গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন লোহাকৈর পূর্বপাড়ায় এক ব্যাক্তির বসতঘরে হামলা, চাঁদা দাবির পর লুটপাট, ভাঙচুর এবং নারী লাঞ্ছনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি—স্থানীয় একদল ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করে সম্পত্তি জবরদখল করে ৪৫ বছরের অধিক পুরনো মাটির ঘর ভেঙ্গে মাটির মিশিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন দিনধরে বসবাসের প্রমান লোপাটের চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান দেশ ছেড়ে পালাতে কিছুটা দেরি হলেও গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে কাতার প্রবাসী বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি আল আমিন মিয়া কাশিমপুরের সর্বেসর্বা ভাবতে দেরি করেনি।
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন ২ নাম্বার ওয়ার্ডের লোহাকৈর গ্রামের ওই ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২৬ মে ২০২৫ তারিখে তার বসত ঘরের চালের টিন নষ্ট হয়ে গেলে তারা মেরামত করতে গেলে কাতার প্রবাসী বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি আল আমিন মিয়র নেতৃত্বে লোহাকৈর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মৃত আব্দুল রাজ্জাক @ মৈজুদ্দিন আলী হোসেন, মৃত আব্দুল মালেক এর ছেলে হাসেম মিয়া, কাশেম মিয়া, মৃত আলফু মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া,মৃত আশরাফ মিয়ার ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন, মৃত জৈনুদ্দিনএর মেয়ে নাজমা বেগম ও তাজা বেগম, জাহিদুল এর স্ত্রী জোৎস্না, আলমগীর এর স্ত্রী রোকেয়া বেগম, হাসেম মিয়ার স্ত্রী কনা, মালেক মিয়ার মেয়ে রুবি, ও স্ত্রী আমেনা বেগম সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জন লোক ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাড়ীতে বেআইনি জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হইয়া দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
স্বপন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার স্ত্রী মোসাঃ খাদিজা ইসলামকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির শিকার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা তার স্ত্রীর শরীরে টানা-হেঁচড়া করে এবং কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। একই সময় তার প্রতিবেশী মামা জাকির হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর এবং গলা চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে একই দলের সদস্যরা পুনরায় তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের ইটের দেয়াল, পুরনো মাটির ঘর ও একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং ভাঙচুর করে প্রায় আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে। এবং ঘরের ভেতর থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে, চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখে। অভিযোগকারী বর্তমানে নিজ বসতভিটায় প্রবেশ করতে পারছেন না এবং পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, এখনো অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন