বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৩, ২০২৫

গাজীপুরের কাশিমপুরে চাঁদা না পেয়ে গৃহে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন লোহাকৈর পূর্বপাড়ায় এক ব্যাক্তির বসতঘরে হামলা, চাঁদা দাবির পর লুটপাট, ভাঙচুর এবং নারী লাঞ্ছনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি—স্থানীয় একদল ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করে সম্পত্তি জবরদখল করে ৪৫ বছরের অধিক পুরনো মাটির ঘর ভেঙ্গে মাটির মিশিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন দিনধরে বসবাসের প্রমান লোপাটের চেষ্টা করছে।

ভুক্তভোগী শেখ শহিদুল ইসলাম স্বপন (৩৪) কাশিমপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তিনি স্বপরিবারে উক্ত ঠিকানায় দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ২৬ মে ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টার দিকে তার ঘরের পুরনো টিন বদলানোর সময় ১৫ জনের বেশি ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।

স্বপন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার স্ত্রী মোসাঃ খাদিজা ইসলামকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির শিকার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা তার স্ত্রীর শরীরে টানা-হেঁচড়া করে এবং কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। একই সময় তার প্রতিবেশী মামা জাকির হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর এবং গলা চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এতেই শেষ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে একই দলের সদস্যরা পুনরায় তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের ইটের দেয়াল, পুরনো মাটির ঘর ও একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং ভাঙচুর করে প্রায় আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে। এবং ঘরের ভেতর থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে, চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখে। অভিযোগকারী বর্তমানে নিজ বসতভিটায় প্রবেশ করতে পারছেন না এবং পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, এখনো অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।





শেয়ার করুন