সোমবার, জুলাই ১০, ২০১৭

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিয়ে ধূর্ম্রজাল

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র প্রাথী নিয়ে এবারও ধূর্ম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। আর এদিকে চলছে বিএনপি’র ঘরোয়া প্রচারণা। গত ৯জুন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম দিয়ে মুখরোচক একটি সংবাদকে ভাইরাল করে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিয়ে এই ধূর্ম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভাইরাল সংবাদে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুযোগ্য প্রার্থীর নাম না দিয়ে নতুন মুখের একজন প্রার্থী সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এ সংবাদে গাজীপুরের মানুষ হতচকিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সুযোগ্য প্রার্থী থাকা সত্যেও কেন নতুন মুখের মেয়র প্রার্থী নিয়ে এই ধূর্ম্রজালের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ নিয়ে চলছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ, রসালো আলোচনা ও চায়ের কাপে ঝড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর এলাকার এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, গাজীপুরে কি সুযোগ্য আওয়ামী লীগ নেতার সংঙ্কট চলছে? তা না হলে নতুন মুখের প্রার্থীরা কি করে এ ধরনের ভাইরাল সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচার মাধ্যমে প্রচার  করে নিজেদের ঢোল নিজেরাই বাজিয়ে চলছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম, ফেইসবুক, ব্যানার, ফেস্টুন, দিয়ে বেশ কিছু নতুন মুখ মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম জানান দিচ্ছেন। এদের মধ্যে আছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল হাসান সরকার রাসেল, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম। তাঁদের সমর্থনে নগরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। চলছে ফেইসবুকে বেসুমার প্রচারণা। বিশেষ করে গত রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লাগানো প্রার্থীদের ছবিযুক্ত বিলবোর্ড-ফেস্টুন  প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখনো নীরব। তবে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ও সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান। তবে এবার বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী না হলে বিএনপিতে নতুন মুখের প্রার্থীর আর্বিভাব ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে এম এ মান্নান আগামী সংসদ  নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এমনটা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন।
যুবলীগের কামরুল হাসান সরকার রাসেলও প্রচারণা শুরু করেছেন। ঈদ ও রমজানে প্রতিটি ওয়ার্ডে তাঁর বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গত সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আজমত উল্লাহ খান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এড. আজমত উল্লা খান টঙ্গী পৌরসভার বার বার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন। গত সিটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্বাচিত হতে পারেন নাই। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। অভিজ্ঞতা এবং দলের অনুগত বলে দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এমনটাই প্রত্যাশা করছেন।
তবে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ভেতরে ভেতরে কাজ শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার। একসময় তিনি জাতীয় পাটির সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। নির্বাচন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি মেয়র নির্বাচন করবেন। Report (নাসির উদ্দীন বুলবুল)
বিস্তারিত পড়তে নীচে ক্লীক করুন


শেয়ার করুন