়ূবউল্লাহ জানান, চলতি বছর
বিএডিসির বীজ উৎপাদন খুবই কম। ফলে চাহিদা মোতাবেক বীজ সরবরাহ করা সম্ভব
হচ্ছে না। একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন বিভিন্ন কোম্পানির বীজের মান নিয়ে তাদের
যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে এবং এই বীজ ব্যবহার করে বিগত সময়ে প্রতারিত হয়েছে।
চলতি মৌসুমেও তাদের প্রতারিত হবার আশঙ্কা রয়েছে।
খবর বিভাগঃ
কৃষি
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন