
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি। ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। তার চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা আর কে? তিনি বাঙ্গালি জাতির পিতা। আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিক তার সন্তান। তিনি সবাইকে নিজের সন্তানের মতো সমান চোখে দেখতেন। ১০ জানুয়ারী, ১৯৭২ তারিখে দেশে ফিরে তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ভাষণটি অনলাইনে সরাসরি শুনতে বা দেখতে কিক করুন এখানে- (https://www.youtube.com/watch?v=ExL5YvTCxCw) অথবা (https://www.youtube.com/watch?v=CXKlLJB9O8E)| সেদিন বঙ্গবন্ধু শহীদ-গাজী নির্বিশেষে দেশের সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব স্বীকৃতি আদায়ের জন্য ৬৭৬ যোদ্ধাকে খেতাব প্রদান করেন। নিজেও একজন বন্দি ও আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেন। তার সময়ে দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা পার্থক্য ছিলনা। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর স্বার্থান্বেষী মহল দেশে মুক্তিযোদ্ধা, অমুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি, বিরোধী শক্তি প্রভূতি বহু বিভাজন সৃষ্টি করেছে। মাত্র দুই লাখ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক জাতীয় চার নেতা এবং সেনাপ্রধান এম. এ. জি ওসমানীকেও তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেনি। স্বয়ং মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি ও সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেনি। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেনি। অর্থাৎ শহীদগণ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেননা, তারা এমনিতেই মারা গেছেন। যে কোটি কোটি জনতা যুদ্ধকালে দেশে অবস্থান করে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন, তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা বা সহযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি। তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করেছে শুধু দু’লাখ। অর্থাৎ শুধু এ তালিকাভুক্তরাই দেশ স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অন্য কারো ভূমিকা ছিলনা। বঙ্গবন্ধু শুধু এ তালিকাভুক্তদের সর্বাধিনায়ক ও পিতা ছিলেন। পিতার উত্তরাধিকার স্বত্ব তথা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও কোটা সুবিধা শুধু এ তালিকাভুক্তরাই পেয়েছে। তাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিরাও মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা পেয়েছে। তালিকা বহির্ভূত বাংলাদেশের অবশিষ্ট ষোলকোটি নাগরিক কেউ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা পায়নি। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু শুধু তালিকাভুক্ত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাদেরই জাতির পিতা, ষোল কোটি বাংলাদেশির পিতা নন।
স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পর সরকার এখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যার নম্বর ৪৮.০০.০০০০.০৪.৪৯.২৩৩.০৯-১৬৭ তারিখ ০৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিঃ। এতেও শুধু তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের আবেদনগুলোই যাচাই-বাছাই হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, সেনাপ্রধান এম.এ.জি ওসমানী, লাখো বন্দি, শহীদ, আত্মত্যাগী, শরণার্থী ও যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারী কোটি কোটি কষ্টভোগী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে কিছু হচ্ছেনা। অথচ তাদের চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা কি কেউ আছে? যেমন, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান কি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা? কখনো নয়। জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার মাত্র। তিনি বঙ্গবন্ধুর নামেই স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি। একইভাবে বর্তমান তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা কি ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের চেয়ে মর্যাদাবান? আর বঙ্গবন্ধুর মতো লাখো বন্দি, শরণার্থী ও যুদ্ধবিধ্বস্থ কোটি কোটি সংগ্রামী জনতা কি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাও নন? এগুলো সমাধা করা কি জরুরি নয়?
মূলত সরকারের উচিত, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই নয় বরং শহীদ-গাজী নির্বিশেষে ১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করা। এতে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন দূর হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠিত হবে এবং তিনি সমগ্র জাতির জনক সমাদৃত হবেন। দেশের ষোল কোটি নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারভুক্ত হবে। তখন শুধু দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা নয়, আমরাও বঙ্গবন্ধুর সন্তান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম বিবেচিত হবো।
শিক্ষানবিস, ঢাকা।mrmostak786@gmail.com.
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন