বৃহস্পতিবার, জুন ২৩, ২০১৬

এতিমদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেই আশ্রয়হীন!

‘ইফতারীতে শুধু মুড়ি আর পানি, মাগরিবের নামাজের পর সবজি দিয়ে ভাত। আর ভোর রাতে সবজি বা ডাল-আলু ভর্তা।’ এভাবেই চলছে বাঘার সরেরহাট গ্রামের এতিমখানার শিশুদের রমজান মাস।
রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রাম। এ গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি এতিম খানা। নাম দেয়া হয়েছে ‘সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন।’ বর্তমানে এই সদনে এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন ওরফে ডা: শমেস ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে চালু করেন এতিম খানাটি। আয় বলতে তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসার সেলাই কাজ ও শমেস ডাক্তারের চিকিত্সা থেকে আসা সামান্য কিছু অর্থ। আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওঠেছেন এতিমখানায়। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা একদিকে এতিম শিশুদের দেখা শুনা করেন অন্যদিকে তাদের জন্য রান্নার কাজও করেন।
বর্তমানে ১৬৯ জন এতিম শিশুসহ তারা স্বামী-স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সবাই এক সাথে দিন কাটান। তাদের নিজেদের আয় ও সাহায্য হিসেবে যা পান তা দিয়ে ৬ মাস চলে। আর বাকি ছয় মাস কারিতাসের দেয়া অর্থে কোন রকমে পরিচালনা করেন এতিমখানাটি। এতিম খানার পরিচালক ডা: শামসুদ্দিন বলেন, ‘চলতি রমজান মাসে কত মানুষই তো কত ভালো ভালো খাবার ও জামা-কাপড় কিনছেন। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত এতিমদের জন্য কিছুই কিনতে পারেন নি।’


শেয়ার করুন