শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

যাত্রাঃ শহীদ কারবালা মহরম পর্ব ১ম অংক ২য় দৃশ্য- -পর্ব-03

১ম অংক ২য় দৃশ্য
স্থান কুফার রাজ দরবার
(চিন্তিতভাবে জিয়াদ আসনে উপবিষ্ট) ৭। “জিয়াদের প্রবেশ”
জিয়াদঃ-না না না ভাববার কি আছে? কিসের এতো ভাবনা? কিসের বন্ধু? কিসের ভালবাসা, অমন ভালবাসায় লাভ কি? তার চেয়ে বরং মহারাজ এজিদের আদেশ পালন করাই হবে উত্তম। আমি হবো স্বাধীন রাজা, কুফা রাজ্য আমার একছত্র দখলে। আমি কতো সুখি, মহাসুখি হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। আমার থাকবে নিজস্ব শৈন্য সামন্ত হাতি ঘোড়া লোক লস্কর আমলা সামন্ত কুফাবাসী আমাকে করিবে অভিবাদন। আমার আঙ্গুলী হেলনে কত লোক উঠবে বসবে, আমি রাজা তার পরে মহারাজা হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। কিন্তু কি করে হুসেনকে মদিনা থেকে বাহির করি? কি করে -----পেয়েছি ------পেয়েছি ------ হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। এই কে আসিতেছে।
৮। “কাসেদের প্রবেশ”
কাসেদঃ-আমাকে কেন স্বরন করছেন জাহাপনা
জিয়াদঃ-যাও শিঘ্রই মন্ত্রীবরকে দরবারে পাঠিয়ে দাও গিয়ে।
“কাসেদ প্রস্থান”
৯। “জিয়াদের মন্ত্রীর প্রবেশ”
মন্ত্রীঃ-বাদশা নামাদার আপনি কেন এতো ব্যাস্ত হয়েছেন আর আপনার মুখের ভাবিবা কেন এতো আনন্দ উজ্জল দেখা যাচ্ছে?
জিয়াদঃ-এমন সু-স্বপ্ন দেখে কে না আনন্দিত হয় মন্ত্রীবর? কার ভাগ্যে এমন ঘটিয়া থাকে?
মন্ত্রীঃ-আসল কথাটা খুলে বললে সব কৌতুহল মিটে যেত জাহাপনা।
জিয়াদঃ-তাহলে শুনুন মন্ত্রীবর, গত রাত্রে আমি হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখিয়াছি। হস্তে কৃষ্ণ বর্ণ আশাশীরে শুব্র বর্ণ পাগরী অঙ্গে পরিস্কার শুব্র বশন। আমি স্বপ্ন যোগে পবিত্র পদ চুম্বন করিয়া করজোরে দারাইয়া রইলাম। প্রভু দুঃখিত স্বরে বলিলেন হুসেন ভাত্রিহীন হইয়া আমার রওজায় পরিয়া নিঃস্বহায় রুপে কন্দন করিতেছে। তুমি তাহার পক্ষ অবলম্বন করো। সৈন্য সামন্তে ধনজন দ্বারা তাহার উপকার করো। এই কথা বলিয়াই পবিত্র মুত্রি অন্তহীত হইলেন। আমার নিদ্রা ভাঙ্গিয়া গেল। আমার মনে যে, স্বর্গিয় আনন্দ ও মুক্তি ভাব উদয় হইয়াছে। তাহা আমি প্রকাশ করিতে পারিতেছি না। তাই আমি হুসেনের প্রতি আত্মসমর্পন করিলাম। আজ হতে এই সিংহাসন হুসেনের নামে উৎস্বর্গ করিলাম। আমরা সকলে হুসেনের আজ্ঞাবহ দাস হইয়া রইলাম।
মন্ত্রীঃ-এমন সাহসী ধর্ম পরায়ন সরল হৃদয় ধার্মিক জগতে হয়না আর হবেও না।
জিয়াদঃ-মন্ত্রীবর------।
মন্ত্রীঃ-আদেশ করুন জাহাপনা।
জিয়াদঃ-অদ্যই আমার এই স্বপ্ন বিবরণ এবং রাজ্য ত্যাগের সংবাদ সমস্ত কুফা নগরে ঘোষনা করে দিন এবং হুসেনের নিকট কাসেদ প্রেরণ করুন। যতদিন ইমাম হুসেন সিংহাসনে না বসবে ততদিন আপনি এ রাজ্য পরিচালনা করিবেন। আমার সাথে রাজ্যের কোন সংশ্রব রইলো না।
মন্ত্রীঃ-জাহাপনা, এমন পূর্ন কার্য এই পর্যন্ত কেহ কোন দেশেই করেন নাই। যিনি ইহকালের পর পরকালের রাজা প্রাণ দিয়ে তাহার সেবা করা সকল মুসমানেরি কর্তব্য আজ হতে জীবন ধন সমস্তই হুসেনের নামে উৎস্বর্গ করলাম। আমি আপনার আজ্ঞা অভিমতে অদ্যই মদিনায় কাসেদ প্রেরণ করছি। ধন্য, ধন্য কুফাধিপতি আবদুল্লাহ জিয়াদ।
“মন্ত্রী প্রস্থান”
জিয়াদঃ- হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ। কে কে বুঝিতে পারিবে আমার মনের কথা। কেউনা কেউনা হাঁঃ হাঁঃ হাঁঃ
“বেগে প্রস্থান”
১০। “হোসনের প্রবেশ ”
হোসেন ঃ- হে খোদা, সর্ব শক্তিমান জগৎনিদান প্রভু। তোমার নিলা বুঝিবার কারও সাধ্য নাই আমি আজ বহুদিন যাবৎ মদিনা হতে কুফানগরে যাবার বাসনা মনে মনে পোষন করিতেছি , আমার বাসনা বুঝি  পূর্ন হবে। লোকের মুখে শুনিতেছি আব্দুল্লাহ জিয়াদ আমাকে রাজ্য দান করিয়াছেন। এবং সমুদ্বয় সাহায্য দানে প্রতিজ্ঞা ও করিয়াছেন। খোদা তালাকে ধন্যবাদ । আমি কুফায় যাব। কিন্তু জিয়াদের চুড়ান্ত সংবাদ না পাইলে তো গমন করিতে পারিনা।
১১। “কাসেদের প্রবেশ”
কাসেদঃ-আমার সালাম গ্রহন করুন হযরত। আমি কুফা হতে আসিয়াছি।
হুসেনঃ-ভাই কাসেদ আপনি কি বলতে পারেন সেই কুফা নগরের জিয়াদের সংবাদ ২
কাসেদঃ-কুফা অধিপতি কুশলেই আছেন। এই নিন তার একখানা পত্র। (পত্রদান)
“কাসেদ প্রস্থাদ”
“হুসেন পত্র পাঠ”
হুসেনঃ-শুনন হযরত ইমাম হুসেন আমি স্বপ্নে দেখিয়াছি এজিদ বাদশা নামাদার আপনার উপর অত্যাচার করিয়াছেন, আমি আরও দেখিয়াছি যে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আমাকে বললেন হুসেন কে তোমার কুফা নগরে নিয়ে আসো। সেইজন্য রাজ সিংহাসন আপনার নামে উৎস্বর্গ করিয়া দিয়াছি। এখন আপনি নিশ্চিন্তে কুফা নগরে চলে আসুন। ইতি জিয়াদ।
১২। “২জন সৈনিক এর প্রবেশ”
হুসেনঃ-ভাই সকল আপনারা কেন এতো কষ্ট করিতেছেন? যদি কুফার অন্ন জল ক্ষুদা আমার অদৃষ্টে লিখে থাকেন। তবে আপনারা আমার কৃত দোষ মার্জনা করিবেন। সময়ে আমি আপনাদের প্রত্যেকের নিকট হইতে বিদায় গ্রহন করিব।
সৈনিকঃ-ইশ্বরের নিয়োজিত কার্য অনিভার্য। এই কথা কে না স্বীকার করিবে? কিন্তু আবদুল্লাহ জিয়াদ হঠাৎ এতো বড় রাজ্য আপনাকে দান করিয়া দিল ইহার কারণ কি? আমার মনে হয় আবদুল্লা জিয়াদ কোন রুপ চক্রান্ত করিয়াছে। মহামান্য হযরত ইহাতে আমার কোন সন্দেহ নাই।
হুসেনঃ-এমন কথা মুখেও আনিবেন না। আবদুল্লাহ জিয়াদ এর ন্যায় আমার প্রকৃত বন্ধু মদিনা ব্যতিত আর কোন স্থানেই নাই। তিনি আমার জন্য এজিদের মুন্ডপাত করিতেও দ্বিধাবোধ করিবেন না। জিয়াদ এর বাক্যে ও কার্যে আমার কিছু মাত্র সন্দেহ নাই।
সৈনিকঃ-তা অবশ্য নাও হতে পারে, কিন্তু মানুষের মনের গতি কোন সময় যে কি হয় তা যার মন সেও বলতে পারে না। তাই একটু চিন্তা ভাবনা করিয়া কাজ করায় ক্ষতি কি?
হুসেনঃ-ভাই সৈনিক আমি এখন দিশে হারা তাই আপনি আমাকে উপদেশ দিন ভাই।
সৈনিকঃ-আমার বিবেচনায় অগ্রেএকজন সাহসী ও বিশ্বাসী লোককে কুফা নগরে প্রেরণ করুন। যদি আবদুল্লাহ জিয়াদ চক্রান্ত করিয়া থাকে তবে অবশ্যই প্রকাশ হইবে। আর যদি তার রাজ্যদান সংকল্প যথাযথই হয় তবে আপনার কুফাগমনে বাধা দিব না। একটু সন্ধান করলেই সকলই জানা যাইবে।
হুসেনঃ-এ কথা মন্দ নয়। তবে অনর্থক সময় নষ্ট। যাহা হোক আপনার কথা আমি লঙ্ঘন করিব না। তাহলে অগ্রে কুফায় পাঠাইতে কাহাকে মনস্থ করিয়াছেন? এমন সাহসী ও বিশ্বাসী পাত্র কে আছে?
১৩। “মুসলেম এর প্রবেশ”
মুসলেমঃ-আমার সালাম গ্রহন করুন হযরত। ইমাম এর যদি অনুমোতি হয় তবে এই দাসই কুফা নগরে যাইতে প্রস্তুত আছে। আপনি কিছু দিন অপেক্ষা করুন। যদি আবদুল্লা জিয়াদ সরলভাবে রাজ্য দান করিয়া থাকে। তবে মুসলেম আনন্দের সহিত শুভ সংবাদ নিয়া ফিরিয়া আসিবে। আর যদি ইহার মধ্যে ষড়যন্ত্র করিয়া থাকে তবে জানিবেন মুসলেম এর এই শেষ বিদায়। প্রাণের মায়া সংসার স্ত্রী পুত্রের মায়া বিসর্জন করিয়া মুসলেম আজ আপনার কার্যে জীবন উৎস্বর্গ করিয়া দিল। এই মুহুর্তেই আমি কুফায় যাত্রা করিব। দেন পদধুলি, করেন আর্শিবাদ আমি যেন আনন্দের সহিত শুভ সংবাদ নিয়া ফিরিয়া আসিতে পারি।
হুসেনঃ-যাও যাও মুসলেম আমি তোমাকে খোদার নামে সপিলাম।

“আগে মুসলেম পরে সকলের প্রস্থান”



শেয়ার করুন