আদি বাংলার ইতিহাস
(প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্ব ৯৮
বাংলার জড়োপাসক
প্রাগৈতিহাসিক যুগে অর্থাৎ নব্যপ্রস্তরযুগে এ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর কি ভাবনা ছিল তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যথেষ্ট নাই। ভূমিপুত্রদের পরবর্তীকালে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার আচরণ থেকে আমরা তাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা করতে পারি মাত্র। মনে হয় তাদের ধর্মীয় চেতনার মূল ভিত্তি ছিল ভয়। সুক্ষ কথা ও চিন্তা ভাবনা অথবা আত্মোপলদ্ধি বা পরকাল সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণা ছিল বলে মনে হয় না।
বিশ্লেষণ করতে অক্ষম এমন সব কিছুর প্রতিই ছিল তাদের ভয়, যথা, আগুনের ভয়, রোগ বালাই এর ভয়, অন্ধকারের ভয়, সূর্যের শক্তির ভয়, এসব অসংখ্য জিনিসের ভয় তাদের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিল। এমন কি গাছ-পালা, পাহাড়-পর্বতের প্রতি তাহাদের মনে ভয় ছিল। এই শক্তিগুলিকে সন্তুষ্ট রেখে ভয় থেকে বাঁচার জন্য তারা বিভিনড়ব আচার অনুষ্ঠান ও পুজা অর্চনার প্রচলন করে।৭৪৬ পরবর্তীকালে এই সব শক্তিকেই তারা দেবতা কল্পনা করে পুজার পদ্ধতি প্রচলন করে। এভাবেই গড়ে উঠে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাস্য দেবতা সকল, তারা হয়ে উঠে প্রকৃতির পুজারী। ঈশ্বর বা ভগবান সম্পর্কে তাদের ধ্যান ধারণা বা আত্মার উপলব্ধি তাদের ছিল বলে মনে হয় না।
এই অবস্থার বিপরীতে আর্যদের থেকে আমরা পাই একটি উন্নতর ধর্মীয় চিন্তা-ভাবনা। তাদের মুণিঋষিরা ধর্মীয় আচরণবিধি ও ধর্মীয় কাঠামোকে বাস্তবে রূপদান করে। এদেশে আগমণের প্রায় ৬০০/৭০০ বছর পর আর্যাবর্তে বসবাসকারী আর্যরা তাদের জাতিগোষ্ঠির জন্য একটি ধর্মগ্রন্থ রচনা করতে আরম্ভ করে যা ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সংকলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।৭৪৭ যে সভ্যতাকে প্রাচীন ভারতের সভ্যতা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে এবং ব্রাহ্মণগণ বেদ ও মনুসংহিতায় যে সভ্যতার নিদর্শন ব্যক্ত করেছিল তা সামগ্রিকভাবে প্রথমদিকে উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। মনু এই এলাকাকে মধ্যদেশ বলে অভিহিত করেছে। ক্রমে ক্রমে কয়েকশত বৎসরের মধ্যে সমস্ত মধ্য ভারতে আর্য ধর্ম প্রাধান্য বিস্তার করে। সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব ৬/৫ শতকের মধ্যে বাংলাদেশেও আর্য ধর্ম প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। বাংলাদেশে আর্য ধর্মের যখন প্রসার হতে থাকে, তখন আর্য শক্তির পতনের সময়ও ঘনিয়ে আসে। বিজিত উত্তরাঞ্চলে বিজয়ীদের জীবনে কর্তব্যের গুরুভার হিসাবে পরিশ্রমের পর আর্যগণ দৃষ্টি সম্পন্ন দার্শনিকে পরিণত হয়। দার্শনিক তত্ত্বকথা ও ব্যাকরণের সূত্রগুলো নিয়েই তারা কাটিয়ে দেয় পরবর্তী ১০০০ বছর। মেগাস্থিনিস এই দার্শনিকদেরকেই আম্রকাননে প্রধানত জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনারত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হয়ে দাড়ায় যে, বৈয়াকরণিক অস্পষ্টতা প্রচার অথবা সাফল্যের সঙ্গে নৈবেদ্য নিবেদন করাই আর্যজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।৭৪৮ লিখিত ইতিহাস শুরু হওয়ার আগে বাংলার অধিবাসীরা প্রকৃত অর্থে পুরোপুরিভাবে বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্যধর্ম গ্রহণ করেনি। বাংলার আদি গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে যত সহজে আর্যরা পদানত করতে পেরেছিল তত সহজে ধর্মান্তরিত করতে পারেনি, আর করার প্রয়োজনও তারা বোধ করেছিল বলে মনে হয় না। মনুর বহু পূর্ব হতেই শূদ্র থেকে বেদের দূরত্ব আর্যরা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্ম তখন আর্যাবর্তে তেমন প্রসার লাভ করতে পারেনি। কারণ, সেখানে তখন বহুসংখ্যক ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রাচীন সংস্কার, কায়েমি স্বার্থবাদ প্রচলিত ছিল। কিন্তু বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের পথ বেশ সহজ হয়ে উঠল।৭৪৯ কারণ, এখানকার অধিবাসীদের তখন নিজস্ব কোন কায়েমী ধর্মমত ছিল না। ফলে বৌদ্ধধর্মকে তারা সাদর সম্ভাষণ জানালো।
আর্যাবর্তের বাইরের এলাকাগুলোতে বৌদ্ধধর্ম সবচেয়ে সহজে স্থায়ী আসন করে নিতে পেরেছিল এবং বাঙালিরা বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করলেও প্রথমদিকে এই ধর্ম এতই অসম্পূর্ণ ছিল যে, প্রায়ই তাদের মধ্যদেশ থেকে নানাবিধ আচারবিধি আমদানী করতে হতো। ৭৫০ এই আমদানির যে বিষয়টি সম্পর্কে ইতিহাসে আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ পাই তা হচ্ছে আর্যাবর্ত থেকে গৌড়ের রাজার ব্রাহ্মণ আমদানী। উত্তর ভারতে যেসকল ধর্মীয় আচার বহুদিন যাবত প্রচলিত ছিল মূল বাংলার ব্রাহ্মণগণ তা সম্পাদন করার উপায় ৬০০/৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জানতেন না। কিন্তু তখনো লোকসংখ্যা বৈদিক বেশি না বৌদ্ধ বেশি ছিল নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ মৌর্য আমল থেকে বাংলায় বৌদ্ধ-ধর্মের প্রচার ও প্রসার হলেও, বৈদিক ধর্মের দেবদেবী ও পূজাঅর্চনা ইতিমধ্যে বাংলার মাটিতে স্থায়ী আসন লাভ করেছে। পরবর্তী কালে ধর্মীয় প্রক্রিয়া শিক্ষা দেয়ার জন্যই গৌড়ের রাজা উত্তরাঞ্চল থেকে ব্রাহ্মণ আমদানী করেছিলেন। বাংলার স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব ও রীতি রেওয়াজ গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে পারা যায় না যে, মনু ও ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক বর্ণিতআর্য ধর্ম উত্তরাঞ্চল থেকে তুলনামূলকভাবে আধুনিককালে বাংলাদেশে আমদানী এবং বাংলাদেশীরা সর্বপ্রথম যে পূর্ণাঙ্গ ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম।৭৫১
প্রিনসেপ, লাসেন ও বাড়নোফ অংশত পাণ্ডুলিপি ও মূলত পর্বতগ্রাত্রে উৎকীর্ণ লিখন থেকে যীশুখ্রিষ্টের জন্মের তিনশত বছর আগে থেকে পরবর্তী চারশত বছর পর পর্যন্ত ভারতের বহু স্থানে বৌদ্ধ ধর্মই ছিল প্রধান ধর্ম বলে ব্যক্ত করেছেন। সপ্তম অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত এ ধর্ম চালু ছিল। চীন পরিব্রাজক ফাহিয়েন ও হিউয়েন সাং-ই তার প্রমাণ। বাংলাদেশে পাল রাজারা ৭৫০ থেকে ১০৪০ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন; তাদের রাজধানী ছিল গৌড়। তারা অন্ততপক্ষে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বৌদ্ধ ছিলেন। পাল রাজত্বের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ গুপ্ত আমল থেকে শশাঙ্ক পর্যন্ত শাসকগণ ব্রাহ্মন্য ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তারা অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল, সময়ে সহানুভূতিশীল থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ধর্মের প্রতি অবিচার করেন নাই। একদিকে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মাধ্যমেই সংস্কৃত সাহিত্য চর্চা যেমন চলতে ছিল, অপর পক্ষে গুপ্ত শাসকদের সহায়তাতেই নালন্দার বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। অনেক ঐতিহাসিকের মত আর.এম. দেবনাথের বর্ণনায়, বেদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিবাদ বৌদ্ধধর্ম। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে প্রধানতঃ বেদকে এবং বেদের ধর্মকে অর্থাৎ বৈদিক ধর্ম বা আর্যধর্ম বা ব্রাহ্মণ্যধর্মকে অস্বীকার করেই বৌদ্ধধর্মের যাত্রা শুরু। বেদের দেবতা, সমাজ কাঠামো, বর্ণবিন্যাস, যজ্ঞ ও পুরোহিত ইত্যাদি বিশেষ করে ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করে বৌদ্ধধর্ম ভারতের এক জনপ্রিয় ধর্মের মর্যাদা লাভ করে। এর কিছুকাল আগে মহাবীরের জৈনধর্মও প্রায় একই অবস্থান নেয়। মহাবীর ও গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িককালে বেদ, বেদভিত্তিক সমাজ ও চিন্তাবোধ, যজ্ঞ ও পুরোহিত, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য সমাজের বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান নেন বিখ্যাত ভারতীয় দার্শনিক চার্বাক। তাঁর দর্শন চার্বাক দর্শন হিসেবে পরিচিত। বৌদ্ধ ও চার্বাক দর্শন যেহেতু বেদবিরোধী তাই এই দর্শন দুটোকে বেদপন্থীরা নাস্তিক দর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করে। আর বৌদ্ধরা পরিচিত হয় ‘নাস্তিক’ হিসেবে। বিপরীতে বেদে বিশ্বাসীরাই পরিচিতি লাভ করে ‘আস্তিক’ হিসেবে।৭৫২
একদিকে আর্যধর্ম এবং অন্যদিকে লোকায়ত ধর্ম ও বিশ্বাস জৈন-বৌদ্ধধর্ম ও চার্বাক দর্শনের সংঘাত-সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত সমাজ-বিপ্লবের এক পর্যায়ে বৌদ্ধধর্ম নির্জীব হয় এবং আর্যধর্মের উত্থান হয় সেন রাজাদের আমলে। তারা শুধু ব্রাহ্মন্য ধর্মাবলম্বীই ছিলেন না, তারা রক্ষণশীল বৈদিক ধর্মের পুন:জন্ম দেয়ার সর্বাঙ্গীন সহায়তা দেন। তারা বহিরাগত বলে বোধ হয় স্থানীয় অধিবাসী ও তাদের লোকায়ত ধর্ম ও কৃষ্টি সংস্কৃতির প্রতি বিরোপ মনোভাব পোষণ করতেন। বাংলায় বৈদিক ধর্মের উত্থানের মাধ্যমে তারা শুধু স্থানীয় অধিবাসীদের ধর্মের প্রতি অসহনশীল ছিলেন না, বর্ণ হিসেবেও তাদেরকে সামাজিকভাবে অবনমিত করেন।
পৌরাণিক ধর্মের প্রেক্ষাপটঃ
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ-সপ্তম শতাব্দীতে সূচনা ঘটে পৌরাণিক ধর্মের। এ ধমের ভিত্তি হচ্ছে বিভিন্ন পুরাণ কাহিনী। একে বলা যায় ব্রাহ্মণ্যধর্মের বা বেদভিত্তিক ধর্মের পুনরুত্থান। এই পুনরুত্থানকালেই বিভিন্ন পুরাণ রচিত হয় সেন রাজাদের আমলে। আর্যধর্ম ও দেশজ ধর্মের সমন্বয় সাধন করা হয়। অবশ্য ব্রাহ্মণ্য সমাজ তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। ভূমিপুত্রদের দেবতা (শিব) ও শিব পক্ষের দেবীদের সম্মানের সাথে স্থান করে দিতে হয় ব্রাহ্মণ্যধর্মে। যজ্ঞের বদলে তীর্থের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। পাশাপাশি অবশ্য স্থানীয়দের কাছে অগ্রহণযোগ্য আর্য-দেবতাদের স্থলে তৈরি করা হয় নতুন নতুন আর্যদেবতা। এর জন্য বৌদ্ধদের ‘অবতারবাদ’ তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে তৈরি নতুন দেবতাদের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ
অন্যতম। বলা হয় এরা বিষ্ণুর অবতার। এদিকে ভগবান বৌদ্ধকেও হিন্দুর অবতার হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়।৭৫৩
বেদের বিষয় বস্তু ও রচনাকালঃ
এ অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের বিশ্বাসের সাথেই শেষ পর্যন্ত করতে হয়েছে বোঝাপড়া। এ বোঝাপড়ায় বা বিবর্তন প্রক্রিয়ায় লোকায়ত সংস্কৃতিক, দেব-দেবী, আচার-অনুষ্ঠান, পূজাপার্বণ, বিশ্বাস, সংস্কার ইত্যাদিই কাজ করছে প্রধান নিয়ামক শক্তি হিসেবে। কিন্তু বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও গীতা তেমনি অটুট রয়েছে। আনুমানিক তিন হাজার বছর পূর্বে রচিত বেদ ব্রাহ্মন্য ধর্মানুসারীদের কাছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। বলা হয় ভগবদ্বিষয়ক জ্ঞানই হচ্ছে বেদ। বিশ্বাস করা হয় যাগযজ্ঞাদি দ্বারা চিত্তশুদ্ধি করে এবং পরম পুরুষকে ডাকলে তাঁকে পাওয়া যায়। ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বেদই অনুসারীদের জীবনকে শতশত বছর যাবত নিযন্ত্রণ করে আসছে। অনেকে বেদকে দেখেন সকল জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে। আজও বেদ তাদের কাছে মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ। বেদ এককালে প্রচলিত ছিল শুধু আর্যদের ধর্মগ্রন্থ হিসাবে। কিন্তু আজ বলা হচ্ছে এটি ভারতের প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ ও যার মধ্যে বৈদিক সাহিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।৭৫৪
বেদের রচনাকাল:
চারটি বেদের মধ্যে ঋগ্বেদই প্রাচীনতম। সুকুমারী ভট্টাচার্যের মতে এই প্রাচীনতম বেদটির রচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৯০০। অর্থাৎ ২৯০০ থেকে ৩২০০ বছর আগের ঘটনা। এদিকে দ্যা নিউ এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার (ভলিউম- ২০, পৃষ্ঠা- ২৮৯) তথ্যে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পণ্ডিত মনে করেন বেদ রচিত হয় ৩৫০০ বছর আগে। অনেকের মতে সিন্ধু সভ্যতার পতনের প্রেক্ষাপটে আর্য উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর বেদের রচনা শুরু এবং তা চলে কয়েক শতাব্দী ধরে।৭৫৫ বেদের শ্লোকগুলো কে রচনা করেছেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এগুলো নানা মুনি-ঋষির রচনা হিসেবে প্রচলিত। বেদ ঐশী গ্রন্থ নয় কিন্তু বেদকে অনুসরণ করলে ঈশ্বর লাভ করা যায়- এ কথা বিশ্বাস করা ধর্মের অঙ্গ। মুণি-ঋষিগণ বেদ সৃষ্টি করেছেন বলে বেদের উপর তাদের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হয়। এজন্যই ব্রাহ্মণ ধর্মের সকল ক্ষেত্রে অনুসারীর বিধানদাতা হিসেবে স্বীকৃত।
বেদ সংকলন করেছেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
বেদ সবমোট চারটি, যথা: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বেদ হচ্ছে ঋগ্বেদই। ঋগ্বেদই ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্যের নির্দশন।
ঋগ্বেদ
বেদের ভাষা আদি সংস্কৃত। ঋগ্বেদ হচ্ছে বৈদিক সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। অর্থাৎ ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য। এতে তখনকার মানুষ, বিশেষত আর্যদের সমাজ ও ধর্মভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। বেদের স্তোত্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবতা ও যজ্ঞ। অর্থাৎ দেবতাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে স্তোত্র রচিত হতো তা নিয়েই বেদের জন্ম।
প্রত্যেকটি বেদের আবার চারটি অংশ: সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ নিয়ে বৈদিক সাহিত্য। একে দুটো ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যথা- জ্ঞানকাণ্ড ও কর্মকাণ্ড। কর্মকাণ্ড মানেই যজ্ঞসম্পর্কিত বিষয়াবলী। এতে পড়ে সংহিতা ও বাহ্মণ। উপনিষদ হচ্ছে জ্ঞানকাণ্ড। আরণ্যকে কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ড উভয়েই আছে। বেদের মন্ত্রগুলি ছন্দে রচিত।
সুক্তগুলি (সুন+উক্ত = সুক্ত অর্থাৎ ভাল করে কথা বলা) মন্ত্র দিয়ে রচিত।
যজুর্বেদ
এই বেদটি দু’ভাবে বিভক্ত, যথা- শুক্ল ও কৃষ্ণ যজুর্বেদ। যজুর্বেদের মন্ত্রগুলি গদ্যে লিখিত। আর্য ও প্রাগার্য জনগোষ্ঠীল সংমিশ্রণ: যজুর্বেদের যুগেই আর্যজনগোষ্ঠী ও প্রাগার্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংমিশ্রণের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়। এর অর্থ এই নয় যে ঋগ্বেদের আমলে সংমিশ্রণ ছিল না। বস্তুত দুই জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঋগ্বেদের আমলেই শুরু হয় এবং তা স্পষ্টরূপ ধারণ করে যজুর্বেদের আমলে।
সামবেদ
সামবেদ বিভিন্ন ঋষি কর্তৃক রচিত মন্ত্রের সংকলন। তাই একে ‘সামবেদ-সংহিতা’ বলা হয়। এটি একটি সঙ্গীত গ্রন্থ। বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে এই গানগুলো গাওয়া হতো। ‘সামবেদের’ ৭৫টি মন্ত্র বাদ দিলে বাকি সব মন্ত্র ঋগে¦দ থেকে নেওয়া। সামবেদই বেদের সার সংকলন হিসেবে বিবেচিত। সামবেদের গান সূর্যকে ঘিরে হয়। ওম উচ্চারণ করে সামবেদের গান গাওয়া হয়। ‘সাম’ এর মধ্যস্থিত ‘সা’ এর অর্থ প্রকৃতি, অক্ষয়া ঐশীশক্তি এবং ‘অম’ এর অর্থ আত্মা। আত্মা সূর্যমণ্ডলে আসীন। অর্থাৎ সূর্যরূপ জগতের আত্মার সঙ্গে যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাই ‘সাম’; আবার যেহেতু ঋকমন্ত্রের দ্বারা সামগান করা হয় সেহেতু ঋকই ‘সাম’ এবং সাম’ই সূর্য। ‘ওম’ হচ্ছে: ‘অ + উ + ম’ এই তিন অক্ষরের সমষ্টি। অ = পৃথিবী, উ = অন্তরিক্ষ এবং ম = দ্যুলোক। ওম্ শব্দ দ্বারা পূর্ণ ব্রহ্মকে বোঝানো হয়। ‘ওম্’ দ্বারা তিনলোকের অতিরিক্ত যে জগৎ যা মানুষের বাক্য ও মনের অগোচর তাকেও বোঝায়।৭৫৬
সামবেদ দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আর্চিক ও গান। যে গ্রন্থ কেবল সঙ্গীতের সংকলন তার নাম ‘আর্চিক’। যে গ্রন্থে সঙ্গীতের
স্বরলিপি আছে তার নাম ‘গান’। আর্চিক সঙ্গীতের দুইভাগ যথা- পূর্বার্চিক ও উত্তরার্চিক।
অথর্ববেদ
অথর্ববেদের নাম অথর্ব (অচল) কেন হল তার কোনো সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। অথর্ববেদই একমাত্র বেদ যা সকলের সব প্রয়োজন মেটানোর দিকে নজর দিয়েছে। ঋক, যজু ও সামবেদ প্রধানত মোক্ষ প্রাপ্তির দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। বিপরীতে অথর্ববেদ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ ইত্যাদি বিষয়ের কোনটাকেই উপেক্ষা করেনি। অথর্ববেদ সংহিতায় ঋগবেদের সুক্ত ছাড়াও বেশকিছু লোকায়ত বিশ্বাসের ও ধর্মাচরণের কথাও আছে, যেমন- কবচ, মাদুলি, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি। রোগ-ব্যাধি যেমন ত´ন (ম্যালেরিয়া), যক্ষ্মা, কৃমি, শোথ, গলগন্ড, গর্ভস্রাব, ন্যাবা, দৃষ্টিহীনতা প্রভৃতি সারানো, আয়ুবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা, শত্র“ ও সতীনের ক্ষতির জন্য প্রার্থনা। এগুলির অনেকটাই প্রাথমিক যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কথা।
অথর্ববেদের শেষ পর্যায়ের সূক্তগুলি যখন রচনা হচ্ছিল তখন আর্যরা সম্ভবত বিহারের দক্ষিণ পূর্ব পেরিয়ে বাংলার উত্তরপূর্ব অঞ্চলে পৌঁছেছিল। এখানকার জলাভূমিতে হয় এমনসব রোগের নাম পাওয়া যায়। তাছাড়া, এই বেদের শেষতম অংশ ভূগোল, সমাজ, ধর্মবোধ ও আচার-আচরণের একটি প্রামাণিক দলিলও বটে। অথর্ববেদ সংকলনের কিছু আগে থেকেই ছোট ছোট স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্যের উদ্ভব হয়। তাই এখানে রাজা ও সৈন্যদের সম্বন্ধে অনেক মন্ত্র আছে।
অথর্ববেদে ইহলৌকিক বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এই বেদে পারলৌকিক বিষয়াদি উপেক্ষিত হয়েছে। দেবতা কি, দেবতার স্বরূপ কি, ভগবান কিভাবে সর্বব্যাপী, তাকে কিভাবে পাওয়া যেতে পারে ইত্যাদি বিষয়ও অথর্ববেদের বিষয়বস্তু।৭৫৭
———————————————————————————–
৭৪২ Jitendranath Bandopadhyay: The Development of Hindu iconography.
৭৪৩ দামোদর ধর্মানন্দ কোসাম্বি: ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা, পৃ- ২০।
৭৪৪ Ramprasad Chandra: In-do- Aryan Races
৭৪৫ William Hunter- The Annals of Rural Bengal
৭৪৬ V. Gordon Childe: Man Makes Himself.
৭৪৭ A.A. Macdonnel: Vedic Mythology.
৭৪৮ W.W. Hunter: The Annals of Rural Bengal.
৭৪৯ আর,এম, দেবনাথ: সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫০ নীহাররঞ্জন রায়: বাঙালি ইতিহাস (আদিপর্ব)।
৭৫১ M. Abdul Mumin: Buddhism in South Asia.
৭৫২ আর,এম, দেবনাথ- সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫৩ M. Abdul Mumin Chowdhury- Buddhism in South Asia.
৭৫৪ Rajendrachandra Hazra: Studies in Puranic Records on Hindu rites and customs.
৭৫৫ সুকুমারী ভট্টাচার্যি: প্রাচীন ভারত: সমাজ ও সাহিত্য।
৭৫৬ আর,এম, দেবনাথ- সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫৭ ব্যাসদেব: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ (বাংলা অনুবাদ)
আগামী পর্বেঃ উপনিষদ ও অন্যান্য।
(প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্ব ৯৮
বাংলার জড়োপাসক
প্রাগৈতিহাসিক যুগে অর্থাৎ নব্যপ্রস্তরযুগে এ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর কি ভাবনা ছিল তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যথেষ্ট নাই। ভূমিপুত্রদের পরবর্তীকালে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার আচরণ থেকে আমরা তাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা করতে পারি মাত্র। মনে হয় তাদের ধর্মীয় চেতনার মূল ভিত্তি ছিল ভয়। সুক্ষ কথা ও চিন্তা ভাবনা অথবা আত্মোপলদ্ধি বা পরকাল সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণা ছিল বলে মনে হয় না।
বিশ্লেষণ করতে অক্ষম এমন সব কিছুর প্রতিই ছিল তাদের ভয়, যথা, আগুনের ভয়, রোগ বালাই এর ভয়, অন্ধকারের ভয়, সূর্যের শক্তির ভয়, এসব অসংখ্য জিনিসের ভয় তাদের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিল। এমন কি গাছ-পালা, পাহাড়-পর্বতের প্রতি তাহাদের মনে ভয় ছিল। এই শক্তিগুলিকে সন্তুষ্ট রেখে ভয় থেকে বাঁচার জন্য তারা বিভিনড়ব আচার অনুষ্ঠান ও পুজা অর্চনার প্রচলন করে।৭৪৬ পরবর্তীকালে এই সব শক্তিকেই তারা দেবতা কল্পনা করে পুজার পদ্ধতি প্রচলন করে। এভাবেই গড়ে উঠে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাস্য দেবতা সকল, তারা হয়ে উঠে প্রকৃতির পুজারী। ঈশ্বর বা ভগবান সম্পর্কে তাদের ধ্যান ধারণা বা আত্মার উপলব্ধি তাদের ছিল বলে মনে হয় না।
এই অবস্থার বিপরীতে আর্যদের থেকে আমরা পাই একটি উন্নতর ধর্মীয় চিন্তা-ভাবনা। তাদের মুণিঋষিরা ধর্মীয় আচরণবিধি ও ধর্মীয় কাঠামোকে বাস্তবে রূপদান করে। এদেশে আগমণের প্রায় ৬০০/৭০০ বছর পর আর্যাবর্তে বসবাসকারী আর্যরা তাদের জাতিগোষ্ঠির জন্য একটি ধর্মগ্রন্থ রচনা করতে আরম্ভ করে যা ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সংকলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।৭৪৭ যে সভ্যতাকে প্রাচীন ভারতের সভ্যতা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে এবং ব্রাহ্মণগণ বেদ ও মনুসংহিতায় যে সভ্যতার নিদর্শন ব্যক্ত করেছিল তা সামগ্রিকভাবে প্রথমদিকে উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। মনু এই এলাকাকে মধ্যদেশ বলে অভিহিত করেছে। ক্রমে ক্রমে কয়েকশত বৎসরের মধ্যে সমস্ত মধ্য ভারতে আর্য ধর্ম প্রাধান্য বিস্তার করে। সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব ৬/৫ শতকের মধ্যে বাংলাদেশেও আর্য ধর্ম প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। বাংলাদেশে আর্য ধর্মের যখন প্রসার হতে থাকে, তখন আর্য শক্তির পতনের সময়ও ঘনিয়ে আসে। বিজিত উত্তরাঞ্চলে বিজয়ীদের জীবনে কর্তব্যের গুরুভার হিসাবে পরিশ্রমের পর আর্যগণ দৃষ্টি সম্পন্ন দার্শনিকে পরিণত হয়। দার্শনিক তত্ত্বকথা ও ব্যাকরণের সূত্রগুলো নিয়েই তারা কাটিয়ে দেয় পরবর্তী ১০০০ বছর। মেগাস্থিনিস এই দার্শনিকদেরকেই আম্রকাননে প্রধানত জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনারত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হয়ে দাড়ায় যে, বৈয়াকরণিক অস্পষ্টতা প্রচার অথবা সাফল্যের সঙ্গে নৈবেদ্য নিবেদন করাই আর্যজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।৭৪৮ লিখিত ইতিহাস শুরু হওয়ার আগে বাংলার অধিবাসীরা প্রকৃত অর্থে পুরোপুরিভাবে বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্যধর্ম গ্রহণ করেনি। বাংলার আদি গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে যত সহজে আর্যরা পদানত করতে পেরেছিল তত সহজে ধর্মান্তরিত করতে পারেনি, আর করার প্রয়োজনও তারা বোধ করেছিল বলে মনে হয় না। মনুর বহু পূর্ব হতেই শূদ্র থেকে বেদের দূরত্ব আর্যরা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্ম তখন আর্যাবর্তে তেমন প্রসার লাভ করতে পারেনি। কারণ, সেখানে তখন বহুসংখ্যক ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রাচীন সংস্কার, কায়েমি স্বার্থবাদ প্রচলিত ছিল। কিন্তু বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের পথ বেশ সহজ হয়ে উঠল।৭৪৯ কারণ, এখানকার অধিবাসীদের তখন নিজস্ব কোন কায়েমী ধর্মমত ছিল না। ফলে বৌদ্ধধর্মকে তারা সাদর সম্ভাষণ জানালো।
আর্যাবর্তের বাইরের এলাকাগুলোতে বৌদ্ধধর্ম সবচেয়ে সহজে স্থায়ী আসন করে নিতে পেরেছিল এবং বাঙালিরা বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করলেও প্রথমদিকে এই ধর্ম এতই অসম্পূর্ণ ছিল যে, প্রায়ই তাদের মধ্যদেশ থেকে নানাবিধ আচারবিধি আমদানী করতে হতো। ৭৫০ এই আমদানির যে বিষয়টি সম্পর্কে ইতিহাসে আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ পাই তা হচ্ছে আর্যাবর্ত থেকে গৌড়ের রাজার ব্রাহ্মণ আমদানী। উত্তর ভারতে যেসকল ধর্মীয় আচার বহুদিন যাবত প্রচলিত ছিল মূল বাংলার ব্রাহ্মণগণ তা সম্পাদন করার উপায় ৬০০/৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জানতেন না। কিন্তু তখনো লোকসংখ্যা বৈদিক বেশি না বৌদ্ধ বেশি ছিল নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ মৌর্য আমল থেকে বাংলায় বৌদ্ধ-ধর্মের প্রচার ও প্রসার হলেও, বৈদিক ধর্মের দেবদেবী ও পূজাঅর্চনা ইতিমধ্যে বাংলার মাটিতে স্থায়ী আসন লাভ করেছে। পরবর্তী কালে ধর্মীয় প্রক্রিয়া শিক্ষা দেয়ার জন্যই গৌড়ের রাজা উত্তরাঞ্চল থেকে ব্রাহ্মণ আমদানী করেছিলেন। বাংলার স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব ও রীতি রেওয়াজ গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে পারা যায় না যে, মনু ও ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক বর্ণিতআর্য ধর্ম উত্তরাঞ্চল থেকে তুলনামূলকভাবে আধুনিককালে বাংলাদেশে আমদানী এবং বাংলাদেশীরা সর্বপ্রথম যে পূর্ণাঙ্গ ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম।৭৫১
প্রিনসেপ, লাসেন ও বাড়নোফ অংশত পাণ্ডুলিপি ও মূলত পর্বতগ্রাত্রে উৎকীর্ণ লিখন থেকে যীশুখ্রিষ্টের জন্মের তিনশত বছর আগে থেকে পরবর্তী চারশত বছর পর পর্যন্ত ভারতের বহু স্থানে বৌদ্ধ ধর্মই ছিল প্রধান ধর্ম বলে ব্যক্ত করেছেন। সপ্তম অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত এ ধর্ম চালু ছিল। চীন পরিব্রাজক ফাহিয়েন ও হিউয়েন সাং-ই তার প্রমাণ। বাংলাদেশে পাল রাজারা ৭৫০ থেকে ১০৪০ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন; তাদের রাজধানী ছিল গৌড়। তারা অন্ততপক্ষে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বৌদ্ধ ছিলেন। পাল রাজত্বের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ গুপ্ত আমল থেকে শশাঙ্ক পর্যন্ত শাসকগণ ব্রাহ্মন্য ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তারা অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল, সময়ে সহানুভূতিশীল থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ধর্মের প্রতি অবিচার করেন নাই। একদিকে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মাধ্যমেই সংস্কৃত সাহিত্য চর্চা যেমন চলতে ছিল, অপর পক্ষে গুপ্ত শাসকদের সহায়তাতেই নালন্দার বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। অনেক ঐতিহাসিকের মত আর.এম. দেবনাথের বর্ণনায়, বেদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিবাদ বৌদ্ধধর্ম। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে প্রধানতঃ বেদকে এবং বেদের ধর্মকে অর্থাৎ বৈদিক ধর্ম বা আর্যধর্ম বা ব্রাহ্মণ্যধর্মকে অস্বীকার করেই বৌদ্ধধর্মের যাত্রা শুরু। বেদের দেবতা, সমাজ কাঠামো, বর্ণবিন্যাস, যজ্ঞ ও পুরোহিত ইত্যাদি বিশেষ করে ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করে বৌদ্ধধর্ম ভারতের এক জনপ্রিয় ধর্মের মর্যাদা লাভ করে। এর কিছুকাল আগে মহাবীরের জৈনধর্মও প্রায় একই অবস্থান নেয়। মহাবীর ও গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িককালে বেদ, বেদভিত্তিক সমাজ ও চিন্তাবোধ, যজ্ঞ ও পুরোহিত, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য সমাজের বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান নেন বিখ্যাত ভারতীয় দার্শনিক চার্বাক। তাঁর দর্শন চার্বাক দর্শন হিসেবে পরিচিত। বৌদ্ধ ও চার্বাক দর্শন যেহেতু বেদবিরোধী তাই এই দর্শন দুটোকে বেদপন্থীরা নাস্তিক দর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করে। আর বৌদ্ধরা পরিচিত হয় ‘নাস্তিক’ হিসেবে। বিপরীতে বেদে বিশ্বাসীরাই পরিচিতি লাভ করে ‘আস্তিক’ হিসেবে।৭৫২
একদিকে আর্যধর্ম এবং অন্যদিকে লোকায়ত ধর্ম ও বিশ্বাস জৈন-বৌদ্ধধর্ম ও চার্বাক দর্শনের সংঘাত-সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত সমাজ-বিপ্লবের এক পর্যায়ে বৌদ্ধধর্ম নির্জীব হয় এবং আর্যধর্মের উত্থান হয় সেন রাজাদের আমলে। তারা শুধু ব্রাহ্মন্য ধর্মাবলম্বীই ছিলেন না, তারা রক্ষণশীল বৈদিক ধর্মের পুন:জন্ম দেয়ার সর্বাঙ্গীন সহায়তা দেন। তারা বহিরাগত বলে বোধ হয় স্থানীয় অধিবাসী ও তাদের লোকায়ত ধর্ম ও কৃষ্টি সংস্কৃতির প্রতি বিরোপ মনোভাব পোষণ করতেন। বাংলায় বৈদিক ধর্মের উত্থানের মাধ্যমে তারা শুধু স্থানীয় অধিবাসীদের ধর্মের প্রতি অসহনশীল ছিলেন না, বর্ণ হিসেবেও তাদেরকে সামাজিকভাবে অবনমিত করেন।
পৌরাণিক ধর্মের প্রেক্ষাপটঃ
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ-সপ্তম শতাব্দীতে সূচনা ঘটে পৌরাণিক ধর্মের। এ ধমের ভিত্তি হচ্ছে বিভিন্ন পুরাণ কাহিনী। একে বলা যায় ব্রাহ্মণ্যধর্মের বা বেদভিত্তিক ধর্মের পুনরুত্থান। এই পুনরুত্থানকালেই বিভিন্ন পুরাণ রচিত হয় সেন রাজাদের আমলে। আর্যধর্ম ও দেশজ ধর্মের সমন্বয় সাধন করা হয়। অবশ্য ব্রাহ্মণ্য সমাজ তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। ভূমিপুত্রদের দেবতা (শিব) ও শিব পক্ষের দেবীদের সম্মানের সাথে স্থান করে দিতে হয় ব্রাহ্মণ্যধর্মে। যজ্ঞের বদলে তীর্থের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। পাশাপাশি অবশ্য স্থানীয়দের কাছে অগ্রহণযোগ্য আর্য-দেবতাদের স্থলে তৈরি করা হয় নতুন নতুন আর্যদেবতা। এর জন্য বৌদ্ধদের ‘অবতারবাদ’ তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে তৈরি নতুন দেবতাদের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ
অন্যতম। বলা হয় এরা বিষ্ণুর অবতার। এদিকে ভগবান বৌদ্ধকেও হিন্দুর অবতার হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়।৭৫৩
বেদের বিষয় বস্তু ও রচনাকালঃ
এ অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের বিশ্বাসের সাথেই শেষ পর্যন্ত করতে হয়েছে বোঝাপড়া। এ বোঝাপড়ায় বা বিবর্তন প্রক্রিয়ায় লোকায়ত সংস্কৃতিক, দেব-দেবী, আচার-অনুষ্ঠান, পূজাপার্বণ, বিশ্বাস, সংস্কার ইত্যাদিই কাজ করছে প্রধান নিয়ামক শক্তি হিসেবে। কিন্তু বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও গীতা তেমনি অটুট রয়েছে। আনুমানিক তিন হাজার বছর পূর্বে রচিত বেদ ব্রাহ্মন্য ধর্মানুসারীদের কাছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। বলা হয় ভগবদ্বিষয়ক জ্ঞানই হচ্ছে বেদ। বিশ্বাস করা হয় যাগযজ্ঞাদি দ্বারা চিত্তশুদ্ধি করে এবং পরম পুরুষকে ডাকলে তাঁকে পাওয়া যায়। ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বেদই অনুসারীদের জীবনকে শতশত বছর যাবত নিযন্ত্রণ করে আসছে। অনেকে বেদকে দেখেন সকল জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে। আজও বেদ তাদের কাছে মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ। বেদ এককালে প্রচলিত ছিল শুধু আর্যদের ধর্মগ্রন্থ হিসাবে। কিন্তু আজ বলা হচ্ছে এটি ভারতের প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ ও যার মধ্যে বৈদিক সাহিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।৭৫৪
বেদের রচনাকাল:
চারটি বেদের মধ্যে ঋগ্বেদই প্রাচীনতম। সুকুমারী ভট্টাচার্যের মতে এই প্রাচীনতম বেদটির রচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৯০০। অর্থাৎ ২৯০০ থেকে ৩২০০ বছর আগের ঘটনা। এদিকে দ্যা নিউ এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার (ভলিউম- ২০, পৃষ্ঠা- ২৮৯) তথ্যে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পণ্ডিত মনে করেন বেদ রচিত হয় ৩৫০০ বছর আগে। অনেকের মতে সিন্ধু সভ্যতার পতনের প্রেক্ষাপটে আর্য উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর বেদের রচনা শুরু এবং তা চলে কয়েক শতাব্দী ধরে।৭৫৫ বেদের শ্লোকগুলো কে রচনা করেছেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এগুলো নানা মুনি-ঋষির রচনা হিসেবে প্রচলিত। বেদ ঐশী গ্রন্থ নয় কিন্তু বেদকে অনুসরণ করলে ঈশ্বর লাভ করা যায়- এ কথা বিশ্বাস করা ধর্মের অঙ্গ। মুণি-ঋষিগণ বেদ সৃষ্টি করেছেন বলে বেদের উপর তাদের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হয়। এজন্যই ব্রাহ্মণ ধর্মের সকল ক্ষেত্রে অনুসারীর বিধানদাতা হিসেবে স্বীকৃত।
বেদ সংকলন করেছেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
বেদ সবমোট চারটি, যথা: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বেদ হচ্ছে ঋগ্বেদই। ঋগ্বেদই ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্যের নির্দশন।
ঋগ্বেদ
বেদের ভাষা আদি সংস্কৃত। ঋগ্বেদ হচ্ছে বৈদিক সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। অর্থাৎ ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য। এতে তখনকার মানুষ, বিশেষত আর্যদের সমাজ ও ধর্মভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। বেদের স্তোত্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবতা ও যজ্ঞ। অর্থাৎ দেবতাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে স্তোত্র রচিত হতো তা নিয়েই বেদের জন্ম।
প্রত্যেকটি বেদের আবার চারটি অংশ: সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ নিয়ে বৈদিক সাহিত্য। একে দুটো ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যথা- জ্ঞানকাণ্ড ও কর্মকাণ্ড। কর্মকাণ্ড মানেই যজ্ঞসম্পর্কিত বিষয়াবলী। এতে পড়ে সংহিতা ও বাহ্মণ। উপনিষদ হচ্ছে জ্ঞানকাণ্ড। আরণ্যকে কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ড উভয়েই আছে। বেদের মন্ত্রগুলি ছন্দে রচিত।
সুক্তগুলি (সুন+উক্ত = সুক্ত অর্থাৎ ভাল করে কথা বলা) মন্ত্র দিয়ে রচিত।
যজুর্বেদ
এই বেদটি দু’ভাবে বিভক্ত, যথা- শুক্ল ও কৃষ্ণ যজুর্বেদ। যজুর্বেদের মন্ত্রগুলি গদ্যে লিখিত। আর্য ও প্রাগার্য জনগোষ্ঠীল সংমিশ্রণ: যজুর্বেদের যুগেই আর্যজনগোষ্ঠী ও প্রাগার্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংমিশ্রণের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়। এর অর্থ এই নয় যে ঋগ্বেদের আমলে সংমিশ্রণ ছিল না। বস্তুত দুই জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঋগ্বেদের আমলেই শুরু হয় এবং তা স্পষ্টরূপ ধারণ করে যজুর্বেদের আমলে।
সামবেদ
সামবেদ বিভিন্ন ঋষি কর্তৃক রচিত মন্ত্রের সংকলন। তাই একে ‘সামবেদ-সংহিতা’ বলা হয়। এটি একটি সঙ্গীত গ্রন্থ। বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে এই গানগুলো গাওয়া হতো। ‘সামবেদের’ ৭৫টি মন্ত্র বাদ দিলে বাকি সব মন্ত্র ঋগে¦দ থেকে নেওয়া। সামবেদই বেদের সার সংকলন হিসেবে বিবেচিত। সামবেদের গান সূর্যকে ঘিরে হয়। ওম উচ্চারণ করে সামবেদের গান গাওয়া হয়। ‘সাম’ এর মধ্যস্থিত ‘সা’ এর অর্থ প্রকৃতি, অক্ষয়া ঐশীশক্তি এবং ‘অম’ এর অর্থ আত্মা। আত্মা সূর্যমণ্ডলে আসীন। অর্থাৎ সূর্যরূপ জগতের আত্মার সঙ্গে যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাই ‘সাম’; আবার যেহেতু ঋকমন্ত্রের দ্বারা সামগান করা হয় সেহেতু ঋকই ‘সাম’ এবং সাম’ই সূর্য। ‘ওম’ হচ্ছে: ‘অ + উ + ম’ এই তিন অক্ষরের সমষ্টি। অ = পৃথিবী, উ = অন্তরিক্ষ এবং ম = দ্যুলোক। ওম্ শব্দ দ্বারা পূর্ণ ব্রহ্মকে বোঝানো হয়। ‘ওম্’ দ্বারা তিনলোকের অতিরিক্ত যে জগৎ যা মানুষের বাক্য ও মনের অগোচর তাকেও বোঝায়।৭৫৬
সামবেদ দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আর্চিক ও গান। যে গ্রন্থ কেবল সঙ্গীতের সংকলন তার নাম ‘আর্চিক’। যে গ্রন্থে সঙ্গীতের
স্বরলিপি আছে তার নাম ‘গান’। আর্চিক সঙ্গীতের দুইভাগ যথা- পূর্বার্চিক ও উত্তরার্চিক।
অথর্ববেদ
অথর্ববেদের নাম অথর্ব (অচল) কেন হল তার কোনো সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। অথর্ববেদই একমাত্র বেদ যা সকলের সব প্রয়োজন মেটানোর দিকে নজর দিয়েছে। ঋক, যজু ও সামবেদ প্রধানত মোক্ষ প্রাপ্তির দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। বিপরীতে অথর্ববেদ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ ইত্যাদি বিষয়ের কোনটাকেই উপেক্ষা করেনি। অথর্ববেদ সংহিতায় ঋগবেদের সুক্ত ছাড়াও বেশকিছু লোকায়ত বিশ্বাসের ও ধর্মাচরণের কথাও আছে, যেমন- কবচ, মাদুলি, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি। রোগ-ব্যাধি যেমন ত´ন (ম্যালেরিয়া), যক্ষ্মা, কৃমি, শোথ, গলগন্ড, গর্ভস্রাব, ন্যাবা, দৃষ্টিহীনতা প্রভৃতি সারানো, আয়ুবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা, শত্র“ ও সতীনের ক্ষতির জন্য প্রার্থনা। এগুলির অনেকটাই প্রাথমিক যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কথা।
অথর্ববেদের শেষ পর্যায়ের সূক্তগুলি যখন রচনা হচ্ছিল তখন আর্যরা সম্ভবত বিহারের দক্ষিণ পূর্ব পেরিয়ে বাংলার উত্তরপূর্ব অঞ্চলে পৌঁছেছিল। এখানকার জলাভূমিতে হয় এমনসব রোগের নাম পাওয়া যায়। তাছাড়া, এই বেদের শেষতম অংশ ভূগোল, সমাজ, ধর্মবোধ ও আচার-আচরণের একটি প্রামাণিক দলিলও বটে। অথর্ববেদ সংকলনের কিছু আগে থেকেই ছোট ছোট স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্যের উদ্ভব হয়। তাই এখানে রাজা ও সৈন্যদের সম্বন্ধে অনেক মন্ত্র আছে।
অথর্ববেদে ইহলৌকিক বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এই বেদে পারলৌকিক বিষয়াদি উপেক্ষিত হয়েছে। দেবতা কি, দেবতার স্বরূপ কি, ভগবান কিভাবে সর্বব্যাপী, তাকে কিভাবে পাওয়া যেতে পারে ইত্যাদি বিষয়ও অথর্ববেদের বিষয়বস্তু।৭৫৭
———————————————————————————–
৭৪২ Jitendranath Bandopadhyay: The Development of Hindu iconography.
৭৪৩ দামোদর ধর্মানন্দ কোসাম্বি: ভারত ইতিহাস চর্চার ভূমিকা, পৃ- ২০।
৭৪৪ Ramprasad Chandra: In-do- Aryan Races
৭৪৫ William Hunter- The Annals of Rural Bengal
৭৪৬ V. Gordon Childe: Man Makes Himself.
৭৪৭ A.A. Macdonnel: Vedic Mythology.
৭৪৮ W.W. Hunter: The Annals of Rural Bengal.
৭৪৯ আর,এম, দেবনাথ: সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫০ নীহাররঞ্জন রায়: বাঙালি ইতিহাস (আদিপর্ব)।
৭৫১ M. Abdul Mumin: Buddhism in South Asia.
৭৫২ আর,এম, দেবনাথ- সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫৩ M. Abdul Mumin Chowdhury- Buddhism in South Asia.
৭৫৪ Rajendrachandra Hazra: Studies in Puranic Records on Hindu rites and customs.
৭৫৫ সুকুমারী ভট্টাচার্যি: প্রাচীন ভারত: সমাজ ও সাহিত্য।
৭৫৬ আর,এম, দেবনাথ- সিন্ধু থেকে হিন্দু।
৭৫৭ ব্যাসদেব: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ (বাংলা অনুবাদ)
আগামী পর্বেঃ উপনিষদ ও অন্যান্য।
খবর বিভাগঃ
বাংলাদেশের ইতিহাস