শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

যাত্রাঃ শহীদ কারবালা মহরম পর্ব ১ম অংক ১ম দৃশ্যঃ- -পর্ব-02

শহীদ কারবালা
মহরম পর্ব
১ম অংক ১ম দৃশ্যঃ-
মহারাজ এজিদের শাহী দরবার

মারোয়ান দরবারের একটি আসনে উপবিষ্টঃ-১। মারোয়ানের প্রবেশঃ-
মারোয়ানঃ-আজ প্রায় পক্ষকাল গত হয়, মহারাজ এজিদের আজ্ঞায় কুফা নগরের রাজা জিয়াদ কে এই শাহী দরবারে হাজির হওয়ার জন্য কাশেদকে প্রেরণ করিয়াছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাজা জিয়াদ দরবারে হাজির হলো না, তার কারণ যে, আমি কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। রাজা জিয়াদ কি এতোই নির্বোধ হ... সে কি-জানেনা যে, মহারাজ এজিদের আজ্ঞা লঙ্ঘন করিলে তাহার ভবিষ্যত কি হইবে।

২। কাসেদের প্রবেশঃ-
কাসেদঃ-মন্ত্রীবর কুফা নগরের রাজা জিয়াদ দারে আসিয়া উপস্থিত। তিনি দরবারে আসিতে ইচ্ছুক।
মারোয়ানঃ-বেশ তাকে আসতে বলো।

“কাসেদ প্রস্থান”

মারোয়ানঃ-তাহলে দামেস্কের মহামন্ত্রীর মস্তিকের বুদ্ধি কাজে লাগিবে। আমি দামেস্কের অধিপতি মহারাজ এজিদের মহা মন্ত্রী মারোয়ান হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। ঐ তো রাজা জিয়াদ দরবারে আসিতেছে।
৩। জিয়াদের প্রবেশঃ-আসুন! আসুন কুফা অধিপতি, আসন গ্রহন করুন। (জিয়াদ বসবে) আপনার অপেক্ষায় মহারাজ এজিদ বড়ই ব্যাস্ততায় দিন অতিপাত করিতেছেন। আপনি এসে আমাদের সকলকেই বড়ই শান্তি দিলেন।
জিয়াদঃ-না এসে কি পারি মহামন্ত্রী আমি হলাম মহারাজ এজিদের অধিন্যাস্ত রাজ্যের রাজা। মহারাজ এজিদ আমার ভাগ্য বিধাতা কিন্তু মন্ত্রীবর .. ...।
মারোয়ানঃ-বলুন.......।
জিয়াদঃ-আমি বুঝিতে পারিনা কেন মহামান্য মহারাজ এই নগন্য জিয়াদকে দরবারে আসিতে আদেশ করিয়াছেন?
মারোয়ানঃ-কি অভিপ্রায়ে যে, তিনি আপনাকে এখানে আহŸান করিয়াছেন তাহা আমারও বলবার ক্ষমতা নেই। তার কথা তিনি নিজেই বলিবেন। ঐ বুঝি তিনি আসিতেছেন। আমি যাই..........। এখানে আপনি ছাড়া আর কাহারো থাকবার অধিকার নেই।
“মারোয়ান প্রস্থান”
জিয়াদঃ-আজ জানিনা আমার কি হইবে, আমি যে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
৪। এজিদের প্রবেশঃ-এজিদ ভাই জিয়াদ .......।
জিয়াদঃ- ঐ ........ঐ বুঝি তিনি আসছেন। (করজোরে)
এজিদঃ-আমার সংলাপ হলো না। পূরণ দিনের পর রাতের পর রাত সুয্যের পর সূর্য্য অতিবাহিত হযে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো আমার চির শত্রæ হুসেনের খন্ডিত মস্তক দামেস্ক নগরে এসে পৌছিলো না। এর কারণ কি? এর কি কোন প্রতিকার করা যাবে না ভাই জিয়াদ?
জিয়াদঃ- (করজোরে) মহামান্য মহারাজ আমার অপরাধ নিবেন না, আমি এখন পর্যন্ত আপনার উদ্দেশ্য বুঝে উঠতে পারিনি।
এজিদঃ-আপনি বুঝতে পারেননি? তবে শুনুন, হাসান-হুসেন আমার চির শত্রæ কেন তা জানেন? শুধু বিবি জয়নব। তার ভুবন ভুলানো রুপে আমি মুগ্ধ। তাকে পাবার আশায় আমি কৌশলে তার স্বামী আঃ জাব্বার কে তালাক দিতে বাধ্য করি বিবি জয়নবকে। কিন্তু কি বলিব, আমার সেই চির আকাংখিত মহামুল্য রতœটিকে আমার হাত হতে ছিনিয়ে নিল আলীর পুত্র হাসান। তবে হ্যাঁ আমি তার সমুচিত শাস্তি দিয়েছি। জয়নব চুরির শাস্তি দিয়েছি। তাকে ময়মনার সাহায্যে বিষ দিয়ে। হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। এখন ২ পথের কাটা হুসেন। তাকে সরাতে হবে এই পৃথীবি হতে। নতুবা জয়নব শুধু স্বপ্ন হয়ে থাকবে।
জিয়াদঃ-তাকে কিভাবে এই ধরা হতে মুছে ফেলবেন মহারাজ?
এজিদঃ-ছলে, বলে, কলে, কৌশলে। যেভাবেই হোক না কেন, তাকে মদিনা হতে বাহির করতেই হবে।
জিয়াদঃ-মহামান্য মহারাজ আমার অপরাধ নিবেন না। মদিনাতে হুসেনকে বধ করার শক্তি কি .. .......।
এজিদঃ-মহারাজ এজিদের নেই তাই বলছেন না রাজা জিয়াদ। হুসেন যদি মোহাম্মদ এর রওজায় থাকেন তবে পৃথিবীতে আমি কেন আমার মত শত শহশ্র এজিদ ও হুসেন কে বধ করিতে পারিবে না। তাই বলছি ভাই জিয়াদ, হুসেন কে মদিনা হতে বাহির করতেই হবে। আর তা শুধু একজন লোকের দ্বারা সম্ভব হবে।
জিয়াদঃ-কে সেই লোকটি?
এজিদঃ-কেন সেই লোকটি তো আপনি।
জিয়াদঃ-আমি ........? আমি ........?
এজিদঃ-হ্যাঁ হ্যাঁ .......। আপনাকেই এই কার্য্য করিতে হইবে।
জিয়াদঃ-কিন্তু
এজিদঃ-কোন কিন্তু নেই।
জিয়াদঃ-মহামান্য মহরাজা, হুসেনের সঙ্গে যে আমার অত্যান্ত ভালবাসা ।
এজিদঃ-সেই জন্যই তো আপনাকে দামেস্কের রাজ দরবারে ডেকে পাঠাইয়াছি।
জিয়াদঃ-এই কর্ম করিলে আমার কি লাভ হইবে?
এজিদঃ-লাভ ....... হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ কি লাভ হবে? আশার অতিরিক্ত ফল পাবেন। নগদ তিন লক্ষ টাকা পুরুস্কার আর আজ হতে কুফা রাজ্য স্বাধীনভাবে আপনার অধিকৃত হবে। দামেস্ক রাজ আর কখনো আপনার নিকট কর চাবেন না। অধিন রাজ্য বলিয়া মনে করিবে না। মৃত্র রাজ্য বলিয়া আক্ষা পাইবেন। সেই মৃত্রতা ভাব জগতে চন্দ্র সূর্য্য থাকা পর্যন্ত সমভাবেই থাকিবে।
জিয়াদঃ-জয় মহারাজের জয় হোক। আজ হতে জিয়াদ মহারাজের কার্যে আত্মনিয়োগ করিল।
এজিদঃ-এই কে আসিছ।
৫। “কাসেদের প্রবেশ”
কাসেদঃ-আদেশ করুন মহারাজ।
এজিদঃ-আমার বন্ধু রাজা জিয়াদকে ধনভান্ডার খনিতে নিয়া যাও এবং কোষাধক্ষকে বল নগদ তিন লক্ষ টাকা এবং উপযুক্ত পুরুস্কারসহ সহসম্মানে যেন তাকে বিদায় করা হয়।
জিয়াদঃ-জয় মহারাজ এজিদের জয় .......(অভিনন্দন করে)
এজিদঃ-বিবি জয়নব বিবাহ প্রস্তাবে তুমি এজিদকে অপমান করিছিলে সেই অপমানের কথা আজও আমার হৃদয়ে সুতিক্ষ তিরের মত বিদ্য হয়ে হৃদয় বিদিরন্ন করে দিচ্ছে। আমি এর প্রতিশোধ নিব। অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশোধ নিব। আর তোমাকে আমার বাম পার্শ্বে বসাইয়া চির স্বাদ মিটাইবো। হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ তুমি আর কোথায় লুকাইবে। জলে স্থলে অন্তরিক্ষে মহাসুদ্রের অতল তলে? তুমি যেখানে লুকাও না কেন সেখান থেকে তোমাকে খুজে বের করে এজিদের রানী করবো। হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। এতে যদি শত সহশ্র নারীর বংশ ধ্বংশ করতে হয় তাও করবো। জগৎ এ অক্ষয় কৃতিত্ব স্থাপন করবো।
৬। বিবেকের প্রবেশ ও গানঃ-
আরে অ----অ----- এজিদ অমন কথা মুখে এনো না-২
অমন কথা মুখে আনলে যাইতে হবে নরকেতে-২
একবার ভেবে দেখনা-----ঐ
ইমাম বংশ করলে ধ্বংশ ও তোর নিজের বংশ হবে ধ্বংশ ----১-----২----৩-----৪।
তুমি যেনেও জানো না------ঐ
এজিদঃ-দুর হয়ে বনের পাগল।
“বিবেকের প্রস্থান”
জগতে আমি সুখ চাই। চাই সুখ চাই-আমোদ-প্রমোদ। হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ
“বেগে প্রস্থান এজিদ”



শেয়ার করুন