রবিবার, জুলাই ০৯, ২০১৭

গাজীপুর জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন জেলাবাসী

গাজীপুর শহর ও চৌরাস্তা এলাকার রাস্তা ও ফুটপাত মুক্ত এবং চৌরাস্তা, টঙ্গী ও হোতাপাড়া এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবৈধ নারী দেহব্যবসা বন্ধ করতে একের পর এক অভিযান অব্যাহত রাখায় জেলার সর্বস্তরের মানুষ ধন্যবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন গাজীপুরে জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীরকে। দীর্ঘদিন যাবৎ গাজীপুর চৌরাস্তা, জয়দেবপুর শহরের প্রধান সড়ক গুলোর ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ভ্রামমান দোকান-পাট গড়ে উঠে। তাছাড়া শহরের মুক্ত মঞ্চ এলাকা রেলক্রসিং আসপাশে ফলপট্রি, স্টেশনের ভিতরে খালি জায়গায় অনেকটা স্থায়ী ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দোকান পাট গড়ে উঠে। এসব দোকান পাট থাকার কারণে রেলে যাত্রীদের বিরাপত্তার এবং পথচারীদের চলা চলে মারাত্বক বিঘœ ঘটছে। সম্প্রতি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সব স্থাপনা গুড়িয়ে দেন এবং শহরে মাইকিং করে ফুটপাত  মুক্ত করেন। শহরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিভিন্ন সড়কে ভ্যানে কাপড়ের দোকান রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বেচাকেনা করেন দোকানীরা। এখন তা বন্ধ।  এখন চৌরাস্তা এলাকা ফাঁকা। বর্তমানে পথচারিরা নির্বিঘেœ পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
অপরদিকে প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় গাজীপুরে আবাসিক হোটেলের নামে চলছে অবৈধ দেহ ব্যবসা। এসব হোটেল গুলোতে নির্বিঘেœ আসা-যাওয়া করছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও। এসব হোটেল ছাড়াও বিভিন্ন শুটিং স্পটে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে অসামাজিক কর্মকান্ডে। অবক্ষয় হচ্ছে তরুণ ও যুব সমাজ। এলাকাবাসীর অনুরোধে গত রমজান মাসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ধরনের কমপক্ষে ১০টি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক যৌনকর্মীসহ খদ্দের ও সংশ্লিষ্টদের আটক করে এক মাসের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব হোটেলের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন এবং হোটেল গুলো সিলগালা করা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ অশ্লীল ও অবৈধ এ ব্যবসার ভীত ভাঙতে শুরু হচ্ছে বলে জেলাবাসী স্বাগত জানিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসনকে। তাদের দাবী, এ উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে।
বিভিন্ন অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, নগরের তেলিপাড়ায় মসজিদ ও স্কুলের পাশেই একটি আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ-অসামাজিক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। শুধু রাতেই নয়, দিনেও চলে এই অবৈধ ব্যবসা। গত বছর যৌনকর্মী ও খদ্দেরসহ ওই হোটেলটি স্থানীয় জনতা অবরুদ্ধ করে রাখে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হোটেল ম্যানেজার, খদ্দের ও নারীসহ ১৫ জনকে আটক করে। আটক করার পর আবারো  অবাধে চলে অবৈধ ব্যবসা। ওই হোটেলের মতোই নগরের চান্দনা চৌরাস্তা, আউটপাড়া, তেলিপাড়া, ভোগড়া, নলজানি, দীঘিরচালা, কোনাবাড়ি, হোতাপাড়া, মাওনা চৌরাস্তা ও টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ধারাবাহিক এ অভিযানে এসব হোটেল গুলোও যেন নজরদারীতে থাকেন জেলা প্রশাসনের।
উল্লেখ্য যে গত রমজান মাসে এলাকাবাসী ও নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের অনুরোধে নিয়মিত অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন গাজীপুরে জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। এরপরই জেলা প্রশাসককে হোটেল রাজমনির মালিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। হুমকির পর জেলা প্রশাসক জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন থেকে শুরু হয় আবাসিক হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। চান্দনা চৌরাস্তার আবাসিক হোটেল রাজমনি, দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ও টঙ্গীসহ অন্তত ১০টি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়। গত ১ জুলাই বিকালে হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কাছের আবাসিক হোটেল রোজ ভ্যালিতে অভিযান চালিয়ে ২৩ যৌনকর্মীসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়।
সচেতন মহলের আশঙ্কা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত না থাকলে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়তে পারে গাজীপুরের যুবসমাজ। জেলাবাসীর দাবি, চলমান অভিযানের পর আগের মতো আবারো যাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক হোটেলের নামে গড়ে ওঠা এসব মিনি পতিতালয় জমজমাট না হয়ে ওঠে। সমাজের ক্ষতিকারক এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল।



শেয়ার করুন