বৃহস্পতিবার, জুন ১৫, ২০১৭

কালিয়াকৈরে বনের জমি দখলের মহোৎসব

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ২টি রেঞ্জের আওতাধীন বন বিভাগের জমিতে হাজার হাজার ঘর নির্মাণ করে জমি দখলের মহোৎসব চলছে। জমি দখলের সাথে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিল্পকারখানার মালিক ও অতিদরিদ্র লোকজনও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বনের শতশত একর জমি দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ী, শিল্পকারখানাসহ নানা প্রকার স্থাপনা। ফলে বন বিভাগের জমি থেকে উজার হয়ে যাচ্ছে বনের গাছ। বনের গাছ উজাড় আর জমি দখলে সাথে বনদস্যু, ভূমিদস্যূ ও বন বিটের অসাধু কর্মকর্তারা জরিত বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিটের বিভিন্ন স্থানে বিট কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ঘরবাড়ী নির্মান হকরার অভিযোগ রয়েছে। পল্লীবিদ্যূৎ এলাকার শওকত হোসেন ড্রাইভার বনের জমি দখল করে ৭০ হাত লম্বা একটি চার চালের ঘর তৈরি করেছেন। এ ব্যাপারে চন্দ্রা বীট অফিসের কর্মকর্তা একাধিকবার ওই বাড়ীতে গিয়েও উচ্ছেদ না করে অজ্ঞাত কারণে ফিরে এসেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।  অপর দিকে কালামপুর এলাকার পুরাতন সিনেমা হল সংলগ্ন বনের জমিতে বহুতল একটি ভবনের কাজ করছেন সিরাজ উদ্দিন নামের এক লোক। তবে ওই ভবনের মালিক সিরাজ উদ্দিনের দাবী, স্থানীয় একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে চন্দ্রা বীট কর্মকর্তাসহ বনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এখানে বহুতল ভবনের কাজ করছি।

এছাড়া চন্দ্রা বীট অফিসের কয়েক জন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে আমার জমিটি মেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটি আমার রেকর্ডভুক্ত জমি। এদিকে হরতুকিতলা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে বাবুল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি ২০ হাত লম্বা একটি চারচালা ঘর তুলে ভিটি পাকাকরণ কাজ করছেন। এ সময় ৭-৮ জন রাজ মিস্ত্রিকে কাজ করতে দেখা গেছে। অপর দিকে চন্দ্রার  কালামপুর এলাকায় শিল্পকুঞ্জ পার্কের সামনে ৪তলা বিশিষ্ট অপর একটি ভবনের কাজ করতে দেখা গেছে।

কালিয়াকৈর রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় বোয়ালী, কাশিমপুর, বাড়ইপাড়া, মৌচাক, রঘুনাথপুর, চন্দ্রা ও গোবিন্দপুর নামের ৭টি বীট ও ভান্নারা ও গোবিন্দপুর নামের ২ টি সাব বীট অফিস রয়েছে। অপরদিকে কালিয়াকৈরের কাচিঘাটা রেঞ্জে কাচিঘাটা সদর, জাথালিয়া ও খৈলশাজানি নামের ৩টি বীট অফিস রয়েছে। কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় সি.এস মূলে  গেজেট ভূক্ত মোট বনভূমি পরিমান ১২ হাজার ৭ শত ৯৫ দশমিক ১৯ একর। ওই দুই রেঞ্জের জবরদখলকৃত বনভূমি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭ শত ২০ দশমিক ৬৬ একর । কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতায় ৯টি মৌজায় মোট বনভূমি পরিমান ৯ হাজার ৬ শত ৮৯ দশমিক ৩৫ একর। ভূমি দস্যূরা দখল করে নিয়েছে প্রায়-২ হাজার ৪ শত ৫৮ দশমিক ৭৭ একর।  

পূর্বচান্দরা এলাকার শহিদুল আলম জানান, কালিয়াকৈর রেঞ্জ ও কাঁচিঘাটা রেঞ্জের আওতাধীন বনবিভাগের জমি দখল করা হচ্ছে এক শ্রেণীর দালালদের মাধ্যমে। ওইসব দালালরা বন কর্মকর্তাদের সাথে  মোটা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে জমি দখল করতে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ আছে।

চন্দ্রা এলাকায় ওয়ালটন কারখানার সামনের সড়কের পূর্ব পাশে বহু লোকের কাছ থেকে বনকর্মকর্তারা ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে ঘর তৈরি করতে সহায়তা করেছেন। শুধু ওই এলাকা ছাড়াও চন্দ্রা, কালামপুর, ডাইনকিনি, পূর্বচন্দ্রা (পল্লীবিদ্যুৎ),খাড়াজোড়া, বাড়ইপাড়া, সফিপুর, রাখালিয়াচালা, মাঝুখান, মৌচাক সদরচালা, কাশিমপুর, রঘুনাথপুর, পূর্ব মৌচাক, লস্করচালা, মাদবপুর এলাকায় ঘরবাড়ি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন।  
এ ব্যাপারে চন্দ্রা বন বীটের কর্মকর্তা মুরাদ মিয়া জানান, বন বিভাগের জমি দখলের খবর পাওয়া মাত্র অভিযান করে কাজ বন্ধ করে করার পরও পুনরায় দখল করছে একটি চক্র।

গাজীপুর অঞ্চলের বিভাগী বন সহকারী বন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বনের জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনসহ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে

শেয়ার করুন