শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

নাটকঃ নাস্তিক প্রফেসর

নাটক ঃ নাস্তিক প্রফেসর
১ নং দৃশ্য
স্থান ঃ স্কুল
সময়ঃ দিন
আর্টিষ্টঃ (প্রফেসর, কয়েকজন ছাত্র)
ড্রেস ঃ প্রফেসার স্মার্ট ড্রেস (আর ছাত্র স্কুল ড্রেস সাদা )

সকল ছাত্ররা ক্লাসে বসে আছে এবং গল্প গুজব করছে হঠাৎ প্রফেসরের প্রবশ এবং সকল ছাত্র চুপচাপ হয়ে গেল।

প্রফেসর ঃ-    (নাস্তিক প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেই তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন) "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কি সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন?"
ছাত্রঃ-    (একজন ছাত্র বেশ আতœবিশ্বাসের সাথেই উত্তর দিলো) জ্বী স্যার। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন।
প্রফেসর ঃ-    "তাই নাকি! (ছাত্র টির উত্তর শুনে মুচকি হাসেন প্রফেসর)। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই সবকিছু তৈরি করেছেন? তুমি ভেবে বলছো?"
ছাত্রঃ-    (ছাত্র টি আগের মত আতœবিশ্বাসের সাথে হ্যা বোধক উত্তর দিল) হ্যা
প্রফেসর ঃ-    (প্রফেসর আবারও প্রশ্ন করেন,) "সৃষ্টিকর্তাই যদি সবকিছু তৈরি করে থাকেন তাহলে উনি তো খারাপ কেও সৃষ্টি করেছেন। তোমার উত্তর অনুযাযয়ী যেহেতু খারাপের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা কি সেটা আমাদের কাজের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই খারাপ। কারন আমাদের ভাল-মন্দ সব গুণ উনি তৈরি করেছেন।"

প্রফেসরের এমন কথা শুনে সব ছাত্র চুপ হয়ে গেলো। কেউ কিছু বলছেনা। এবং
ছাত্রদের চুপ হয়ে যাওয়াা দেখে প্রফেসর নিজের উপর বেশ সন্তুষ্ট হলেন।


ছাত্রঃ-    (কিছুক্ষণ পর আরেকজন ছাত্র উঠে দাড়াালো) উঠে দাড়াবে।
প্রফেসর ঃ-    (প্রফেসর আমুদে ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করেন)  কিছু বলতে চাও?
ছাত্রঃ-    (ছাত্র টি হাসি মুখে প্রফেসরের কাছে জানতে চায়) "আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি স্যার?"
প্রফেসর ঃ-    অবশ্যই করতে পারো।
ছাত্রঃ-    (প্রফেসর অনুমতি দিতেই ছাত্র টি জিজ্ঞাসা করে)- "স্যার, ঠান্ডা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে কি?"???
প্রফেসর ঃ-    (প্রশ্ন শুনে প্রফেসরের চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে) "কি গাধার মত প্রশ্ন করো! ঠান্ডার অস্তিত্ব থাকবেনা কেন? অবশ্যই ঠান্ডার অস্তিত্ব¡ আছে। তোমার কি কখনো ঠান্ডা লাগেনি?"
ছাত্রঃ-    (এবার ছাত্র টি মুচকি হেসে উত্তর দেয়) সত্যি বলতে কি স্যার, ঠান্ডার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমরা যেটাকে ঠান্ডা বলি, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় সেটা আসলে তাপের অনুপস্থিতি। আমরা এই "ঠান্ডা' শব্দ টিকে জাস্ট কম তাপ কিংবা তাপের অনুপস্থিতি কে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করি।

ছাত্রঃ-    (কিছুক্ষণ পর ছাত্র টি আবারো প্রশ্ন করে), "স্যার অন্ধকার বলে কিছু কি পৃথিবীতে আছে?"
প্রফেসর ঃ-    (প্রফেসর রাগান্বিতভাবে উত্তর দেন), কেন থাকবেনা! অবশ্যই অন্ধকারের অস্তিত্ব আছে।
ছাত্রঃ-    (ছাত্র টি সহাস্যে উত্তর দেয়) আপনার ধারণা ভুল স্যার। অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা আলো কে নিয়ে রিসার্চ করতে পারি, আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ মাপতে পারি, আলোর গতি বের করতে পারি। কিন্তু অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই বলেই আমরা অন্ধকার নিয়ে কোনো কিছুই করতে পারিনা। সামান্য একটা আলোক রশ্নি অন্ধকার দূর করতে যথেষ্ঠ, কিন্তু অন্ধকার কখনো আলো কে গ্রাস করতে পারেনা। কারন অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি।
ছাত্রঃ-    (ছাত্র টি আবারও প্রশ্ন করে বসে বেশ উৎসাহের সহিৎ) "স্যার, এবার বলেন খারাপের কি অস্তিত্ব আছে?"
প্রফেসর ঃ-    (প্রফেসর বেশ ক্রুদ্ধস্বরে উত্তর দেন), অবশ্যই আছে। প্রতিদিন কত মানুষ খুন হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, এগুলো খারাপ না?"
ছাত্রঃ-    (ছাত্র টি বেশ জোরের সাথে উত্তর দেয়) "না স্যার। খারাপের কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা হচ্ছে ভালোর অনুপস্থিতি। এটা সেই ঠান্ডা এবং অন্ধকারের মতই, মানুষের অন্তর সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসার অনুপস্থিতিই এই খারাপ বা মন্দের অবস্থা তৈরি করে।
প্রফেসর ঃ-    এবার প্রফেসর তার ভুল বুঝতে পাওে এবং ছাত্রটিকে বুকিয়ে জড়িয়ে নেয়।





শেয়ার করুন