বুধবার, মার্চ ২৩, ২০১৬

আদি বাংলার ইতিহাস (প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্ব ১০৩

আদি বাংলার ইতিহাস
(প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্ব ১০৩
* বর্ণ ও শ্রেণী বিভাজন*
বর্ণ
বাহ্যিক ক্রিয়া কান্ড ছাড়াও মানুষের চরিত্র ও স্বভাব গঠনে কিছু কিছু অন্তঃর্নিহিত নীতিমালা তৈরি হয়েছে যা মানুষের সঙ্গে বস্তু জগত ও মনোজগতের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। মানুষের কাছে তার জীবন যতখানি মূল্যবান, এই জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বস্তুর সরবরাহও তেমনি মূল্যবান। এই সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অর্থাৎ উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যক্তি জীবনকে সম্পৃক্ত করার জন্য অতি আদিম কাল থেকেই কিছু নীতিমালা মানুষ মেনে চলে আসছে, যা সার্বিকভাবে সব সময়েই ন্যাংসঙ্গত ছিল না, যেমন- কায়িক শ্রমের বিনিময়ে জীবিকা সংগ্রহ করার অধিকার সব মানুষের ছিল কিন্তু সময়ে সময়ে শ্রমিকের এই অধিকার কায়েমি স্বার্থান্বেষী দল কর্তৃক ক্ষুনড়ব হয়েছে। ক্ষুন্ন হওয়া ও ক্ষুন্ন করার মধ্য থেকেই সৃষ্টি হয়েছে শ্রেণী সৃষ্টি করার প্রাথমিক পদক্ষেপ। এই ক্ষুন্ন করার সামর্থ যত বাড়তে থাকে ততই উচ্চনীচ হওয়ার দূরত্বও সেই পরিমাণে সৃষ্টি হতে থাকে। একদল সাধারণ শ্রমিক থেকে অনড়বদাস, ভূমিদাস, ক্রীতদাসে পরিণত হয় আর তার বিপরীতে অন্যদল শ্রমিক খাটিয়ে দখলকৃত ভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে উদ্বৃত্ত সম্পদের মালিক হয়েছে। এ সমস্ত ভূমি মালিকের সর্বোচ্চ স্তরে ছিল রাষ্ট্র এবং সর্বনিন্ম স্তরে ছিল প্রান্তিক চাষী (ঐতিহাসিক যুগে)। তাদের চাষবাসেও দাস-শ্রমিক নিয়োগ করা লাভজনক ছিল বিধায় ইতিহাসের প্রারম্ভ বা তার আগে থেকেই দাস শ্রমিকের প্রচলন সমাজে চলে আসছে। কাজেই আর্থিক বৈষম্যের ভিত্তিতে শ্রেণীর পেশা নির্ধারিত হতে থাকে, যা পরবর্তী চিরস্থায়ী বর্ণবাদে রূপ নিতে আর্যরা সহায়তা করে। কাজেই আর্যরাই এই বর্ণবাদের একমাত্র কারিগর এ কথা সর্বাংশে ঐতিহাসিক সত্য নয়। সামাজিক সহায়তা ও অনুমোদন ছাড়া বর্ণবাদ চিরস্থায়ী হয়নি। কাজেই বলা যায় যে, সামাজিকভাবে বর্ণবাদের অস্পষ্ট উপস্থিতি প্রাক-আর্য যুগেও ছিল, তবে তার রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অনুমোদন ছিল না। এ দু’টি কর্ম সম্পন্ন হয়েছে আর্যদের দ্বারা এবং ব্রাহ্মণ সমাজ এই বর্ণবাদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বর্ণবাদ রক্ষার জন্য সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিল। বর্ণবাদ চিরস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও সময়ে সময়ে ব্রাহ্মণগণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারো কারো জন্য বর্ণের উন্নতি বা অবনমিতও করেছে। বিশেষ করে, ধনবান কোনো কোনো বৈশ্যদেরকে অর্থের বিনিময়ে ক্ষত্রিয় শ্রেণীতে উন্নীত করার এবং বিদ্রোহী বৈশ্যদেরকে
শূদ্রে অবনমিত করার বিষয়ে জানা যায়। বিশেষ করে, স্থানীয় আদিবাসী কোনো কোনো সর্দারকে ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছিল।
সামরিক প্রয়োজনে স্থানীয় ক্ষত্রিয় (উপজাতি সর্দার) সর্দারদের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদেরকে ব্রাহ্মণরা উচ্চবর্ণে উন্নীত করতেন। তবে, তার জন্য ব্রাহ্মণদেরকে প্রচুর স্বর্ণ দক্ষিণা দিতে হতো। তাদের জন্য, ব্রাহ্মণরা মহাকাব্যগুলিতে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম আবিস্কার করতে পারত, কিংবা প্রাচীন কোন পাঠে লিখে দিতে পারত তাদের কথা। পুরাণগুলিতে৭৯৪ বর্ণিত ‘হিরণ্যগর্ভ’-র মতো অনুষ্ঠান কার্যত করাত এই ধরনের সর্দাররাই।৭৯৫ সেই অনুষ্ঠানে পুরোহিত উচ্চাকাক্সক্ষী প্রার্থীকে একটা স্বর্ণপাত্রে ঢুকিয়ে দিত- যা ‘গর্ভ’। তারপর কোন গর্ভবতী নারীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রপাঠ করা হত, এরপর হত জন্মের মন্ত্রপাঠ। রাজা তখন তার গুটিসুটি অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এই পুনর্জন্মের জন্য নানা কথায় পুরোহিতকে কৃতজ্ঞতা জানাত। এই উপায়ে সে অর্জন করত উচ্চবর্ণ, আর পরোপচিকীর্যু ব্রাহ্মণরা দক্ষিণার অংশ হিসেবে পেত সোনার পাত্রটি।৭৯৬ এমনকি বর্তমানেও ব্রাহ্মণ সমাজ এই অধিকার অনেকাংশে ভোগ করে, যদিও সর্বময় ক্ষমতা তাদের হাত থেকে বহুযুগ পূর্বেই খসে পড়েছে।
বাংলাদেশ বা ভারতীয় সভ্যতার আদিম অবস্থায় বর্ণবাদের কোন উলেখ পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিক যুগের প্রারম্ভ থেকেই আর্থিক সামর্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে শ্রেণীর সৃষ্টি হলেও বর্ণবাদ ছিল না। ভারতের আদি সভ্যতার পীঠস্থান সিন্ধু নদীর অববাহিকায় যারা বাস করত, তারাও বর্ণে বিভক্ত ছিল না, হয়ত শ্রেণী ছিল।
বাংলাদেশেও আদিবাসীদের মধ্যে, অস্ট্রিকই হোক, বা দ্রাবিড়/ মঙ্গোলীয়ই হোক, এদের মধ্যে বর্ণবাদের সন্ধান পাওয়া যায় না। এমনকি, পশুপালক আর্যরা ভারতে আগমনের পরও প্রায় ৫০০ বৎসর পর্যন্ত বর্ণবাদের অস্তিত্ব ছিল না। ঋগ্বেদের যুগেও তাদের সমাজ মূলত জ্ঞাতি, গোষ্ঠী, কুল ইত্যাদিতে বিভক্ত ছিল।৭৯৭ মূলত, ঋগে¦দীয় আর্য সমাজের বৈশিষ্ট্যই এই যে এর সদস্যদের মধ্যে প্রাথমিক অবস্থায় শ্রেণীবিভাজন ছিল না। সাধারণত, আদি জনগোষ্ঠীর সমাজগুলোর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।৭৯৮ মর্যাদাভেদ হয়তো ছিল, কিন্তু বর্ণবাদ তো দূরের কথা, ভিনড়ব ভিনড়ব সামাজিক শ্রেণীও ছিল না।ঋগ্বেদ ও অথর্ববেদের কোনো কোনো সুক্তের৭৯৯ অনুসরণে বলা যায় যে, কিছুটা অন্তঃকলহ নির্বাসিত জনগোষ্ঠী এবং কিছুটা পরাজিত শত্র“দের চিহ্নিত করা হয় দাস এবং দস্যু হিসেবে। আর্যদের যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রার্থনা থেকে জানা যায়, শত্র“পক্ষ ছিল অনার্য (দেবতা ইন্দ্রহীন) এবং আর্যরা ছিল ইন্দ্রের সাথী। দাস এবং দস্যুদেরকে আরো চিহ্নিত করা হয় তাদের গায়ের কৃষ্ণবর্ণ, অনার্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাত্রা থেকে। ঋগ্বেদে আর্য ৮০০ এবং দাস ৮০১ বহুবার উল্লেখ থাকলেও শব্দ দু’টি কোন শ্রমবিভাজনের ইঙ্গিত দেয় না, বরং পরবর্তী কালে বর্ণবাদের ভিত্তি রচনা করার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পরাজিত অনার্যদেরকে তারা দাস ও দাসী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা অথর্ববেদে উল্লেখ পাওয়া যায়।
চতুর্বর্ণের উৎপত্তি সম্বন্ধে প্রাচীনতম ইঙ্গিত আছে ঋগ্বেদের ‘পুরুষসূক্তে’ রক্ষিত সৃষ্টি সংক্রান্ত অতিকথায়। বাস্তবক্ষেত্রে সংহিতার দশম মন্ডলে বর্ণবাদ পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরবর্তী বৈদিক রচনা,৮০২ মহাকাব্য৮০৩ পুরাণ৮০৪ এবং ধর্মশাস্ত্রে৮০৫ কিঞ্চিৎ পরিবর্তনসহ এটি পুনরুত্থাপিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে যে আদি-পুরুষের মুখ থেকে ব্রাহ্মণদের উৎপত্তি, বাহু থেকে রাজন্যের, উরু থেকে বৈশ্যের ও পা থেকে শূদ্রের।৮০৬ এতে বোঝা যায়, আদিতে শূদ্রদেরও একই উৎসজাত বলে ভাবা হতো, সুতরাং তারা আর্যগোষ্ঠীরই একটি অংশ। রচনাকালের দিক থেকে ‘পুরুষসুক্ত’ অথর্ববেদে’র পর্বের শেষ দিকের।৮০৭ ‘অথর্ববেদে’ও এটি আছে সর্বশেষ অংশে, এমনকি খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ শতকের মতো পরবর্তীকালেরও হওয়া সম্ভব।৮০৮ অবশ্য সমসাময়িক বা পরবর্তীকালেও কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত বর্ণবাদের ভিত্তিতে বিভক্ত শ্রেণীগুলোকে জনগোষ্ঠী হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উলেখ করা হয়েছে। বর্ণবাদের চতুর্থ শ্রেণী শূদ্রদেরকে ব্রাহ্মণ্যবাদের হিংসাত্মক মনোভাবের পরাকাষ্ঠা হিসেবে শুধু চিরস্থায়ী সেবক হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়নি, তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতবাসী হিসেবেও গণ্য করেনি। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে বহিরাগত হিসেবে।৮০৯ বেদ বা উপনিষদের যুগে চার বর্ণের কোন নিদর্শন পাওয়া যায় না। প্রকৃত পক্ষে বেদের যুগে দু’টিই শ্রেণী ছিল- বিজিত আর্য আর পরাজিত অনার্য। উপনিষদের যুগেও এধারার খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায় না।
বেদের যুগে পশুপালক যাযাবর আর্যজাতি কৃষির দিকে মনযোগ দিলে তখনও শ্রমের প্রতি তাদের অনিহা ছিল না। অযোধ্যার রাজারা হাল কর্ষন করতেন এমন উলেখ রামায়নেও পাওয়া যায়। হল কর্ষণের সীতা থেকে সীতাদেবীর নামকরণ অযোধ্যার রাজার কাছে অগ্রহযোগ্য ছিল না। তখন পর্যন্ত শ্রেণী বিন্যাসে কঠোরতা যেমন ছিল না, তেমনি বর্ণবাদেরও উদ্ভব হয়নি। মনুসংহিতার ধর্মীয় বিধান থেকে প্রথম বা দ্বিতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে বর্ণবাদের উৎপত্তি বলে জানা যায়।৮১০ অবশ্য এই ধর্মীয় বর্ণবাদ ব্রাহ্মন্য ধর্ম অনুসারীদের মধ্যেই শুধু সীমাবদ্ধ ছিল।
বাংলায় বৈদিক ধর্মের একাধিপত্য সেন আমলের পূর্বে কোন সময়েই ছিল না। সেজন্য বোধ হয় বৈদিক ধর্মানুসারীদের মধ্যেও বর্ণবাদ তেমন প্রকট ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব দশ-শতকে বেদ সংকলিত হওয়ার পরও বর্ণবাদ তো দূরের কথা দাসদের সঙ্গেও এক সঙ্গে উঠা বসা বা এক সঙ্গে খেতেও আর্যদের আপত্তি ছিল না। তাছাড়া বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের আগে বেদের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও এ অঞ্চলে বৈদিক ধর্মের প্রাধান্য ছিল না। অবশ্য তখনো বাংলাদেশে বর্ণবাদ না থাকলেও শ্রেণী বিন্যাস ছিল। কর্মের ভিত্তিতে শ্রেণী বিন্যাসের নমুনা জাতকের গল্পে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। বেদেও তার উল্লেখ আছে।৮১১ তবে এই শ্রেণী ছিল আর্য ও অনার্য শ্রেণী।
এ যুগে সর্বভারতীয় ভিত্তিতে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম প্রচার হতে থাকে। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রভাব থেকে বৈদিক ধর্মকে মূক্ত রাখার জন্য ধর্মীয় বিধি বিধান রচনার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন মুনি ঋষি দের কয়েক শতাব্দী ব্যাপী দেয়া শাস্ত্রীয় বক্তব্যকে মনু, সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় বা খ্রিষ্টোত্তর ২য় শতাব্দীকালের মধ্যে কোন এক সময়ে রচনা করেন বৈদিক ধর্মের সংবিধান- সংহিতা। সংহিতার বিধানকে বলা হয় ব্রহ্মার মুখ নিঃসৃত বিধান যা চিরস্থায়ী। মনু ব্রহ্মার পুত্র। আবার মনুর ছয়জন বংশধরও মনু বলে পরিচিত।৮১২
মনু সংহিতার গুরুত্বপূণর্ বিধানগুলি: (১) পৃথিবীর উৎপত্তি, (২) বিভিন্ন সংস্কারের নিয়ম, (৩) ব্রতাচারণ, (৪) বিয়ের নিয়মাবলী, (৫) অপরাধের শাস্ত্রীয় দন্ড বিধান, (৬) শ্রাদ্ধবিধান, (৭) খাদ্য বিধান, (৮) বিভিন্ন বর্ণের কর্তব্য, (৯) বর্ণাশ্রম বিধান, (১০) স্ত্রী-পুরুষের পারস্পরিক ধর্মীয় বিধান, (১১) সম্পত্তির বন্টনের বিধান, (১২) সংকর বর্ণের বিবরণ, (১৩) জাতি ধর্ম, (১৪) কুল ধর্ম, (১৫) ব্রাহ্মণের অধিকার ও দায়িত্ব, (১৬) রাজা প্রজার পারস্পরিক কর্তব্য ইত্যাদি। মনুর বিধানে মানুষকে চার বর্ণে বিভক্ত করেছে যথা, ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। এই বর্ণের বিভক্তি জন্মগত।৮১৩ মনুর উৎপত্তি সম্বন্ধে ডি.ডি. কোসাম্বি তাঁর An Introduction to the study of Indian History -তে বলেন মূল গ্রন্থটি রচিত হয়েছিল ব্রাহ্মণদের জন্য। এর একটা বড় অংশে ধর্মীয় ক্রিয়াচার ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা রয়েছে- যা পুরোহিতদেরই ব্যাপার। বিভিন্ন সূত্র ও স্বীকৃত শাস্ত্রগুলি থেকে সংকলন করেই যে এটি রচিত হয়েছিল তার লক্ষণ রয়ে গেছে এর পরস্পর বিরোধী বক্তব্যগুলির মধ্যে- যা দুর্বোধ্য বিধানগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে হিন্দু আইনকে তার নমনীয় প্রয়োগ ও সম্পূর্ণ যৌক্তিক তত্ত্ব উপহার দিয়েছে।৮১৪
১. ব্রাহ্মণ সম্বন্ধে মনুঃ
ব্রাহ্মণদের সম্বন্ধে মনুসংহিতার প্রথম অধ্যায়ের কয়েকটি শ্লোকাকের বিষয়বস্তু নিন্মরূপঃ
ক. স্রষ্টা ব্রাহ্মণদেরকে মুখ থেকে সৃষ্টি করেছেন (৩১নং শোক)।
খ. স্থাবর জঙ্গমাদির মধ্যে প্রাণী শ্রেষ্ঠ, প্রাণীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীরা শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমানদের মধ্যে মানুষ এবং মানুষের মধ্যে
ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ (৯৬)।
গ. জাতমাত্রই ব্রাহ্মণ পৃথিবীতে সকল লোক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হন এবং সকল সৃষ্ট পদার্থের ধর্মসমূহ রক্ষার জন্য তিনিই
প্রভু (৯৯)।
ঘ. পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই ব্রাহ্মণের সম্পত্তি। শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য হেতু ব্রাহ্মণ সবই পাওয়ার যোগ্য (১০০)
ঙ. ব্রাহ্মণ নিজের অন্নই ভক্ষণ করেন, নিজের বস্ত্র পরিধান করেন এবং নিজের দ্রব্য দান করেন। অন্য লোকেরা যা ভোগ করে তা ব্রাহ্মণের দয়া হেতু করে (১০০)।
২. ব্রাহ্মণের কর্তব্য সম্পর্কে মনুঃ
ক. ব্রাহ্মণদের কাজ অধ্যাপনা, অধ্যয়ন, যজন, যাজন,দান ও প্রতিগ্রহ।
খ. ব্রাহ্মণের নাম হবে শুভসূচক (শুভ শর্মা) ক্ষত্রিয়ের বলসূচক (বলবর্মা) , বৈশ্যেও ধনসূচক (বসভুতি) ও শূদ্রের নিন্দাবাচক (দীনদাস)।
গ. কাঠের হাতী, চামড়ার হরিণ ও বেদ না জানা ব্রাহ্মণ সমান।
ঘ. ব্রাহ্মণের গৃহে ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রকে অতিথি বলা হয় না।
ঙ. ব্রাহ্মণ দয়াপরবশ হয়ে গৃহে অতিথিরূপে উপস্থিত বৈশ্য ও শূদ্রকে ভৃত্যদের ভোজন কালে ভোজন করাবেন।
চ. ব্রাহ্মণ অনিন্দিত কর্মদ্বারা শরীরকে কষ্ট না দিয়ে শুধু প্রাণ ধারণের জন্য অর্থ সঞ্চয় করবেন।
ছ. ব্রাহ্মণ লৌকিক বিষয়ে শূদ্রকে উপদেশ, উচ্ছিষ্ট, হবির শেষ ও ধর্মোপদেশ দেবেন না।
জ. রসুন, গাঁজর, পেঁয়াজ, ছত্রাক ও অপবিত্র স্থানে উৎপনড়ব দ্রব্য খাওয়া ব্রাহ্মণের জন্য নিষিদ্ধ।
ঝ. ব্রাহ্মণেরা শূদ্র রাজার রাজ্যে বাস করবেন না।৮১৫
বর্ণবাদের পুরোহিত হিসেবে কিছু কিছু অলিখিত কর্তব্য ও দায়িত্ব ব্রাহ্মণদের ছিল, যেমন- কোন ব্যক্তি বা গোত্রের বর্ণ পরিবর্তন করা। বিশেষ প্রয়োজনে তারা কোনো কোনো নিন্মবর্ণের জাতককে উচ্চবর্ণে অর্থাৎ ক্ষত্রিয় বা ব্রাহ্মণ্যে উন্নীত করেছেন এমন বহু প্রমাণ ইতিহাসে রয়েছে। আবার উচ্চবর্ণকেও নিমড়ববর্ণে অবনমিত করেছেন। তবে বাংলাদেশে বর্ণবাদের উচ্চাসনে স্থানান্তরিত করার ঘটনা খুবই বিরল, তবে অবনমিত করার ঘটনা সেন যুগে কিছু কিছু জানা যায়। তবে উত্তর ও মধ্য ভারতে ব্রাহ্মণগণই, ভিক্ষুদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে, শান্তিপূর্ণভাবে উপজাতিগুলোকে বিভিনড়ব বর্ণে রূপান্তরিত করতে পারত।৮১৬ কোসাম্বি এপিগ্রাফিয়া ইন্ডিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘খাদ্য-সংগ্রহকারী আতবিক উপজাতিগুলির সর্দাররা ব্যবসার সাহায্যে কিংবা আরো উন্নত সেনাবাহিনীতে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে কাজ করে উপজাতি-সম্পত্তি বাড়িয়েছিল। এই অর্জিত সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত করার কোন উপায় তাদের খুঁজে বের করতেই হতো। কোন উপায়ে নিজ উপজাতির বাকিদের চেয়ে বেশি উঁচুতে ওঠার প্রয়োজন তাদের ছিল। তাদের জন্য, ব্রাহ্মণরা মহাকাব্যগুলিতে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম আবিষ্কার করতে পারত, কিংবা প্রাচীন কোন পাঠে লিখে দিতে পারত তাদের কথা। মনু অবশ্য ব্রাহ্মণদের কোনো কোনো সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করে ধর্ম ও সমাজের কল্যাণে বর্ণান্তরিত হওয়ার পথ সহজ করেছেন। ‘ব্রাহ্মণ দেশান্তরীরা প্রায়শই তাদের পরিবারের স্ত্রীলোকদের সঙ্গে আনতে পারত না। এর অর্থ স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে অসর্বন বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং বিভিনড়ব স্মৃতির বিবরণ অনুযায়ী সাত প্রজন্ম ধরে এরকম অসবর্ণ বিবাহ দিলে কোন শূদ্র ব্রাহ্মণ হতে পারত।’ মনুস্মৃতি- ১০.৬৪-৬৫.
২. শূদ্র সম্বন্ধে মনুঃ
ক. শূদ্র বা দাসদের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি রাখার অধিকার নেই।
খ. দাস ও শূদ্রের ধন ব্রাহ্মণ অবাধে নিজের কাজে প্রয়োগ করবেন।
গ. শূদ্র অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে না। কারণ তার সম্পদ থাকলে সে গর্বভরে ব্রাহ্মণের উপর অত্যাচার করতে পারে।
ঘ. প্রভু কর্তৃক পরিত্যক্ত বস্ত্র, ছত্র, পাদুকা ও তোষক প্রভৃতি শূদ্র ব্যবহার করবে।
ঙ. প্রভুর উচ্ছিষ্ট তার ভক্ষ্য।
চ. দাস বৃত্তি থেকে শূদ্রের কোনো মুক্তি নেই।
ছ. যজ্ঞের কোনো দ্রব্য পাবে না।
জ. ব্রাহ্মণের প্রতিবাদ বা নিন্দা করলে শূদ্রের জিহ্বাচ্ছেদন বিধেয়।
ঝ. ব্রাহ্মণ শূদ্রের নিন্দা করলে যৎসামান্য জরিমানা দেয়।
ঞ. ব্রাহ্মণ কর্তৃক শূদ্র হত্যা সামান্য পাপ। এইরূপ হত্যা পেঁচা, নকুল ও বিড়াল ইত্যাদি হত্যার সমান।
ট. শূদ্র কর্তৃক ব্রাহ্মণ হত্যার বিচার মৃত্যুদন্ড।
ঠ. শূদ্র সত্য কথা বলছে কিনা তার প্রমাণ হিসেবে তাকে দিব্যের আশ্রয় নিতে হবে। এতে তাকে জলন্ত অঙ্গারের ওপর দিয়ে হাটতে হয় অথবা জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। অদগ্ধ বস্থায় অথবা জলমগ্ন না হয়ে ফিরলে তার কথা সত্য বলে বিবেচিত হবে।
ড. দ্বিজকে (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) প্রহার করলে শূদ্রের হাত কেটে ফেলা বিধেয়।
ঢ. ব্রাহ্মণের সঙ্গে একাসনে বসলে তার কটিদেশে তপ্তলৌহদ্বারা চিহ্ন এঁকে তাকে নির্বাসিত করা হবে অথবা তার নিতম্ব এমনভাবে ছেদন করা হবে যাতে তার মৃত্যু হয়।
ণ. দ্বিজের ন্যায় উপবীত বা অন্যান্য চিহ্ন ধারণ করলে শূদ্রের মৃত্যুদন্ড বিধেয়।
ত. যে পথ দিয়ে উচ্চ বর্ণের লোকরা যাতায়ত করেন, সেই পথে শূদ্রের মৃতদেহও বহন করা যাবে না।
৩. নারী সম্পর্কে মনুঃ
ক. স্ত্রীলোক পতিসেবা করবে। তার স্বাধীন কোনো সত্ত্বা নেই।
খ. নারীকে কুমারী অবস্থায় পিতা, যৌবনে স্বামী, বার্ধক্যে পুত্র রক্ষা করবে।
গ. স্ত্রীলোকেরা পৃক কোনো যজ্ঞ, ব্রত বা উপবাসের বিধান নেই।
ঘ. স্ত্রীলোকের সাক্ষী হওয়ার বা স্বাধীনভাবে ঋণ করার অধিকার নেই।
ঙ. বিধবা সাধ্বী নারী ব্রহ্মচর্য পালন করবে।
মনুসংহিতায় বর্ণবাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ভিত্তি রচনা করা হয়, যা আজো অনেকাংশে অটুটু আছে। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয়/তৃতীয় শতাব্দীতে মনুসংহিতার বিষয়বস্তু উত্তর ও মধ্যভারতে আর্য প্রভাবিত স্থানে এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুশাসনে চালিত সমাজে গ্রহণযোগ্য হলেও তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বর্ণবাদের সঙ্গে জনগোষ্ঠী পরিচিত ছিল না। এমনকি, খ্রিষ্টপূর্বকাল থেকে এদেশে অনেক জনগোষ্ঠী বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করলেও বর্ণবাদ গ্রহণ করেছিল এমন প্রমাণ স্পষ্ট নয়। খ্রিষ্টীয় তৃতীয়/চতুর্থ শতাব্দী থেকে বাংলাদেশে বর্ণবাদের প্রচার ও প্রসার হতে থাকে, কিন্তু সত্যিকারভাবে স্থায়ীত্ব লাভ করে সম্ভবত সেন আমলের পূর্বে নয়। বাংলাদেশে স্থায়ী বর্ণ বিন্যাস বর্ণবাদী চেতনার একটি আদিরূপ যা এদেশে বহু শতাব্দী যাবত শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত হয়ে বর্তমান যুগেও আদি কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি।
যদিও বর্ণবাদী শ্রেণীর উপর আরোপ করা কঠোরতা আজকাল (২০০৮ শতাব্দী) কিছুটা হলেও শিথিল হয়েছে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা অস্বীকার করা হয় না। বাংলায় বর্ণ বিন্যাস ভারতীয় বর্ণ বিন্যাসের একটি শাখা মাত্র। আদিকাল থেকেই ভারত উদার চিন্তা-চেতনা ও উন্নত কৃষ্টি-সংস্কৃতির দেশ হয়েও বর্ণবাদের এমন পরাকাষ্টা পৃথিবীর সুসভ্য মানুষের প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আর্থিক সামর্থ ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে শ্রেণী বিন্যাসের প্রারম্ভিক কালেই মনুসংহিতার সহায়তায় বর্ণবাদের জন্য শ্রেণী বিভক্তির ভিত্তি পাকাপোক্ত হয়। এসময়ে আমরা দেখতে পাই বহু পেশাজীবীর উদ্ভব হয় অর্থনৈতিক প্রয়োজনে কিন্তু সমাজে তাদের বিন্যাস হয় বর্ণ ও সম্পদের উপর নির্ভর করে। অবশ্য সব যুগে এবং সর্ব কালেই সম্পদের নিজস্ব একটি বর্ণ আছে যা আন্তর্জাতিকভাবে সকল ধর্ম ও সংস্কৃতিতে স্বীকৃত। খ্রিষ্টোত্তর ১ম শতাব্দীতেই বর্ণের ভিত্তিতে শূদ্রের পেশা ও সামাজিক মর্যাদা নির্দিষ্ট করা হয়ে গেছে। বাংলার বৃহত্তর জনসংখ্যাকে বর্ণবাদের যাতাকলে সামাজিক মর্যাদা অবনমিত করা হয়। বৌদ্ধ ধর্ম বাংলাদেশে সাড়া জাগাতে পারলেও শূদ্রের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। প্র মদিকে দুঃখ নিরসনে ঋণগ্রহিতা, সৈনিক, দাস প্রবজ্যা গ্রহণ করে মুক্তি পেতে পারত। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গেল দলে দলে দাস, ঋণগৃহিতা ও সৈনিক মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে শ্রেষ্ঠী মহাজন ও শাসক শ্রেণী বুদ্ধ বিরোধী হয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা দেখা দিল তখন বুদ্ধদেব ঘোষণা করলেন: ঋণী ব্যক্তিকে প্রবজ্যা (সন্ন্যাস) দেয়া অনুচিত।৮১৭ ক্রীতদাসদের জন্য প্রবজ্যা অনুচিত৮১৮ এবং সৈনিকদেরকে প্রবজ্যা দেয়া শুধু অনুচিত নয়, যারা প্রবজ্যাদেবে তাদের শিরোচ্ছেদ করা উচিত এবং দায়ী সংঘগুলিকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়া কর্তব্য।৮১৯ প্রাথমিক কালে (খ্রিষ্টপূর্ব ৫ শতক) বৌদ্ধ ধর্ম বর্ণবাদ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে শূদ্রের অবনমিত সামাজিক অবস্থান স্বীকার করে নেয়। এতেও বাংলার শূদ্র নিয়ে বৈদিক ধর্ম সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি। পাল আমলের শেষ দিকে পুরাণিক বর্ণবাদ বাংলার শূদ্রদেরকে আরো অবনমিত করে দেয়। বাংলাদেশে চার বর্ণের উপস্থিতি পুরাণিক ধর্মে আর স্বীকার করেনি। ক্ষত্রিয় তো দূরের কথা, বৈশ্যের উপস্থিতিও স্বীকার করা হয়নি। ব্রাহ্মণ ব্যতিত বাংলার সমস্ত জনসংখ্যাকে অবনমিত শূদ্রে পরিণত করা হয়। বৃহদ্ধর্মপুরাণের শ্রেণী বিভাগঃ ’বৃহদ্ধর্মপুরাণে’ (দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দী)
বাঙালি হিন্দুদেরকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
এই তিনটি শ্রেণী হচ্ছে- ক. উত্তম সঙ্কর, খ. মধ্যম সঙ্কর ও গ. অন্ত্যজ। উপরোক্ত তিন শ্রেণীতে কারা অন্তর্ভুক্ত ছিল তা নিন্মে উল্লেখ করা হলো:
উত্তম সঙ্করঃ
শ্রোত্রীয় ব্রাহ্মণ যাদের পুরোহিত হিসেবে কাজ করত তারাই উত্তম সঙ্কর। এদের মধ্যে আছেঃ ১. করণ ২. অম্বষ্ঠ ৩. উগ্র ৪. মগধ ৫. গন্ধবণিক ৬. কাংস্যবণিক ৭. শঙ্খবণিক ৮. কুম্ভকার ৯. তন্তুবায় ১০. কর্মকার ১১. সদগোপ ১২. দাস ১৩. রাজপুত ১৪. নাপিত ১৫. মোদক ১৬. বারুজীবী ১৭. সুত ১৮. মালাকার ১৯. তাম্বুলি ও ২০. তৈলক।
মধ্যম সঙ্করঃ
১. তক্ষক ২. রজক ৩. স্বর্ণকার ৪. সুবর্ণবণিক ৫. আভীর ৬. তৈলক ৭. ধীবর ৮. শৌণ্ডিক ৯. নট ১০. শবক ১১. জালিক।
অন্ত্যজঃ
১. গৃহি ২. কুড়ব ৩. চণ্ডাল ৪. বাদুর ৫. চর্মকার ৬. ঘট্টজীবী ৭. দোলবাহী ও ৮. মল।।
বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের ভিত্তিতে বর্ণবাদকে আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। জন্মান্তরবাদের উলেখ বেদে নেই। অনেক মনিষী ও পণ্ডিতব্যক্তিদের ধারণা উপনিষদের যুগে বৈদিক ধর্মের ক্রিয়াকর্ম ও পূজার্চনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারাতে থাকলে রজন্যবর্গ সংকিত হয়ে উঠেন। তখন তাদেরই (ক্ষত্রিয়দের) সৃষ্ট ধর্মীয় মতবাদ ব্রহ্মজ্ঞান ও পুনর্জন্মের বিধান দিয়ে সামাজিক বৈষম্যকে পাকাপোক্ত করে। প্র মদিকে পুরোহিতগণ এতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও পরবর্তীকালে তারা ক্ষত্রিয়দের সমর্থন যুগিয়েছেন।৮২০ বেদে বর্ণবাদ না থাকলেও মনুসংহিতা, বৃহদ্ধর্মপুরান, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও ধর্মপুরাণ ইত্যাদিতে পেশা-ভিত্তিক বর্ণবাদকে জন্মান্তরবাদের অংশ হিসাবেই পরিণত করা হয়। এর ফলে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্তি চলতেই থাকে এবং বর্তমানে উপমহাদেশে ৪৬৩৫টি বর্ণে বিভক্ত দেখা যায়।৮২১ আজকালের মত প্রাচীন যুগেও, বিশেষ করে সেন আমল থেকে, কোন বর্ণের সকল মানুষই একই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তাই বলে জন্মগত বর্ণ ছিল অপরিবর্তনীয়।
৭৯৪ D.C Sircar. Successors of the Sathbahan. . ডি.ডি. কোসাম্বি কর্তৃক ‘ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা’ বইয়ের, পৃ. ২৬৫-এ উদ্ধৃত।
৭৯৫ এপিগ্রাফিয়া ইনডিকা ২৭.৮-৯;১৭.৩২৮; ইন্ডিয়া অ্যান্টিক্যুইটি ১৯.৯ পরবর্তী)। ডি.ডি. কোসাম্বি কর্তৃক ‘ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা’
বইয়ের, পৃ. ২৬৫-এ উদ্ধৃত।
৭৯৬ ডি.ডি. কোসাম্বি: ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা, পৃ. ২৬৫।।
৭৯৭ রামশরণ শর্মা- প্রাচীন ভারতে শূদ্র।
৭৯৮ লাপ্টমান, ‘আরিজিন অফ সোশ্যাল ইনইক্যুয়ালিটিস’-এর পৃ ৫-১২।
৭৯৯ ঋগ্বেদ ২/১২/৪; অথর্ববেদ ২০/৩৪/৪।
৮০০ ঋগ্বেদ ১/১০৪/২;
৮০১ ঋগ্বেদ ৩/৩৪/৯
৮০২ পঞ্চ. ব্রা. ৫/১/৯-১০; বা.স. ৩১/১১; তৈ. আ. ৩/১২/৫ ও ৬।
৮০৩ মহাভারত- ১২/৭০/৪-৮।
৮০৪ বা পু. ১/৮/১৫৫-৯; মার্ক. পৃ ৪৯ অধ্যায়; বি.পু. ১৬/৬ষ্ঠ অধ্যায়- বায়ুপুরাণ মার্কন্ডেয়পুরাণ বিষ্ণু পুরাণ।
৮০৫ ব. ধসূ. ৪/২ রৌ. ধসু. ১/১০/৯৯/৫-৬; তুলনীয় আ. ধসু. ১/১/১/৭; মনু ১/৩১; যাজ্ঞবল্ক্য, ৩/১২৬।
৮০৬ ১৭৩ ঋগ্ ১০/৯০/১২।
৮০৭ অথর্ব ১৯/৬/৬।
৮০৮ হুইট্নি, হার্ভার্ড ওরিয়েন্টাল সিরিজ, ৭ম, পৃ [১৪১]; ৮ম, ৮৯৫-৯৮।
৮০৯ প্রাচীন ভারতে শূদ্র- রামশরণ শর্মা।
৮১০ মনুসংহিতা
৮১১ ঋগ্বেদ
৮১২ আর,এম, দেবনাথ- সিন্ধু থেকে হিন্দু
৮১৩ মনুসংহিতা
৮১৪ দামোদর ধর্মানন্দ কোসাম্বি: ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা, পৃ- ২১০।
৮১৫ মনুসংহিতা
৮১৬ দামোদর ধর্মানন্দ কোসাম্বি: ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা, পৃ- ২৬৪-৬৫।
৮১৭ মহাবগগ- ১/৩/৪/৮।
৮১৮ মহাবগগ- ১/৩/৪/৯।
৮১৯ মহাবগগ- ১/৩/৪/২।
৮২০ রাহুল সাংকৃত্যায়ন: বৌদ্ধ দর্শন।
৮২১ ইন্ডিয়া টু ডে- ২০-১২-৯৯
…………………………………………………
আগামী পর্বেঃ শ্রেণী

শেয়ার করুন